শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

বাসাইলে কাউন্সিলর এরশাদ কার্যাদেশ পাওয়ার আগেই ধানসহ মাটি কাটলো

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২

অর্ণব আল আমিন  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার এক কমিশনার থোরধানসহ রাস্তার ধারের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী কৃষকরা। অথচ ওই টেন্ডারের কাজে পিডি’র অনুমোদন এবং ওয়ার্ক অর্ডারসহ অফিসিয়াল আনুষাঙ্গিক কাজগুলো এখনো প্রকৃয়াধীন। দরিদ্র ওই কৃষকদের জমি থেকে মাটি কাটতে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা, পুলিশি হয়রানী করবেন কমিশনার এমন অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা অথবা অন্য কোথাও অভিযোগ দিলে তাদের দেখে নেয়া হবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন বাসাইল পৌরসভার ৯ নাম্বার ওয়ার্ড কমিশনার এইচ এম এরশাদ আলম।
পৌরসভা এবং ওই ওয়ার্ডের স্থানীয়দের সূত্রে জানাযায়, সম্প্রতি ২৪ মার্চ তারিখে ‘‘টি-টেন” প্রকল্পের আওতায় ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের বর্ণীকিশোরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রীজ থেকে আকতারের বাড়ি পর্যন্ত তিন’শ মিটার কাঁচা রাস্তায় মাটি ফেলে দু-পাশে ১০ ইঞ্চি গাইডলসহ ‘‘এইচবিবি” কাজের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় । কাজটির ব্যয় ধরা হয় ৩১ লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার টাকা। ৯নং ওয়ার্ড কমিশনার এরশাদের ভাতিজা মো. আরিফ মিয়ার মালিকানাধীন মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেলেও কমিশনার নিজে কাজ সম্পন্ন করার দ্বায়িত্ব নেয়। এলাকায় প্রচার করা হয় রাস্তার কাজটি সে পেয়েছে এবং রাস্তায় সাইড বাই সাইড মাটি নেবার নির্দেশ আছে। মাটি না দিলে তার বিরুদ্ধে সরকারবাদী মামলা দেয়া হবে। এসব প্রপাগন্ডা প্রচার করার ক’দিন পর থেকেই ওই রাস্তার পাশের বোরো ধানের ক্ষেতে ভ্যেকু বসিয়ে মাটি কাটা শুরু করে সে। রাস্তা সংলগ্ন জমির মালিক দরিদ্র কৃষকরাসহ এলাকাবাসীরা কাযার্দেশ এবং অফিসিয়াল নির্দেশ পর্যন্ত অপেক্ষা এবং ধোরধান না কেটে রোরো মৌসুম শেষ হলে মাস খানেক পর মাটি নেবার অনুরোধ করেন। এতে মন গলেনি কমিশনার এরশাদের। তিনি ধোর ধানসহ মাটি কাটা শুরু করেন। জমির মালিক কৃষকরা বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেয় কমিশনার এরশাদ। ভয়ে হতদরিদ্র কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিস এবং পৌরসভা কোথাও অভিযোগ করেনি।
সরেজমিনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে দরিদ্র কৃষক শাহনাজ, মমতা,আব্দুর রশিদ,আবুল হোসেন,শহীদ খান,সাজু মিয়া বলেন,আমরা গরীব অসহায় দরিদ্র কৃষক মানুষ। ৫শ টাকা কামলা নিয়া,সার,বিছুন দিয়া ক্ষেত করছি সেই ক্ষেত কাইটা নিছে। কত কান্নাকাটি করলাম ভ্যেকুটা লাগায়েন না। আমাদের ক্ষেতগুলা সর্বনাশ হয়েছে। একমাত্র এই জমির ধান থেকেই সারা বছর চলে আমাদের। এই সংসার কিভাবে চালাবো ।আমরা কি সরকারের কাছ থেকে কোন কিছুই পাবোনা?
এব্যাপারে ৯নং ওয়ার্ড কমিশনার এইচ এম এরশাদ আলম সাথে পৌরসভায় তার কাযার্লয়ে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের দেখেই সে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে তার মুঠোফোন নাম্বারে ফোনদিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই কল কেটে দেন।
বাসাইল উপজেলা কৃষি কর্মকতার্ নাজনীন আক্তার বলেন, আমরা ক্ষতিপূরণের কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করতে পারবো না। তবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার বরারর ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করলে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করে দিতে পারি।
বাসাইল পৌরসভার প্রকৌশলী(অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) মোশারফ হোসেন বলেন, বোরো ধানের জমি থেকে কে বা কারা মাটি কেটেছে জানি না। মাটি কাটার সাথে টেন্ডারের সাথে আইনি কোন সম্পর্ক নেই। টেন্ডারে শারমিন এন্টারপ্রাইজ লটারীতে উইনার হয়েছে। নিয়মানুসারে উর্ধ্বতন ককর্তৃপক্ষেরর কাছে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম প্রকৃয়াধীন আছে। কেউ যদি মাটি কাটে তাহলে তার ব্যাপার।
পৌরমেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, বোরোধানসহ জমির মাটি কেটে নেবার বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। আমরা কোন ওয়ার্ক অর্ডার দেইনি। কোন রাস্তায় যদি কেউ অনুমতিছাড়া মাটি ফেলে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
বাসাইল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা আমাকে জানালে ওখানে সরজমিনে গিয়ে আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা নেবো।
টাঙ্গাইলের ১০টি পৌরসভার ভৌতঅবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক(পিডি) দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, ঐ কাজের কন্ট্রাকই এখনো সাইন হয়নি। কন্ট্রাক সাইন না হলে তো কাজ বাস্তবায়নের কোন প্রশ্নই আসেনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ