শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

শিশু আলো হত্যা মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদন্ড কক্সবাজারে : ২ জন খালাস

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ বুধবার, ১১ মে, ২০২২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।। 

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে চাঞ্চল্যকর শিশু মো. আলী উল্লাহ আলো (৭) হত্যা মামলায় ৬ জন আসামীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল বুধবার ১১ মে বিকালে এ রায় প্রদান করেন।
ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন,
মো. সুমন আলী (মো. সুমন হোসেন পলাতক), পিতা-মো. আফতার আলী প্রকাশ আতাব আলী প্রকাশ আকতার, সাং-খোদ নারায়নপুর, থানা- মহাদেব পুর, জেলা-নওগাঁ, মো. ইয়াছিন প্রকাশ রায়হান, পিতা-মৃত শামছুল হক, সাং- নিশ্চিন্তপুর, থানা ও জেলা-ঠাকুরগাঁও, মো. ইয়াকুব, পিতা-মৃত আসলাম মিয়া, সাং-শ্রীপুর, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা, মো. ইছহাক প্রকাশ কালু, পিতা-আলী হোসেন, সাং-গোদারবিল, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার, নজরুল ইসলাম (পলাতক), পিতা-মৃত নবী হোসেন, সাং-মহেশখালিয়া পাড়া, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার ও ছৈয়দুল আমিন প্রকাশ লম্বাইয়া (পলাতক), পিতা-মৃত আবদুর রহিম, সাং-ধুনচি পাড়া, থানা-মংডু, জেলা-আকিয়াব, মিয়ানমার, বর্তমান ঠিকানা-শ্বশুর মৃত আবদু ছাত্তার, সাং-কচুবনিয়া, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার। রায়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া আসামীদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ডও দেওয়া হয়েছে।রায়ে আসামী মুহিবুল্লাহ ও মো. দিদার মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।
দত্তপ্রাপ্ত হাজতী আসামী মো. ইয়াছিন প্রকাশ রায়হান, মোঃ ইছহাক প্রকাশ কালু ও মোঃ ইয়াকুব আদালতে হাজির ছিল।
তাদেরকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামী মোঃ সুমন আলী (মোঃ সুমন হোসেন), মোঃ ইয়াছিন প্রকাশ রায়হান, মোঃ ইয়াকুব, মোঃ ইছহাক প্রকাশ কালু, নজরুল ইসলাম এবং ছৈয়দুল আমিন প্রকাশ লম্বাইয়াকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাহাদের গলায় ফাঁসি দিয়া ঝুলাইয়া এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদার বিল এলাকার রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও ফারজানা পারভীন সুইটি’র ৭ বছরের শিশু সন্তান মোঃ আলী উল্লাহ আলো-কে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র কর্মচারী মোঃ সুমন আলী বাড়ির সামনের কাচারি ঘরে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবী করার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে যায়।

পরে পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে মোঃ আলী উল্লাহ আলোকে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র কাচারী ঘরের সিলিং উপর তুলে তার হাত পা বেঁধে মুখে জোর করে কচটেপ লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।এসময় মোঃ আলী উল্লাহ আলো শোর চিৎকার করলে আসামী মোঃ সুমন আলী ও অন্যান্যরা মোঃ আলী উল্লাহ আলো কে অপহরণ করার বিষয় বাড়ির লোকজন হয়ত জানতে পরেছে মনে করে। মোঃ আলী উল্লাহ আলো জীবিত থাকলে ঘটনা ফাঁস হতে পারে আশংকায় মোঃ আলী উল্লাহ আলো কে আসামীরা সিলিং উপর জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করে।এঘটনায় খুন হওয়া বিজিবি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র মোঃ আলী উল্লাহ আলো’র পিতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বাদী হয়ে ২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৫ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে এবং ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী দিয়ে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার টেকনাফ থানা মামলা নম্বর : ১৩/২০১১ ইংরেজি, জিআর মামলা নম্বর ৩৭০/২০১১ (টেকনাফ) এবং এসটি মামলা নম্বর ২০৮২/২০১৮ ইংরেজি।মামলাটি পর্যায়ক্রমে টেকনাফ থানার এসআই মাহবুবুর রহমান, এসআই হারুনর রশীদ এবং টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার মজুমদার তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এ চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে নারাজী আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত বাদীর নারাজীর আবেদন গ্রহণ করেন এবং ২০১৪ সালের ৪ মার্চ মামলাটি সিআইডি-কে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।আদালতের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে সিআইডি’র চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হ্লা চিং প্রু, সহকারী পুলিশ সুপার এস.এম সাহাব উদ্দিন আহমদ এবং সর্বশেষ সিআইডি চট্টগ্রাম মেট্টো জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির সরকার তদন্ত করে গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এজাহারভুক্ত ৫ জন সহ ৮ জন আাসামীর নাম উল্লেখ করে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ফৌজদারী দন্ড বিধির ৩০২/৩৪/১০৯/১১৪ ধারায় আদালতে সম্পূরক চার্জশীট দাখিল করেন। সম্পূরক চার্জশীটে এজাহারভুক্ত ৫ জন আসামী যথাক্রমে- মোঃ সুমন আলী (২৬), ইয়াছিন প্রকাশ রায়হান (২৯), মোঃ ইয়াকুব (৩৪), মোঃ ইসহাক প্রকাশ কালু (৩১), নজরুল ইসলাম (২৮)।
এছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত এজাহার বহির্ভুত আরো ৩ জন আসামী যথাক্রমে মিয়ানমারের মংডু থানার ধনচি পাড়ার মৃত আবদুর রহিমের ছেলে রোহিঙ্গা ছৈয়দুল আমিন প্রকাশ লম্বাইয়া (৪৭), টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়ার মৃত মৌলভী আবদুল জলিলের ছেলে মহিবুল্লাহ (৪৫), টেকনাফ পৌরসভার লেঙ্গুরবিলের জাফর আহমেদের ছেলে মোঃ দিদার মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ ও হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি টেকনাফের আমলী আদালত থেকে বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়। মামলার ৩ জন আসামী যথাক্রমে মোঃ সুমন আলী, ইয়াছিন প্রকাশ রায়হান ও মোঃ ইয়াকুব ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দী প্রদান করেন। ২০২০ সালের ২৪ জুলাই কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি চার্জ গঠন করে বিচারকার্য শুরু করেন। মামলায় ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও তাদেরকে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। এরপর আলামত প্রদর্শন ও পর্যালোচনা, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যাচাই, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন যাচাই, তিন জন আসামীর ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দী যাচাই, আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, যুক্তিতর্ক সহ সকল বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি বুধবার রায় ঘোষণা করে বিজ্ঞ বিচারক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ