শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০৬:০১ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

ধরাছোঁয়ার বাইরে আলোচিত বিনিয়োগকারী ‘হিরু’

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

পুঁজিবাজারের হিরু-১
ধরাছোঁয়ার বাইরে আলোচিত বিনিয়োগকারী ‘হিরু’

বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে আলোচিত বিনিয়োগকারী সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (উপ-নিবন্ধক) মোঃ আবুল খায়ের। ডাকনাম হিরো। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত অর্ধশতাধিক কোম্পানির শেয়ার দর সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আকাশচুম্বী করেছেন। উচ্চমূল্যে সেসব শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছেন। অথচ আলোচিত এই বিনিয়োগকারী ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছেন।

গতবছরের এপ্রিল ও মে মাসের ই-জেনারেশন লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে সিরিজ ট্রানজেকশন করার প্রমাণ মিলেছে। এ সংক্রান্ত নথি এখন আমাদের হাতে রয়েছে। এছাড়াও তার মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে এমন কিছু কেস স্টাডি (ফাইন্ডিং) নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বাংলাদেশ প্রতিবেদন।

মোঃ আবুল খায়ের ছাড়াও কাজী সাদিয়া হাসানের নামেও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডি আই টি কো-অপারেটিভ লিঃ, এফ এ ট্রেডিং করপোরেশন ও মাহমুদ উজ জামান চৌধুরী নামের এক বিনিয়োগকারীর সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে।

তথ্য মতে, ০৫-০৪-২০২১ইং থেকে ৩০-০৫-২০২১ইং সময়ে মোঃ আবুল খায়ের গং (বিও আইডি ১২০১৯৫০০৬১৬৪***) থেকে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর সেকশন ১৭ (ই) (ভি) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইজেনারেশনের শেয়ার দর ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে বাড়িয়েছেন।

শুধু ই-ইজেনারেশন নয়, ডিজিটাল যুগে শেয়ারবাজারে প্রতিটি অস্বাভাবিক লেনদেন মুহুর্তেই সার্ভিল্যান্সের নজরে চলে আসে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এড়িয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে বিনিয়োগকারীদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে হিরু গং।

বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে এ ধরণের অনৈতিক লেনদেনের কথা বলা হলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বরং শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ আকর্ষনে বিদেশী ‌রোড শো’তে তাকে বিনিয়োগকারী হিসেবে নিমন্ত্রন করা হয়েছে।

এর ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা একেবারেই শূ্ণ্যের ঘরে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। শেয়ারের দর কমার সার্কিট দুই শতাংশ নির্ধারণ করেও পতন ঠেকানো যাচ্ছে না।

গত এক মাসের মধ্যে অধিকাংশ সময় বাজারে দরপতন হওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ৬ হাজার ৫৭৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

সরকারকে সমালোচনার মধ্যে ফেলছে তাদের কর্মকাণ্ড। সরকার অর্থনীতির সবগুলো সূচকেই ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ শত শত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ঈর্ষণীয় সফলতা পেয়েছে। শুধু গুটিকয়েক চক্রের কারণে শেয়ারবাজারে বরাবরই ব্যর্থতার দায় নিতে হচ্ছে সরকারকে।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে আগে থেকে বিনিয়োগ থাকলেও বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর আকস্মিকভাবে আলোচনায় চলে আসেন মোঃ আবুল খায়ের। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে শেয়ারবাজারে কতটুকু বিনিয়োগ করতে পারে বা সে টাকার উৎস কি এ ধরণের কোন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সমবায় অধিদপ্তর বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে। বরং সরকারি কর্মকর্তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে বিনিয়োগে বাধা নেই বলে বিভিন্নভাবে সাফাই গাওয়া হচ্ছে।

তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, শিগগিরই দূর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার অস্বাভাবিক সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।

সিরিজ ট্রানজেকশনের মাধ্যমে শেয়ারের দর বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করা হচ্ছে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিরবতা সবাইকে হতাশ করেছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘কমিশনের কাছে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি সার্ভিল্যান্সে নতুন তাই পূর্বের কোন অভিযোগ সম্পর্কে জানা নেই। যদি অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পরে তাহলেও ব্যবস্থা নিতে সময় লাগে।’

এ বিষয়ে আবুল খায়ের হিরু বলেন, ‘ই জেনারেশন এর বিষয়ে আমার কাছে কোন কৈফিয়ত চাওয়া হয়নি। এতে কোন আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ