শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০০ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

কুয়েট কর্তৃপক্ষের অমানবিক আচরণই অন্তুর মৃত্যুর কারণ

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

কুয়েট কর্তৃপক্ষের অমানবিক আচরণই অন্তুর মৃত্যুর কারণ।

আব্দুর রহিম/সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

“দাদা, তুই আমার একমাত্র ভরসা ছিলি। এভাবে কেনো না বলে চলে গেলি। আমরা এখন কি নিয়ে বাঁচবো বল।“ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মৃত অন্তু রায়ের প্যান্ট-শার্ট জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলো অন্তুর একমাত্র বোন চৈতী রায়।

খুলনা শহর থেকে ১২ কি.মি দুরে ডুমুরিয়া উপজেলার ঘুটুদিয়া ইউনিয়নে অন্তু রায়ের বাড়ি। বাবা দেবেন্দ্র রায় একজন রাজমিস্ত্রীর সহকারী। মা গীতা রায় ক্ষেতমজুর। ছোট্ট দোচালা ঘর। জরাজীর্ণ ঘরে হোগলার বেড়া। বোন চৈতী ঘরের একরুমে থাকে। আর এক রুমে অন্তু ঘুমাতো। বাবা মা খোলা বারান্দায় ঘুমাতেন। খোলা বারান্দায় বাবা-মার ঘুমাতে কষ্ট হতো বলে অন্তু প্রায় রাতেই অন্যের বাড়িতে গিয়ে ঘুমাতো। মৃত্যুর আগের রাতেও অন্তু পাশের বড় ভাই সৌরভ বৈরাগীর মাছের ঘেরে ঘুমিয়েছিলো।

ঘটনার প্রকাশ, গত ৪ এপ্রিল সোমবার মেধাবী ছাত্র অন্তু (২১) নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেছে। কারন, কুয়েটের ড. এ রশিদ হলের ফি বাবদ ৬৬৭৫ টাকা বাকি ছিলো। টাকা পরিশোধ না করতে পারলে সেন্ট্রাল ভাইভায় অংশ গ্রহন করতে দেয়া হবে না বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্তুকে জানিয়ে দেয়। অন্তুর মা অনেক কষ্ট করে ৩০০০ হাজার টাকা জোগাড় করে অন্তুর হাতে তুলে দিলে অন্তু বললো, মা এ টাকা দিলেই স্যারেরা আমাকে পরীক্ষা দিতে দেবে। তুমি চিন্তা করো না বরং আমার জন্য আর্শীবাদ করো আমি যেনো ভালো ভাবে ভাইভা দিতে পারি। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) গিয়ে অন্তু দু’ঘন্টা দাড়িয়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ তার টাকা জমা নেয়নি, ভাইভাও দিতে দেয়নি। তাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে পুরো টাকা না দিলে সেন্ট্রাল ভাইভা নেয়া হবে না।

অন্তু বাড়িতে ফিরে এলে মা পরীক্ষার কথা জিজ্ঞেস করলে সে পরীক্ষা দিয়েছে বলে মিথ্যা কথা বলে। সে হয়তো ভেবেছে পরীক্ষা দিতে পারেনি এ কথা বললে বাবা মা কষ্ট পাবে। কিন্তু অন্তু সেই অন্তর জ্বালা আর অপমান সহ্য করতে না পেরে পরের দিন নিজ ঘরে সকাল ১০.৩০ মিঃ বাশের আড়ায় কাপড় পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বাবা মা মাঠে কাজে ছিলো। বোন একঘন্টা পর কলেজ থেকে বাড়িতে ফিরে দেখে ভাইয়ের নিথর দেহ ঘরের আড়ায় ঝুলে আছে।

আজ সকালে ডুমুরিয়ার ঘুটুদিয়ায় আমিসহ বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ও বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির খুলনা জেলা সভাপতি ডা. মনোজ কুমার দাস, বিশিষ্ট সাস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পাটির খুলনা জেলা সভাপতি এড. মিনা মিজানুর রহমান, নারী নেত্রী ও বিশিষ্ট লেখক সুতপা বেদজ্ঞসহ কয়েকজন অন্তুর বাড়িতে গিয়েছিলাম। সব কিছু শুনে যে কষ্ট এবং ক্ষোভ নিয়ে ফিরে এসেছি তার কিছুই এ লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব না। শুধু ভাবছি অন্তু রায় গরীব এটা ওর জন্য অভিশাপ কিন্তু কুয়েটের মতো এতবড় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা কিভাবে এতটা উদাসীন ও নিষ্ঠুর হতে পারলেন। একবারও কি ছাত্রর বাস্তব সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করেলেন না। সম্পূর্ণ টাকাটা পরিশোধ করতে না পারায় ভাইভায় অংশ গ্রহণ করতে দিলেন না!!! ক্ষোভে অপমানে ছেলেটি শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে মরেই গেলো!!

হায়রে অন্তু তুইও চলে গেলি তোর বাবা মায়ের স্বপ্নেরও মৃত্যু হলো। তোর মায়ের হাত দুটো দেখলাম কোদাল দিয়ে মাটি কোপাতে কোপাতে হাতে কড়া পড়ে গেছে। স্বপ্ন ছিলো ছেলে তার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সব কষ্ট ঘুচাবে। আজ সকালে তোদের বাড়িতে গেলে তোর মা বিলাপ করতে করতে বলছিলো- “ আমার অন্তু যখন কিলাস ফাইবে উঠে তখন তেকেই আমি কিশান দিতি শুরু করিচি। কাজ কত্তি কত্তি আমার হাতে ঠোস পড়ি গিছে। আমি কি আর একটু কষ্ট করি ওর টেকা দিতি পারতাম না? ও না বলি চলি গেলো কেনো?” তোর মায়ের কথাগুলো নিরবে দাড়িয়ে শুনছিলাম।

কুয়েটের ছাত্র কল্যান পরিচালক প্রফেসর ড. ইসমাইল সাইফুল্লাহকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে তিনি নাকি বলেছেন, অন্তুর হলে কিছু টাকা বাকি ছিলো তবে অন্তু কখনো তাদের কাছে অর্থ কষ্টের কথা বলেনি। তবে যে যা বলুক না কেনো, এ ঘটনায় সুষ্টু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্তুর বাবা মায়ের অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষের এই গাফিলতির বিচার হওয়া উচিৎ। হত্যার প্ররোচনায় এ সব শিক্ষকদের আইনের কাঠ গড়ায় দাড় করানো উচিৎ। কারন ভবিষ্যতে আর যেনো কোনো অন্তুর এরকম মৃত্যু না হয়। এই সব প্রতিষ্ঠানের গরীব মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের আর যেনো অমানবিক আচরণের স্বীকার না হয়। অন্তুর মতো মেধাবী ছাত্ররা আমাদের দেশের সম্পদ। প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী আছে। খেয়াল রাখতে হবে অর্থের অভাবে এরা যেনো ঝরে না যায় অথবা অন্তুর মতো মৃত্যু যেনো এদের আলিঙ্গন করতে না পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ