রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

টেকনাফে মাদক মামলার প্রতিবেদন দাখিলে গড়িমসি : তদন্ত কর্মকর্তাকে শাস্তির নির্দেশ

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার।।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথকে বিভাগীয় শাস্তি প্রদানের আদেশ দিয়েছেন টেকনাফের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
দেড় বছরেও মাদক মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা, আটককৃত ইয়াবা রাসায়নিক পরীক্ষা না করা এবং দায়িত্বে অবহেলা ও তদন্তে অদক্ষতা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় টেকনাফের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এই আদেশ দেন।
মামলার এজাহারের তথ্যমতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের একটি টীম ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের সদর ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের হাবিবছড়া দক্ষিণ ঘাটে নোঙর করা হারুনের মালিকানাধীন ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় জব্দ করা হয় মাছ ধরার ট্রলারটিও। তবে সেসময় কাউকে আটক করতে পারেনি বিশেষ জোনের টীম।
এঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল মোস্তফা ২৬ আগষ্ট টেকনাফ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আসামী করা হয় মাছ ধরার ট্রলার মালিক হারুনসহ একই ওয়ার্ডের ৮ জনকে পলাতক আসামি করা হয়।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে দেয়া হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথকে।
তবে আইন অনুযায়ী মাদক মামলার প্রতিবেদন ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে দাখিল করার বিধান থাকলেও তিনি তা দেড় বছরেও করেননি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিদবেদন দাখিলে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যুৎ বিহারী নাথ চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবারের মত ১৫ কার্য দিবস সময় নেন। ফের তিনি প্রতিবেদন দাখিল না করে ১৫ মার্চ আবারেও ১৫ কার্যদিবস সময় চাইলে আদালত তাও মঞ্জুর করেন। কিন্তু মামলার এক বছর অতিবাহিত হলেও জব্দকৃত আলামত ইয়াবার রাসায়নিক পরীক্ষা এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করে তিনি ২৪ আগস্ট ফের আদালতের কাছে আরও এক মাস কার্যদিবস চেয়ে আবেদন করেন। তবে আদালত তার সেই আর আবেদনটি গ্রহণ না করে নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত কাজ শেষ করতে না পারা কেন চরম অদক্ষতা ও অবহেলা বলে গণ্য হবে না এবং কেন তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চান আদালত।
ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর বিদ্যুৎ বিহারী নাথ।
বিদ্যুৎ বিহারী লিখিত জবাবে উল্লেখ করেছেন, ‘মামলাটি একটি বড় মামলা এবং তৎ কারণে প্রকৃত মালিক ও যোগানদাতা কারা তা উদ্ঘাটনের জন্য আসামি গ্রেফতার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া আগের মামলার সাক্ষ্য প্রদানের জন্য পূর্ববর্তী কর্মস্থলে যাতায়াত, আরও অনেক মামলার তদন্তের কারণে সঠিক সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি।’ তবে আদালতের কাছে মনে হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তার এমন জবাব অগ্রহণযোগ্য এবং অযৌক্তিক।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক ইলাহী শাহাজাহান নূরী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার কারণ দর্শানোর জবাব বিশ্লেষণ করে প্রতীয়মান হয়েছে যে তদন্তকারী কর্মকর্তা ইচ্ছাপূর্বক অসৎ উদ্দেশ্যে আইন কর্তৃক সুনির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেনি, ফলশ্রুতিতে মামলার ন্যায়বিচার পরাহত এবং বিচার বিলম্বিত হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিচার বিশ্লেষণ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিহারী নাথের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তি প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছে আদালত। আদেশের কপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিহারী নাথের
মুঠোফোন একাধিক বার রিং করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ