বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

পদ্মা সেতু হয়ে ৪ ঘণ্টায় ঢাকা আসছে ঝালকাঠির পেয়ারা

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২

পদ্মা সেতু হয়ে ৪ ঘণ্টায় ঢাকা আসছে ঝালকাঠির পেয়ারা।

কাজী আনিসঃ

পদ্মা সেতু হয়ে ট্রাকে করে চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে ঝালকাঠির পেয়ারা। কম সময়ে ঢাকার বাজারে পেয়ারা সরবরাহ করতে পেরে খুশি পাইকাররা। আবার চাষিরাও ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন পেয়ারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলা, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ও বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার ৫৫ গ্রাম নিয়ে গড়ে উঠেছে মিষ্টি পেয়ারা রাজ্য। প্রতিবছর আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস এলেই পেয়ারার কারণে পাল্টে যায় এসব অঞ্চলের চিত্র। পেয়ারা বেচাকেনার জন্য ওইসব এলাকার খালে রয়েছে ভাসমান বাজারও। প্রতিদিন কয়েকশ নৌকায় চাষিরা পেয়ারা বিক্রি করতে আসেন। ট্রাক ও বড় বড় ট্রলার নিয়ে আসেন পাইকাররা। আবার পর্যটকরাও কিনে নেন এখানকার পেয়ারা।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় আরিচা ফেরিঘাটের বিড়ম্বনা না থাকায় পাইকার ও পর্যটকদের আগমন প্রতিবছরের চেয়ে এ বছর বেশি। ফলে এ অঞ্চলের শুধু পেয়ারাই নয়, অন্য কৃষি পণ্যও ঢাকাসহ সারাদেশে অল্প সময়ে সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।

ঝালকাঠির শহর থেকে কীর্তিপাশা হয়ে সরু সড়ক ধরে এগিয়ে গেলেই বিখ্যাত ভীমরুলী বাজার। খালের পাড় ঘেঁষে বিখ্যাত ভাসমান বাজারে যেতে যেতে চোখ প্রশান্ত করবে চিরায়ত গ্রাম-বাংলার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য। যদিও এক সময়ের মেঠোপথ এখন পিচঢালা পাকা সড়ক। ঝালকাঠি শহর থেকেই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা ও লেগুনাযোগে মাত্র ৩০ মিনিটেই পৌঁছা যায় ওই বাজারে।
প্রাকৃতিক অপূর্ব দৃশ্য ও ভাসমান বাজার উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণ পিপাসুরাও। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বিদেশি পর্যটকরাও আসেন উপভোগ করতে।

এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভাসমান হাট সদর উপজেলার ভীমরুলীতে। যা সারা দেশেই অনন্য। এছাড়া পাশের পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির (নেছারাবাদ) আটঘর, কুড়িয়ানা, আতা, ঝালকাঠির মাদ্রা। এসবই পিরোজপুর সন্ধ্যা নদী ও ঝালকাঠির বিষখালি নদী থেকে বয়ে আসা একই খাল পাড়ে অবস্থিত। এখানকার আঁকাবাঁকা খালের দুপাড়ে হাজার হাজার একর জমিতে রয়েছে পেয়ারা বাগান।

ভীমরুলী এলাকার পেয়ারা চাষি গৌতম মিস্ত্রি বলেন, ‘আমরা কয়েক পুরুষ পেয়ারা চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করি। প্রতিবছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখন আমরাও পেয়ার ন্যায্য দাম পাচ্ছি। আগে পাইকারদের দ্বারে দ্বারে ভালো দামের আশায় ঘুরতে হতো। আর এখন পাইকাররাই আগ্রহী হয়ে আমাদের ডেকে পেয়ারা কিনছেন।

৬০-৭০ দশক থেকে ঢাকায় পেয়ারা পাঠানো হতো লঞ্চে। আশির দশকে ঝালকাঠি থেকে স্টিমারে তুলে দেওয়া হতো পেয়ারা। নব্বই দশকে বানারীপাড়ার জম্বুদ্বীপ থেকে প্রতিদিন দু-চারটি পিকআপে ঢাকায় পেয়ারা পাঠানো শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালে ট্রাক এবং ২০১৯ সাল থেকে বড় ট্রাকের ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে ভোগান্তি ছাড়াই পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় পৌছে যাচ্ছে পেয়ারা সহ অন্যান্য ফল ও পণ্য।

এখানকার আড়তদারদের মতে, লঞ্চ-ট্রাক যে পথেই পাঠানো হোক, ঢাকার ভোক্তাদের কাছে পেয়ারা পৌঁছাতো একদিন পর। দ্রুত পচনশীল পণ্য হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে পেয়ারার রং-স্বাদ নষ্ট হতো। পেকে পচে যেত অর্ধেক পেয়ারা। এতে চাষিরা ন্যায্যদাম পেতেন না। পদ্মা সেতুর কল্যাণে এখন সকালে গাছ থেকে সংগৃহীত পেয়ারা দুপুরের আগেই পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকায়। এতে রং-স্বাদ দুটিই থাকছে অটুট।

চাষিরা প্রতি কেজি পেয়ারার দাম পাচ্ছে ১৮-২০ টাকা দরে। খুচরা ক্রেতাদের কাছে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে সেটা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ফলটির বাজারজাত সহজ হওয়ায় কৃষক ও আড়তদার দুপক্ষই লাভবান হচ্ছে। তিন থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে পেয়ারা সরবরাহ করা হচ্ছে।

বর্তমানে ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, গাভারামচন্দ্রপুর, নবগ্রাম, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় এখন কয়েক হাজার একর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ বাংলাদেশ প্রতিবেদন কে বলেন, উপজেলার ১২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। এ বছর প্রতি হেক্টরে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ১০ টন। চাষিরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর কারণে সরাসরি ঢাকায় পেয়ারা যাওয়ায় এবার দাম বেশি পাচ্ছেন। এ বছর ১৫ থেকে ২০ দিন দেরিতে ফলন ধরায় পেয়ারার ভরা মৌসুম এখন চলছে।

 

এছাড়াও কৃষক ও স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা বলেন, ঝালকাঠির ব্রান্ড পণ্য পেয়ারা,আমড়া,গামছা,নারিকেল ও শীতলপাটি দ্রুত সরবরাহের জন্য এতদিনের স্বপ্ন পূরণের দ্বার উন্মোচন হয়েছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। কারণ বিশ্বের সব পর্যটক ও ব্যবসায়ীগন এখন সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে ঝালকাঠি এসে পেয়ারা রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। সরাসরি ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজন মত কিনে নিতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ