রবিবার, ২২ মে ২০২২, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজার শহরে ছিনতাইকারীসহ অপরাধী চক্রের তৎপরতা

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২

কক্সবাজার প্রতিনিধি।।

পবিত্র ঈদ-উল ফিতর-কে ঘিরে পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পকেটমার, ছিনতাই করতে আস্তানা গেড়েছে ২৫/৩০ জনের ছিনতাইকারী সংঘবদ্ধ চক্র।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটন শহরের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সড়ক, ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল সড়ক, লালদীঘির পূর্ব পাড়, বাজার ঘাটা, টেকপাড়া, রুমালিয়ার ছড়া, হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকা,বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, কলাতলি বাইপাস সড়ক, জেলগেট আশপাশ এলাকা ও বাসটার্মিনাল সহ শহরের বিভিন্ন শপিং মলকে টার্গেট করে পকেটমার, ছিনতাইকারী, ঝাপটা পার্টির তৎপরতা চালাচ্ছে।
শহরে বিভিন্ন স্থানে এই দূধর্ষ অপরাধী চক্র আস্তানা গেড়ে বসে। অপরাধীরা ঘটনার পর ধরা না খেতে তাদের আস্তানায় চলে যায়। ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই, পকেট চুরি করা, মালামাল নিয়ে চম্পট দেওয়ার সময় এই চক্রের অন্যান্য লোকজন ভদ্র বেশে ঘটনাকারীকে ছাড়িয়ে নেয়।
২৯ এপ্রিল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল রোড়ের নতুন শেভরণ হাসপাতালের সামনে এক দম্পতির সব কিছু ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে ডাক্তার দেখিয়ে নতুন শেভরণ হাসপাতালের সামনে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার জন্য গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন।
তাদেরকে ৪/৫ জন ছিনতাইকারী চারদিকে ঘিরে ফেলে ছুরির ভয় দেখানো হয়। ভয়ে তারা সব কিছু দিয়ে দেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত লোকজন ধাওয়া করলে ছিনতাইকারী চক্র পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে এক ছিনতাইকারীকে সনাক্ত করেছে। এই ছিনতাইকারীর নাম রাজ্জাক প্রকাশ লালু। তার বাড়ি রামু খুনিয়া পালং রাবেতা এলাকায় হলেও বসবাস করেন শহরের রুমালিয়ার ছড়া এলাকায়। শহরের দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী খায়রুল আমিনের ভগ্নিপতি এই লালু বলে জানা গেছে। ইতোপূর্বে ছিনতাইকালে অনেক বার ধরা পড়ে জেলও খেটেছে। তার বিরুদ্ধে রামু ও কক্সবাজার থাকায় বহু মামলা রয়েছে বলে একটি সুত্র জানিয়েছেন।
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ইউনুচ জানিয়েছেন,
কিছুদিন আগে আমার সামনে ছিনতাইকারী রাজ্জাক প্রকাশ লালু কলাতলি বাইপাস সড়কে একজনকে ছুরির ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করছিল। তাকে ধরার জন্য এগিয়ে গেলে সে পালিয়ে যায়। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তাকে ধরার জন্য। কিন্তু সামনে পড়ছে না বলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
এরআগে গত শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে লালদিঘীর পূর্ব পাড়ে নক্ষত্র নামক দোকানে এক নারীকে উত্যক্ত করে তিন জনের ছিনতাইকারী চক্র।
জনতা দুই জনকে ধরে ফেলেন।
পরে সংঘবদ্ধ আরো কয়েকজন ছিনতাইকারী এসে জনতার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় আটক। ছিনতাইকারীদের।
২৫ এপ্রিল সোমবার দুপুর ২ টার সময় টমটম যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী চক্র আবু জাফর নামের একজনকে ছুরিকাঘাত করে সর্বস্ব লুট করেছে।
ছুরিকাহত আবু জাফর জানান, তিনি কক্সবাজার বাস টার্মিনাল হতে টমটম যোগে হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকায় আসছিল। টমটমে আরও কয়েকজন যাত্রী বেশে ছিনতাইকারী ছিল।

দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী রাজ্জাক প্রথম লালু।

টমটমটি সাবমেরিন কেবলের বিপরীত পশু হাসপাতালের সামনে রোডের মাথায় আসলে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী নামার জন্যে টমটম থামান। এসময় ছুরির ভয় দেখিয়ে আমার সাথে থাকা ব্যাগ, মোবাইল সেট দিতে বলে। আমি অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা আমার হাটুতে দুটি ছুরিকাঘাত করে। এরপর সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। টমটমে থাকা অপরাপর যাত্রীরা ভয়ে যে যার যার মত পালিয়ে যায়। পরে আমাকে অন্যান্য লোকজন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করান।
ছিনতাইয়ের শিকার আবু জাফর কক্সবাজার ঈদগাঁও উপজেলা ইসলামপুরে নতুন অফিস এলাকার মরহুম কবির আহম্মদের ছেলে।
গত ১২ এপ্রিল
কক্সবাজার শহরের শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে
আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি।
১৪ এপ্রিল মধ্যরাতে ইমাম হোসেন নামক এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে সর্বস্ব লুট করে ছিনতাইকারীরা। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
আহত ইমাম হোসেন টেকনাফ সদরের ৪ নং ওয়ার্ডের নতুন পল্লান পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এই শহর ও শহরতলিতে যতগুলো ঘটনা ছিনতাইকারীরা ঘটায়, সে সময়কালে আশপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ আর কাছে এসে দাঁড়ায় না, কিংবা অপরাধীদেরকে ধরা হয় না। ফলে ঘটনাকারীরা পার পেয়ে যায়। তাতে নীরিহরা ক্ষতির শিকার হতে হয়। এই অপরাধ চক্রগুলো প্রতিদিন বেলা ২ টার পর থেকে তাদের তৎপরতা শুরু করেন।চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কখনও বিকালে, কখনো সন্ধ্যার পর দলবেঁধে অপরাধীরা শহরের অলিগলিতে ঘুরাফেরা করেন। সুযোগ বুঝে ছুরিকাঘাত করে মালামাল ছিনতাই করে চম্পট দেয় । ঘটনার শিকার ও তাদের ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী, পথচারীদের সাথে আলাপকালে এই সব তথ্য পাওয়া যায়।

সূত্রে জানা যায়, এই ভয়ংকর অপরাধীদের কারণে তারাও আতংকিত। অথচ কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা টহল দিলেও ছিনতাইকারী চক্রকে ধরতে পারছে না। অপরাধী চক্রের মধ্যে অন্তত ৬টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অপরাধ কর্মকান্ড চালানো হয়। এই গ্রুপের মধ্যে ১০/১২ বছরের টোকাই শিশু, ১৬/১৭/১৮ বছর বয়সী কিশোর, ২০-২৫ বছর বয়সী যুবক গ্রুপ সহ ৩০/৩৫ বছর বয়সী অপর গ্রুপ অপরাধ কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার হাসপাতাল সড়কসহ শহরের অলিগলিতে ঈদকে সামনে রেখে অপরাধ চক্রগুলোর আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। তাদের নিদিষ্ট স্থান থেকে তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টার্গেট করে গ্রাম থেকে শহরে আসা লোককে। এই চক্রটি চারদিক ঘিরে ছুরির ভয় দেখিয়ে প্রকাশ্যে মোবাইল, মানিব্যাগ, টাকা, হাতঘড়ি সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে শাসিয়ে বিদায় দেয়। এরকম ঘটনা গত কয়েক মাসে অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক মাসে ছিনতাইকারীদের হাতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৩০/৩৫ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপরাধ চক্রের মাঝে কয়েকটি চক্র ভালো জামা-কাপড় পরিহিত। দামী মোবাইল সেট ও মোটরসাইকেল হাকান। সুযোগ বুকে তারা ব্যস্ততম এলাকায় নানান অপরাধ কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে। তারা সকলেই অপরাধ কর্মকান্ডে প্রশিক্ষিত এবং অসংখ্য মামলার আসামী বলে জানা গেছে। অনেকে বহু দূধর্ষ ঘটনাকারী হিসেবে সমাজে চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
একদিকে জেলাজুড়ে পুলিশ টহল দিচ্ছে, চলছে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান। অন্যদিকে সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সহ নানান অপরাধীচক্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই অপরাধীরা যেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাত্তাই দিচ্ছেনা।
এটিই যেন বর্তমানে পর্যটন কক্সবাজার পর্যটন শহরের চিত্র।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ