মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

এতিমের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে হৃদয় কোমল হয়

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
এতিমের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে হৃদয় কোমল হয়

এতিমের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে হৃদয় কোমল হয়

মো. মিকাইল আহমেদ, লেখক ও গবেষক: ওরা এতিম, অসহায়। ওদের কারো বাবা-মা কেউই নেই। কেউ পরিত্যক্ত অবস্থায়, কেউ রাস্তাঘাটে অবহেলিত দিনাতিপাত করছে। একরকম উপেক্ষিত জীবন ওদের। জীবনের কষাঘাতে জর্জরিত,
বঞ্চনা, লাঞ্চনা, দুঃখ-কষ্ট দেখার, চাহিদাগুলো শোনার কেউ ছিল না ওদের। সহায়সম্বলহীন এসব
এতিম শিশুদের ধরে নিয়ে যায় কেউ কেউ। কাজের বিনিময়ে খাদ্য দেবার লোভ দেখিয়ে, বড় হলে পয়সা
দেবে- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে কখনো কখনো শিশু শ্রমে বাধ্য করা হয় ওদেরকে। ছোট্ট ওই শিশুদের কষ্ট
দেখে যে কারো অন্তর কেঁদে ওঠবে। একথা সবাই জানি, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)
পিতৃহীন অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে তার মা জননী দুনিয়া ছেড়ে চলে যান। তিনি
বেড়ে ওঠেন তার দাদা ও চাচার অভিভাবকত্ব, ভরণপোষণ ও তত্ত্বাবধানে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা
কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘তিনি কি আপনাকে এতিমরূপে পাননি? অতঃপর দিয়েছেন আশ্রয়।’ (সুরা
দোহা, আয়াত : ৬)

এতিমের প্রসঙ্গে এক তুর্কি দম্পতির ঘটনা উল্লেখ করা যাক:
স্বামী-স্ত্রী মিলে নানা চিকিৎসাসেবা নিয়েও মা-বাবা হতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী সন্তান ধারণে
অক্ষমই রয়ে গেলেন। তাহলে কী হবে, নিজেরা সন্তান জন্ম দিতে পারেননি-এজন্য কি তাদের বাবা-মা
হওয়ার ইচ্ছে অপূর্ণই থেকে যাবে? এমনটি বিশ্বাস করেননি ফাতিমা ও ওসমান নামে এক তুর্কি দম্পতি।
তারা বরং ভিন্ন উপায়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের অন্তত ৯০ জন এতিম শিশুর ‘মা-বাবা’ হয়েছেন। তিনি
বলেন, আল্লাহ আমাদের দাম্পত্য জীবনে সন্তান দান করেননি, কিন্তু বিশ্বব্যাপী ৯০ জন এতিম সন্তান
দান করেছেন। সন্তান না হওয়ায় এখন আমার আর দুঃখ হয় না। কারণ, আমি ৯০ শিশুর ‘মা’। শিশুদের
দেখাশুনায় স্বামী ওসমানের সাথে আরো এক আত্মীয় ফাতিমাকে সহযোগিতা করেন। আল্লাহর কাছে
তার প্রার্থনা, তিনি যেন তাকে এই পথে আজীবন সেবা করার সুযোগ দান করেন। [সূত্র: আনাদোলু
এজেন্সি]

কত গল্পই তো শুনলেন জীবনে। এরচেয়ে হৃদয় ছোঁয়া অার কি হতে পারে? অাল্লাহর পরিকল্পনা কতই
না উত্তম। ওই তুর্কি দম্পতি এখন ৯০ এতিম সন্তানের মা-বাবা। কতই না সুন্দর তাদের মনমানসিকতা।
এতিম, অসহায় শিশুরা পেলো একটু মাথা গোজার ঠাঁই। অামাদের দেশেও কতশত নি:সন্তান দম্পতি
রয়েছেন যারা একটি সন্তানের জন্য দিন-রজনী কান্নাকাটি করছেন। সন্তান না হওয়ায় স্বামী -স্ত্রী একে
অপরকে দোষারূপ করতেও শুনা যায়। একটু ভিন্ন চিন্তা অাপনাদের কলিজায় এনে দিতে পারে
অনাবিল প্রশান্তি। এতিম শিশুরা পেতে পারে একটু মায়া-মমতা, ভালোবাসা, মাথা গোজার ঠাঁই।

শান্তির ধর্ম ইসলামে এতিম প্রতিপালনের অভাবনীয় মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। যেমন, রাসুল (সা.)
ইরশাদ করেন, ‘আমি ও এতিম প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব’ বলে তিনি তার তর্জনী ও মধ্যমা
অঙ্গুলি দিয়ে ইঙ্গিত করেন এবং এ দুটির মধ্যে একটু ফাঁক করেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩০৪)

এতিমের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে অন্তর কোমল হয়। অন্তরের কঠোরতা দূর হয়। আত্মার প্রশান্তি লাভ
হয়। আত্মার প্রশান্তি লাভে জীবনের অশান্তি দূর হয়। অাল্লাহর রহমত লাভ হয়। আবু হুরায়রা (রা.)
থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে তার কঠিন হৃদয়ের ব্যাপারে
অভিযোগ করলে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও (ভালোবাসা ও সহমর্মিতায়
কাছে টেনে নাও) এবং অভাবীকে আহার দাও।’ (মুসনাদ আহমদ)

শুধু তাই নয়, এতিমের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে অসংখ্য নেকি লাভ হয়। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে
ব্যক্তি প্রেম-মমতায় কোনো এতিমের মাথায় হাত রাখবে, আল্লাহতায়ালা তাকে তার হাতের নিচের চুল
পরিমাণ পুণ্য তাকে দান করবেন।’ (মুসনাদ আহমদ)

এতিমের সঙ্গে আচরণ কেমন হবে সেটাও বলে গেছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কোটি
টাকার ফ্ল্যাট নয়, বিলাস বহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নয়, নয় কোন চার স্তরের নিরাপত্তা দেয়া রাজ প্রাসাদ।
সর্বোত্তম বাড়ি সেটি যেখানে কোন এতিমের লালন পালন করা হয়। অবাক লাগছে নিশ্চয়ই? অবাক
হবার কিছু নেই। একথা বলেছেন স্বয়ং প্রিয় নবী মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মহানবী (সা.)
ইরশাদ করেন, ‘মুসলিমদের ওই বাড়িই সর্বোত্তম, যে বাড়িতে এতিম আছে এবং তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার
করা হয়। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট ওই বাড়ি, যে বাড়িতে এতিম আছে অথচ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা
হয়…।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬৭৯)

এতিমদের ভালোবাসা, আহার দান করা নেককারদের একটি বিশেষ গুণ। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা
ইরশাদ করেন, ‘আর তারা অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আল্লাহর ভালোবাসায় আহার দান করে।’ (সুরা
ইনসান, হাদিস : ০৮)

ইসলাম সাম্যের ধর্ম। ইসলাম ন্যায় পরায়তার ধর্ম। শুধু মানবকূল নয়, প্রাণীজগতের প্রতি দয়া ও কোমল
আচরণ করাও ইসলামের শিক্ষা। এতিমের অধিকার, এতিমের প্রতি দয়া-অনুগ্রহের মর্যাদা ও পুরস্কারের
কথা পবিত্র কোরআন-হাদিসে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেন, আর
তোমার কাছে তারা জিজ্ঞেস করে, এতিম সংক্রান্ত বিধান। বলে দাও, তাদের কাজ-কর্ম সঠিকভাবে
গুছিয়ে দেওয়া উত্তম। আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সাথে মিশিয়ে নাও, তাহলে মনে করবে তারা
তোমাদের ভাই। বস্তুত: অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ জানেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন,
তাহলে তোমাদের ওপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, মহাপ্রাজ্ঞ।’’
(সুরা আল-বাকারাহ : ২২০)

আল্লাহ তায়ালা এতিমের সম্পদ সংরক্ষণ ও প্রত্যার্পণ সম্পর্কে ইরশাদ করেন, এতিমদেরকে তাদের
সম্পদ বুঝিয়ে দাও। মন্দ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল-বদল করো না। আর তাদের ধন-
সম্পদ নিজেদের ধন-সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটি বড়ই মন্দ কাজ।››
(সুরা আননিসা : ২)

এ মর্মেও আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর এতিমদেরকে যাচাই করবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের
যোগ্য হয়; অতঃপর তাদের মধ্যে ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখতে পেলে তাদের সম্পদ তাদেরকে
ফিরিয়ে দাও। তারা বড় হয়ে যাবে বলে অপচয় করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যে অভাবমুক্ত সে যেন
নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সংযত পরিমাণে ভোগ করে। অতঃপর তোমরা যখন তাদেরকে
তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দিবে তখন সাক্ষী রেখো। আর হিসেব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।›› (সুরা আননিসা :
৬)
আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয়, যাবতীয় পুণ্যকাজ সম্পাদন করেও যদি কেউ এতিমদের প্রতি ভালোবাসা
ও মমতা পোষণ না করে। কিংবা তাদের কষ্ট দেয় বা সাধ্য থাকা সত্ত্বেও দুঃখ মোচনে সচেষ্ট না হয় তবে
সে মহান আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ সৎকর্মশীল হিসেবে গণ্য হতে পারবে না। এতিমের সঙ্গে অন্যায়,
কঠোর আচরণ নিষিদ্ধ এবং এটি জঘন্যতম পাপও বটে। ইসলাম যেভাবে এতিম প্রতিপালন, তার সঙ্গে
উত্তম আচরণ, তার সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, তাকে সঠিকভাবে শিক্ষাদান ও উপযুক্ত বয়সে তার কাছে
সম্পদ প্রত্যর্পণ, সব প্রকার ক্ষতি ব্যতিরেকে সার্বিক কল্যাণকামিতার নির্দেশ দিয়েছে। অনুরূপভাবে
এতিমের সঙ্গে কঠোর ও রূঢ় আচরণ থেকেও কঠিনভাবে বারণ করে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন,
‘সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।’ (সুরা দোহা, আয়াত : ৯)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ