সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০১:৪১ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

রাঙ্গুনিয়ায় দিনে-দুপুরে কলায় মিশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক বিষ

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৩১ মার্চ, ২০২২

রাঙ্গুনিয়ায় দিনে-দুপুরে কলায় মিশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক বিষ।

এম.মতিন/চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ

চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকান গুলোতে ব্যবসায়ীরা কাঁচা কলা পাকাতে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে মিশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ক্যামিকেল।

এতে মাত্র ১২ ঘন্টায় কাঁচা কলা সবুজ থেকে হলুদ রঙে পরিবর্তন হচ্ছে। প্রকাশ্যে কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর এমন একটি গোপন ভিডিও ধারণ করেছেন প্রতিনিধি নিজেই। মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও চিত্রের অনুসন্ধানে নেমে চাঞ্চল্যকর ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ২০-২৫টি পাইকারী কলার আড়তসহ ছোট-বড় ভাসমান প্রায় ২ শতাধিক দোকানে এমন বিষক্রিয়া যুক্ত ভেজাল কলা বিক্রি হচ্ছে।

এরমধ্যে রাজানগরের রানীরহাট, ইসলামপুরের মঘাছড়ি, ধামাইরহাট, রাজারহাট, মোগলেরহাট, শান্তিনিকেন, মরিয়মনগর চৌমুহনী, পারুয়ার হাজারীহাট, বিয়ানবাজার, সরফভাটার বহুচক্র হাট, পোমরার শান্তিরহাট, বেতাগীর লাম্বুরহাট, ইছাখালী, রোয়াজারহাট, শিলক, কোদলা, পদুয়ার রাজারহাট ও সোমবাজ্জ্যাহাটসহ উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের প্রায় ২শতাধিক স্থানে এমন ভেজাল বিষক্রিয়া কলা বিক্রি হয়। এসব কলা পাইকারী কিনে নিয়ে স্থানীয় হাট-বাজার ছাড়াও জেলা শহর হয়ে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কলাগুলো দেখতে আকর্ষনীয় ও লোভনীয় রঙের হলেও প্রতিটি কলা বিষে ভরা। ব্যবসায়ীরা কলার বাগানে প্রথমে একটি কেমিক্যাল পানিতে মিশিয়ে কলার কাঁদিতে স্প্রে করেন। এরপর সেই কলার কাঁদি বাগান থেকে কেটে এনে সংরক্ষণ করেন আড়তে। পরে এসব কলা শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে কার্বাইড জাতীয় রাসানিক পদার্থ মেশানো পানিতে চোবান। অপুক্ত কলা সবুজ রঙ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হলুদ ও আকর্ষণীয় হয়ে যায়। আর কেমিক্যালে পাকানো এসব কলা যাতে পঁচে না যায় সেজন্য ব্যবহার করা হয় ফরমালিন। বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো এসব কলা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও স্বাচ্ছন্দ্যে মেশিয়ে বাজারজাত করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে উপজেলার অন্তত ১০টি পাইকারী কলার মোকাম ঘুরে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেলও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রানীরহাট বাজারে গিয়ে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে খোরশেদ আলম নামের এক দোকানদার কলায় রাসায়নিক বিষ মিশানোর দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করা হয়।

সেই ভিডিও চিত্রের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালালে জানা যায়, কলার কাদিকাটা থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে দেওয়া হয় কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক বিষ। বাগানে থাকা অবস্থায় হরমন স্প্রে করা হয়। অপরিণত কলা কেরোসিনের স্টোভে রাইপেন ও কার্বাইড জাতীয় রাসানিক পদার্থ দিয়ে ধোঁয়া দেওয়া হয়। দেখতে সুন্দর এবং হলুদ রঙ ধারণ করানোর জন্য বিভিন্ন নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে প্রফিট, মার্শাল, হিলডন, রাইজার, বাসুডিন, ইথিলিন, রাইপেনসহ অনেক ধরনের ঔষধ ছিটানো হচ্ছে অপুক্ত কাঁচা কলায়। যা গ্রাম থেকে সহজে পৌঁছে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তেরে। আর এসব ভেজাল পণ্য প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও নির্বাক স্থানীয় প্রশাসন। যা সুস্থ ও সবল মানুষকে চিরতরে অসুস্থ করে রাখে। বিষাক্ত কলা খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। মূলত কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ শরীরে গেলে লিভার ক্যান্সার, কিডনি জনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস ও গর্ভবতী নারীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এমনকি গর্ভেও শিশু বিলঙ্গ হতে পারে। তাই দ্রুত ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি সচেতন মহলের।

কলায় কেমিক্যাল বিষ প্রয়োগের বিষয়ে ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের কাছে জানতে চাইলে গণমাধ্যকর্মী জানতে পেরে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিষক্রিয়াযুক্ত এসব কলার স্বাস্থ্যঝূকি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. সামিউল করিম বলেন, ‘কেমিক্যাল মিশ্রিত এসব কলা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব কলা খাওয়ার সাথে সাথে বমিবমি ভাব ও ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। আর রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণের পর তা দাহ্যে পরিণত হয়ে নি:সারণ ঘটে লিভার ও কিডনির মাধ্যমে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত কার্বাইড জাতীয় কেমিক্যালের প্রভাবে গর্ভবতী নারীদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এমনকি গর্ভজাত শিশু বিকলঙ্গ হতে পারে। তাই এসব খাবার পরিহার করার পরামর্শ এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার।’

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস বলেন, ‘কলার মকলার মধ্যে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো গুরুতর অপরাধ। আমি এসব কলার আড়দে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ