রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

টেপিরবাড়িতে ফরেষ্টারের গোপন নির্দেশে গেজেট দখলে এলাহিকাণ্ড; বাগান মালির পরিচয় নকল

মাহাবুর রহমান, গাজীপুর!!
প্রকাশকালঃ শনিবার, ২১ মে, ২০২২

টেপিরবাড়িতে ফরেষ্টারের গোপন নির্দেশে গেজেট দখলে এলাহিকাণ্ড; বাগান মালির পরিচয় নকল

মাহাবুর রহমান, গাজীপুর : ঢাকা বন বিভাগের অধীনে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা রেঞ্জাধীন টেপিরবাড়ি মৌজায় গেজেটকৃত বনভূমি দখলে চলছে এলাহিকাণ্ড। নির্মিত হচ্ছে বসতবাড়ি, দোকানপার্ট সহ বিভিন্ন স্থাপনা। বিট কর্মকর্তা দখল বন্ধে নিচ্ছেন না প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। রক্ষা করতে পারছেন না গেজেটকৃত বনভূমি। এদিকে বাগান মালি মঞ্জুরুল করিম নকল পরিচয়ে চষে বেড়ান পুড়ো বিট এড়িয়া।

সরেজমিন জানাগেছে , সাতখামাইর বিটের টেপিরবাড়ি মৌজায় ৫৩ নং দাগে ১২০ একরের অধিক সম্পত্তি গেজেটভুক্ত বনভূমি। যার বেশিরভাগ সম্পত্তি পাবলিকের দখলে রয়েছে। আর এই বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণ বা দেখভালের দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে সাতখামাইর বিটের অধিনে। তবে টেপিরবাড়ি মৌজার ছাতির বাজার ও আশপাশের দখল চিত্র দেখে মনে হবে না এখানে গেজেটকৃত বনভূমি রয়েছে।

বিট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কয়েক বছর ব্যবধানে গড়ে তুলা হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ একটি পল্লী। দখল বন্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে বরং দখলে সায় দিচ্ছেন ঢাকা বন বিভাগের গাজীপুরের শ্রীপুর রেঞ্জের অধিনস্থ সাতখামাইর বিটের দায়ীত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা নোয়াব হোসেন শিকদার।

জানাযায়, ঢাকা বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জাধীন সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা নোয়াব হোসেন শিকদার বন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল দপ্তরে কর্মরত প্রধান সহকারী আবুল কালাম আজাদের ভগ্নিপতি। তার আরেক শ্যালক গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের পশ্চিম বিট কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত আছেন। সেই ক্ষমতাবলে এমন দুরসাহসিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন নোয়াব হোসেন শিকদার।
বিট কর্মকর্তা নোয়াব হোসেন শিকদারের প্রশ্রয়ে বাগান মালি মঞ্জুরুল করিমের সহযোগীতায় নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছেন, কামরুল ফকির, সারফিন, শফিক, আল-আমিন ফকির, নাজিম উদ্দিন পাঠান, জামালের মেয়ের জামাই, হারুন, আলাউদ্দিন, আফির উদ্দিন, জজমিয়া সহ প্রায় ৪০-৬০টি স্থাপনার কাজ চলমান রয়েছে। দখল ও স্থাপনা নির্মাণে যেন এক এলাহিকাণ্ড শুরু হয়েছে।

মামলার ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহুসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা নোয়াব হোসেন শিকদারের যোগসাজশে চলছে এসব দখল কাণ্ড। দিনের বেলায় এসে লোকদেখানো ভাংচুর দেখিয়ে অফিসে গিয়ে দেখা করার কথা বলে চলে যান ফরেষ্টার। অফিসে দেখাসাক্ষাৎ শেষে এমারত নির্মাণের গোপন নির্দেশ দেন বলে জানান স্থানীয়রা।

অপর দিকে এই বিটের বাগান মালি মঞ্জুরুল করিম নিজ কর্মস্থল এলাকায় অফিসিয়াল নাম গোপন রেখে মাসুম নামে ভূয়া পরিচয় দিয়ে নিজের আখের গুছানোর অভিযোগ রয়েছে। বিট কর্মকর্তা নোয়াব হোসেন শিকদারের যোগসাজশে সাধারণ মানুষকে মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে নিজেদের পকেট বুঝায়ে ব্যস্ত মঞ্জুরুল করিম বিষয়টি জানান তাদের সাথে সক্ষতা রয়েছে এমনই একজন (ছদ্মনাম)ইসলাম।

তথ্যগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে মঞ্জুরুল করিম উত্তেজিত কন্ঠে এই প্রতিবেদক কে বলেন আপনি আমার অফিসিয়াল নাম (মঞ্জুরুল করিম) কই পাইলেন, আমার এই নাম এখানকার কেউ জানে না, আমার অফিস ছাড়া। কাগজ পত্রে আমার নাম মঞ্জুরুল করিম, এখানকার সবাই আমাকে মাসুম নামেই চিনে এবং জানে। আপনে এই নামটা পাইলেন কই।

এই মালি আরও বলেন, আমরা ছাতির বাজারে গিয়ে ছিলাম কামরুল ফকির, আল-আমিন ফকির, সারফিন , মুক্তি মফির ছেলে শফিক সহ নতুন স্থাপনা নির্মাণে বাঁধা দিয়ে আসছি। টেপিরবাড়ি মৌজায় ৫৩ নং দাগটি গেজেট। ৫৩ নং দাগে পাবলিকের জোত ভূমিও আছে। তবে গেজেট মূলেই আমরা দাবি করি ও বাঁধা দিয়ে থাকি। কিন্তু ২ নং খাস খতিয়ান ভোক্ত না হলে আমাদের বনের জায়গা হবে না।

ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসবকিছু করা হয়। তাদের সাথে কথা না বলে এক কোদাল মাটিও কাটা সম্ভব না। পূর্বে ভূমি রেকর্ড কি সেটা বড়ো কথা নয়, চলমান রেকর্ডে কি আছে সেটাই মূল বিষয়। আর বন বিভাগ চলমান রেকর্ড অনুযায়ী গেজেটকৃত সম্পত্তি তাদের বনভূমি বলে দাবি করেন এবং তদারকিতে রাখছেন বা রাখেন।

সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা নোয়াব হোসেন শিকদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, টেপিরবাড়ি মৌজায় ৫৩নং দাগে আমাদের বনের গেজেট আছে কিন্তু বাগান নেই। যেখানেই বনভূমি দখল হচ্ছে সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো প্রকার লেনদেন হচ্ছে না। এই সব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি কাউকে কোনো প্রকার অনুমতি দিচ্ছি না বরঞ্চ ভেঙ্গে দিচ্ছি সকল নতুন স্থাপনা। আর কিছু আছে সে গুলোর বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জায়গা গুলো আমাদের দখলে নেই। ৪০-৫০ টা না ভেতরে আরও অনেক দখল আছে। অনেকেই পুড়ান স্থাপনা ভেঙ্গে নতুন করে করছে। ভাই অফিসে আইসেন, চা খেয়ে যায়েন।

বাগান মালি মঞ্জুরুল করিম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাকে মাসুম নামে চিনি, এটা তার ডাক নাম। মানুষের ডাক নাম থাকেনা। তবে কাগজ পত্রে নাম মঞ্জুরুল করিম। সে আমাদের সাথে টহলে যায়। সে একা একা কোনোদিকে যায় না।

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়ীত্বে থাকা মীর বজলুর রহমান বলেন, টেপিরবাড়ি মৌজায় ৫৩ নং দাগে বনের গেজেট আছে, বেশিরভাগ আমাদের দখলে নেই। তবে নতুন স্থাপনা সম্পর্কে জানা নেই, থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনে জরিপ হবে তখন দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাগান মালি মঞ্জুরুল করিম এর ডাক নাম মাসুম। তার নাম নিয়ে বির্তক আছে কি না আমার জানা নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ