রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টরদের অনৈতিক কাজে বাঁধা, জোরপূর্বক পদত্যাগ

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টরদের অনৈতিক কাজে বাঁধা, জোরপূর্বক পদত্যাগ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নামটি শুনলেই যেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের চোখে ভেসে উঠে দুর্নীতির নানা চিত্র। এই দেশের পুঁজিবাজারকে, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটের পিছনে দায়ী এই স্টক এক্সচেঞ্জটির অসাধু কর্মকর্তারা। তবে নতুন করে শোনা যাচ্ছে এই এক্সচেঞ্জের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টরদের নাম।

অসাধু কর্মকর্তারা তাদের হয়েই নাকি এতো দিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টরদের এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মন মতো না হওয়ায় জোরপূর্বক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এমডিদের পদত্যাগ করতে হচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দাবি এই ডিরেক্টরদের অনৈতিক কাজে বাঁধা দিলেই টিকতে পারবে না কোন এমডি।

এবিষয়ে বিনিয়োগকারী নেতা পারভেজ আলী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তিদের মদদে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট আজ পুঁজিবাজারকে কুঁড়ে কুঁড়ে শেষ করে দিচ্ছে। এদের কারণে সরকারও আজ বিব্রত, সরকারও যেন জিম্মি ।

তিনি আরও বলেন দুর্নীতিরও সীমা থাকা উচিত, এদের দুর্নীতি করতে করতে আজ যেন নেশায় পরিণত হয়েছে। দেশ জাহান্নামে যাক, এদের দুর্নীতি করে অর্থ কামাতে হবেই। পারলে এরা বাংলাদেশের মানচিত্র খেয়ে ফেলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন বিনিয়োগকারী নেতা বলেন – কিছু সুবিধাবাদীদের জন্য আজ দলেরও (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের) বদনাম হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জেরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আমিন ভূঁইয়া মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) রাতে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে ব‌্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালকদের চাপ এবং কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার অসহযোগিতার ফলে তিনি বাধ‌্য হয়ে পদত‌্যাগ করেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ বিভিন্নভাবে তারেক আমিন ভূঁইয়াকে অসহযোগিতা করে আসছিলেন। এছাড়া ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালকদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিলো। ফলে তারেক আমিন ভূঁইয়া যেভাবে চাচ্ছিলেন, সেভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। তাই একপ্রকার বাধ‌্য হয়েই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তারেক আমিন ভূঁইয়া।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, ডিএসইর এমডি যাদেরকে পদোন্নতি দিয়েছেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘ দিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ছিল। ফলে তারা ডিএসই থেকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাচ্ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পক্ষেও ছিলেন। তাই ডিএসইর অধিকাংশ কর্মকর্তা তাকে বেশ পচ্ছন্দ করতেন। তবে পদোন্নতি ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন না ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালকরা। এ জন‌্য ডিএসইর পর্ষদের একাংশ তারা কর্মে অসন্তুষ্ট ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো কর্মকর্তা যদি বিনিয়োগকারী ও ডিএসইর কর্মীদের স্বার্থে এক শতাংশ কথা বলেন, তবে তিনি ডিএসইতে টিকতে পারবেন না। এতে করে যোগ্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এখানে থাকতে চাচ্ছেন না। ডিএসইতে কাজের কোনো সন্মান নেই। আইটি সেক্টরের দুর্নীতি রোধে ডিএসইর এমডির নেওয়া কিছু পদক্ষেপের কারণে অখুশি ছিলেন স্বতন্ত্র পরিচালকরা। এতে করে শেয়ার লেনদেনের গোপন খবর তাদের কাছে প্রকাশ করতে পারছিলেন না অসাধু কর্মকর্তারা। ফলে এমডির প্রতি ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালকদের ক্ষোভ রয়েছে।

এর আগে গত ২২ আগস্ট (সোমবার) ডিএসই থেকে ১২৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে জিএম থেকে সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে ২ জন, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) থেকে জিএম পদে ৩ জন, অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) থেকে ডিজিএম পদে ৩ জন, সিনিয়র ম্যানেজার থেকে এজিএম পদে ১৯ জন, ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার পদে ১৫ জন, ডেপুটি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজার পদে ২৯ জন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার পদে ২৯ জন ও এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার পদে ১০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এছাড়া জুনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে এক্সিকিউটিভ পদে ৬ জন, সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে ১ জন, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ২ জন, জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ১ জন ও জিএসএস থেকে জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

এদিকে ডিএসইর এমডি তারিক আমিন ভূঁইয়ার পদত্যাগের খবরে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) জরুরি সভা ডেকেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। বৈঠকে ডিএসইর এমডির পদত‌্যাগর বিষয়ে আলোচনা করা হবে। বৈঠক শেষে বিনিয়োগকারীদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে ডিএসইর এমডির পদত‌্যাগর সঠিক কারণ তদন্ত এবং এমডিকে পুনবহাল রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার দাবি জানানো হতে পারে। নয়তো ডিএসইর এমডি তারিক আমিন ভূঁইয়ার পদত্যাগের প্রতিবাদে রাজপথে নামবে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

গত বছরের ২৫ জুলাই ডিএসইর এমডি পদে তিন বছরের জন‌্য যোগদান করেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তারিক আমিন ভুঁইয়া। যোগদানের পর থেকে তিনি ডিএসইতে ‘ফাইভ পি’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের লক্ষ‌্যে কাজ শুরু করেন। এই ‘ফাইভ পি’ ফর্মুলার মধ্যে রয়েছে- পিপলস, প্রোডাক্ট, প্ল‌্যাটফরম, প্রসেস এবং পলিসি। এছাড়া ডিএসইতে ডাটা সেন্টার, সিসিএ ওয়ালেট, ব্লক চেইন টেকনোলজি, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), অল্টারনেটিভ ট্রেডিং ফান্ড (এটিবি), রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি), এনভারমেন্ট সোসাল গভার্নেন্স (ইএসজি), ইম্পেক্ট ফান্ড, স্ট্যাটআপ কোম্পানির জন্য নতুন বোর্ড চালুর কাজ শুরু করে তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ