সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ১১:৫১ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

স্বীকৃতি না পাওয়া মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষক পুলিশ পরিদর্শক

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করার উদ্দেশ্যে যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদেরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে মূল্যায়ন করছে। স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এখনো পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মান না পাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম মরহুম আব্দুস সালাম (আর,আই)। তিনি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাধীন রাজা চাপিতলা গ্রামের মরহুম মুন্সী পাঞ্জত আলীর দ্বিতীয় সন্তান। ১৯৫৩ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন এবং ১৯৫৭ সালে Govt. Comilla primary Institute থেকে P.T.I ট্রেনিং-এ কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হন। Govt. Comilla primary Institute এর তৎকালীন Instructor-in-charge এর স্বাক্ষরিত সনদ রয়েছে। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান এয়ারফোর্সে (পুলিশ) যোগ দেন। Pak-71761 Rank- Corporal Md. Abdus Salam, ১৯-০৫-১৯৫৮ থেকে ০৮-০৯-১৯৫৮ পর্যন্ত ট্রেনিং গ্রহন করে বিচক্ষনতা ও দক্ষতার সহিত উত্তীর্ণ হন। তৎকালীন পাকিস্তান হেড কোয়ার্টারস এর Provost Marshal ( M.M. SAID) SQN.LDR. এর স্বাক্ষরিত সেই ট্রেনিং এর সনদ রয়েছে। ১৯৬০ সালে Pak-71761 Rank- Aircraftman, Md.Abdus Salam,Air Force Police (Basic) কোর্স কমপ্লিট করেন। তৎকালীন পাকিস্তান এয়ারফোর্স এর Wing Commander (M.Nizamuddin Ansari) এর স্বাক্ষরিত সনদ রয়েছে। ১৯৬৪ সালে Pak-71761 Rank- Corporal, Md.Abdus Salam, Provost Conversion কোর্স সম্পন্ন করেন। তৎকালীন পাকিস্তান এয়ারফোর্স এর Squadron Leader (G.S. MALIK) এর স্বাক্ষরিত সনদ রয়েছে। ১৯৬৮ সালে Pak-71761 Rank- Corporal, Md.Abdus Salam, Provost (Advanced) কোর্স কমপ্লিট করেন। তৎকালীন পাকিস্তান এয়ারফোর্স এর Wing Commander (M.Nizamuddin Ansari) এর স্বাক্ষরিত সনদ রয়েছে। ১৯৬৮ সালে Islamia College,Dacca. থেকে মানবিক বিভাগে আইএ পাস করেন। সেই প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন Vice-Principal-In-Charge এর স্বাক্ষরিত সনদ এখনো রয়েছে। প্রায় ১১ বছর পর অর্থ্যাৎ ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান এয়ারফোর্স (পুলিশ) এর চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ১৯৭০ সালে সাব-ইন্সপেক্টর পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং রাজশাহীর সারদায় প্রায় সাত মাস ট্রেনিং শেষে পাবনায় পোস্টিং পান। পোস্টিংকৃত কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দেশের টানে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এর ডাকে সাড়া দিতে তিনি মুরাদনগরের মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দেন। নবীন, প্রবীন মুক্তিবাহিনী যখন পুলিশ কর্মকর্তা মরহুম আব্দুস সালাম (আর.আই) সাহেবকে চিনলেন তখন তাদের মধ্যে আরো চঞ্চলতা ও যুদ্ধ আগ্রহ হাজার গুণ বেড়ে যায়। এ সময় মুক্তিবাহিনীর একটা কমিটি গঠন করা হয়। তিনি ছিলেন সে কমিটির সভাপতি/ সহ-সভাপতি। পাকিস্তান এয়ারফোর্স (পুলিশ) থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন এবং সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে সারদায় প্রশিক্ষণ কালীন সময়ে তিনি অস্ত্র চালনায় যে দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা এবং অস্ত্র চালনার কৌশল বহু মুক্তিবাহিনীকে শিখিয়েছিলেন। এছাড়াও গেরিলা যুদ্ধের কৌশল, খুব সহজেই পাক-সেনাদের পাকড়াও করার কৌশলসহ নানান প্রশিক্ষণে দক্ষ করে তুলেছিলেন মুক্তিবাহিনীকে। উল্লেখ্য যে, মরহুম আব্দুস সালাম (আর.আই) সাহেবের ১০১০/এম একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল, যে অস্ত্রের কিছু কাগজ-পত্র এখনো রয়েছে। নিজস্ব (লাইসেন্সকৃত) সেই অস্ত্র দিয়েই প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন বহু মুক্তিবাহিনীকে। অনেক ত্যাগ, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ শত্রæমুক্ত হলো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে মরহুম আব্দুস সালাম (আর.আই) সাহেবের কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাঁকে সাব-ইন্সপেক্টর থেকে আর.আর.আই (সংরক্ষিত পুলিশ পরিদর্শক) পদে পদোন্নতি দেন। এ পদে চট্টগ্রামে প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পর রাঙ্গামাটি আর.আই (সংরক্ষিত পুলিশ পরিদর্শক) পদে ১৯৭৩ সালে বদলী করা হয় এবং সেখান থেকে আবেদনক্রমে বগুড়ায় পোস্টিং গ্রহণ করেন। মরহুম আব্দুস সালাম (আর.আই) সাহেব স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁর যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে। তিনি একজন সফল মুক্তিযোদ্ধা তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়/কর্তৃপক্ষ যেন খোঁজ-খবর নিয়ে, প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করে মরহুম আব্দুস সালাম (আর.আই) সাহেবকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন তা তাঁর পরিবারের জোরালো আবেদন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ