শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪১ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

এখনো সেই আঘাতের তীব্র ব্যাথা আমাকে পীড়া দেয়ঃ খাদিমুল বাসার জয়

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

এখনো সেই আঘাতের তীব্র ব্যাথা আমাকে পীড়া দেয়ঃ খাদিমুল বাসার জয়

সিয়াম মাহমুদঃ শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে। যেহেতু মূল দল ক্ষমতায়, সেহেতু ভ্রাতৃপ্রতিম হিসেবে আনন্দের সাথে ছাত্রলীগের রাজনীতি চলমান থাকবে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, এটিই স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তার ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের হাজারও নেতা-কর্মীদেরকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় গুম, খুন, হত্যা, পঙ্গু এবং আহত হয়েছে। কিন্তু দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল তথা কিছু উপ দলের হামলায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিহত কিংবা আহত হওয়ার ঘটনাও কম নয়। বর্তমান সময়ে দলের জন্য সামনের সারিতে থেকে কাজ করার কারণে হামলার স্বীকার হওয়া ছাত্রনেতাদের মধ্যে একজন হলেন “খাদিমুল বাসার জয়”। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ‘উপ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক’ এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা।

আজ খাদিমুল বাসার জয় এর কাছ থেকে শুনবো সেই কালো রাতের কথা।
সাক্ষাৎতার নিয়েছেন, সিয়াম মাহমুদ।

 

প্রশ্নঃ
জনাব খাদিমুল বাসার জয়, আপনি দীর্ঘদিন যাবত ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে আপনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

আপনার কাছে জানতে চাই, আপনার রাজনীতির শুরুটা কখন থেকে হয়েছে এবং কিভাবে?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

-আপনাকে শুভেচ্ছা। আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুল মান্নান, বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামালের অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ৭১ পরবর্তী সময়ে জড়িত ছিলেন।

আমার যখন জন্ম তখন বিএনপি সরকার (৯১-৯৬) ক্ষমতায়। তখন আমার পিতা আমার নাম রাখেন জয়। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের আবার জয় হবে এরকম একটা আবেগ তাঁর মধ্যে কাজ করতো।

আর সে হিসেবে বলতে গেলে আমার রাজনীতির সূচনা পারিবারিকভাবে।

দ্বিতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নের সময় মাত্র ৭ বছর বয়সে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুরোপুরিভাবে বরগুনা স্টেডিয়ামে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সামনে আমি উপস্থাপন করেছিলাম।

পরবর্তীতে বরগুনা জেলা স্কুলে অধ্যয়নের সময় স্কুল ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে কাজ করি। তখন বিএনপি-জামাত জোট সরকার (২০০১-২০০৬) ক্ষমতায় ছিলো।

 

প্রশ্নঃ

-আপনার বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে জানতে চাই।

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

-বর্তমানে আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ‘কর্মসংস্থান বিষয়ক উপ-সম্পাদক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট ‘রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’।

প্রশ্নঃ

-আমরা জানতে পেরেছি, ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের সময় আপনার উপর খুব বড় ধরনের ঝড় গিয়েছে। ঐ মুহূর্তে আপনার জীবন সংকটাপন্ন ছিলো।

মূলত, ৮-৯ এপ্রিল ২০১৮ সালে কি ঘটেছিলো?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

-২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকেই দীর্ঘদিনের পরিচিত ক্যাম্পাসকে বড় বেশি অচেনা মনে হয়েছে। তবে ঘটনা যে এরকমভাবে হিংস্র ও বর্বরতায় রূপ নিবে সেটা আঁচ করতে পারিনি।

রাত ৯ টার পর থেকেই থেমে থেমে ঝটিকা মিছিল স্লোগান চলছিলো কোটা নিয়ে। আমরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেসময় মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান করি। রাত ১২ টায় উপাচার্য ভবনের সামনে একদল মুখোশধারী জড়ো হতে থাকে। ঠিক রাত ১২.১৫ মিনিটে তারা উপাচার্য ভবনের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। উপাচার্য ভবন ভাংচুর ঘটনার পরে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে এই নরকীয় ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল বের করে। মিছিলটি শহীদুল্লাহ হলের গেটের কাছে আসতেই শহীদুল্লাহ হলের ভেতর থেকে বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আর বেশকিছু অস্ত্রধারী (মুখে রুমাল পরিহিত) মিছিলে জঙ্গি কায়দায় অতর্কিত হামলা চালায়। ৫/৬ জন মিলে আমার উপরে নির্মমভাবে আক্রমণ করে। তারা আমার মাথায় দেশীয় অস্ত্র চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। আর রড, হকস্টিক দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গে সজোড়ে আঘাত করে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শহীদুল্লাহ্ হলের একজন আবাসিক ছাত্র আমার জীবন বিপন্ন দেখে আমাকে টেনে নিয়ে হলের রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে রান্নাঘরের বাবুর্চিরা আমার রক্ত থামাতে তাদের কাছে থাকা মাছের পলিথিন দিয়ে আমার মাথা বেঁধে ফেলেন। কিন্তু কিছুতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় আমার শরীর নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকে। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সতীর্থরা আমাকে একটি রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আমাকে আনয়ার খান মর্ডান মেডিকেলের আইসিউতে স্থানান্তরিত করা হয়।

আমার মাথায় ২৯ সেলাই এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ও ব্যাথা নিয়ে আমি মহান আল্লাহ্‌র রহমতে আজ বেঁচে আছি।

প্রশ্নঃ

-আপনার উপর যারা হামলা করেছিলো পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিলো?

তাদেরকে কি পরবর্তীতে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

– না, কোন বিচার পাই নাই।

 

প্রশ্নঃ

-এখন কেমন আছেন?

স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি কেমন?

কখনো কি সেই কালো রাতের কথা মনে পড়ে?

অথবা স্মৃতি চারণে ভেসে উঠে কি, সেই নির্মম মুহূর্ত?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

-আমরা যেহেতু পারিবারিকভাবেই রাজনীতি করি সেহেতু মামলা-হামলা-নির্যাতন-নিপীড়ন আমার কাছে নতুন কিছু নয়। এগুলো আমাদের বিভিন্ন সময়েই সহ্য করতে হয়েছে। ২০০১-২০০৬ আমার আপন চাচাতো ভাই এনায়েত করিম মুরাদ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও আপন ভাই খায়রুল বাশার সেতু সদস্য থাকার কারণে স্কুল জীবনেই মামলা-হামলা খুব কাছ থেকে দেখেছি।

শরীরের বিভিন্ন অংশে এখনো সময়ে অসময়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে আরো অনেক শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এসব ব্যথা বেদনা আঘাতের চিহ্ন শরীরে ধারণ করেই পিতা মুজিবের আদর্শের লড়াইয়ে অবিকল্প সারথী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ নির্মানের নিরন্তর সংগ্রামে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে চলেছি।

প্রশ্নঃ

-বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আগামীর ছাত্রলীগ নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমদের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। আমরা যারা তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি আমাদের উচিত বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের আদর্শকে বুকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

ছাত্রলীগকে আরো বেশি যুগোপযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে নেতৃত্বকে দক্ষ হাতে সংগঠনকে পরিচালনা করা প্রয়োজন। ছাত্রলীগ যেহেতু ৫০ লক্ষ নেতাকর্মীর একটি পরিবার সেহেতু ছাত্রলীগকে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অপরাজেয় দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রশ্নঃ

-আপনার গ্রামে বাড়ি কোথায়?

পরিবারে কে কে আছেন?

পরিবারের কার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সাপোর্ট পেয়েছেন?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

-আমার জেলা বরগুনা। বরগুনা পৌরসভার কলেজ রোডে আমাদের বসবাস।আমার পরিবারের আমার বাবা-মা আর বড় ভাই আছেন। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুল মান্নান ও আমার মমতাময়ী জননী আমাকে এতো প্রতিকূলতার মাঝেও রাজনীতি করার জন্য সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

প্রশ্নঃ

-বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আসন্ন ৩০ তম সম্মেলনে কি আপনি কোনো পদে প্রার্থীতা করবেন?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলনে ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলাম।

আসন্ন ৩০ তম জাতীয় সম্মেলনে আমি ‘সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক’ পদের জন্য প্রার্থী হবো, ইনশাআল্লাহ্‌।

প্রশ্নঃ

বর্তমানে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যার ১টি হলোঃ অনেকের বিরুদ্ধে পূর্বে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা/কর্মী হিসেবে কাজ করার বা সংযুক্ত থাকার অভিযোগ উঠে থাকে এবং সেটি তৃণমূলের ওয়ার্ড কমিটি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত।

অন্যদল থেকে এসে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পদ-পদবী নিয়ে রাজনীতি করার বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?

খাদিমুল বাসার জয়ঃ

– বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে তখন কিন্তু অন্য দলের নেতাকর্মীরা আমাদের ক্ষমতায় আনেনি। ঠিক তেমনি ২০০৮ এর নির্বাচনেও কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজন পড়েনি। আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। ঠিক তেমনিভাবে ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাদের পাশ কাটিয়ে অন্য দল থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত পদায়নের চর্চাকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন ত্যাগী অন্ত:প্রাণ কর্মীরাই দলের দু:সময়ে সংগঠনকে সেবা দিয়ে যায়।

-আপনাকে ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য।

-আপনাকেও ধন্যবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ