শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

চরফ্যাসনে প্রাণ গেল প্রসূতি মা ও সন্তানের, দায় নিচ্ছেনা কেউ

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২

চরফ্যাসনে প্রাণ গেল প্রসূতি মা ও সন্তানের, দায় নিচ্ছেনা কেউ।

চরফ্যাসন( ভোলা) প্রতিনিধিঃ ভোলার চরফ্যাসন-

উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে এক প্রসূতি ও তার গর্ভে থাকা সন্তানকে গাইনি চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান বাজারের মামুন নামের এক হাতুড়ে চিকিৎসক এর বিরুদ্ধে। অপচিকিৎসায় মারা যাওয়া গর্ভবতী নারীর নাম ফেরদৌস( ২৪), সে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রুবেলের স্ত্রী, তার ৪ বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে , যে সন্তানটি সিজারের মাধ্যমে ভূমিষ্ট হয় ।
হাতুড়ে চিকিৎসক মামুনের অপচিকিৎসায় ফেরদৌস মারা গেছে এলাকাজুড়ে এমন কথা উঠে, সরেজমিনে মৃত প্রসূতি নারীর শ্বশুর বাড়িতে গেলে, শ্বশুরবাড়ির লোকদের মাঝে কিছু লুকানোর উদ্দেশ্যে এলোমেলো কথা শুনা যায়, এতে সন্দেহ জোড়ালো হলে, স্থানীয় কয়েকজনের সাথে মামুনের অপচিকিৎসার বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হলে, কয়েকজন বয়স্ক পুরুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী পল্লী চিকিৎসক মামুন শুক্রবার প্রসূতি নারীর শরীরে ঔষধ প্রয়োগ করেন, পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চরফ্যাসন নিয়ে যান। মারা যাওয়া প্রসূতি ফেরদাউসের দেবর সুমন জানান, আমার ভাই রুবেল কর্মে সূত্রে এলাকার বাহিরে থাকায় আমরা অসুস্থ ভাবিকে পল্লী চিকিৎসক মামুনের সাহায্যে রাত প্রায় ১০ টার দিকে চরফ্যাসন সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যাই, ক্লিনিকের ডাক্তার সেখানে না রাখায়, চরফ্যাসন হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার বরিশাল রেফার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য
বরিশাল নেওয়ার পথে রাত প্রায় ৩টার দিকে
তার মৃত্যু ঘটে। শনিবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চরফ্যাসন সেবা ক্লিনিকে গেলে ম্যানেজার সোলাইমান ও সেবিকা কুসুম জানান, যখন প্রসূতি ফেরদৌসকে আমাদের ক্লিনিকে আনা হয়, তখন তার ভ্যাজিনাল ব্লাডিং হচ্ছিল, সে রক্তশূন্যতায় সাদা হয়ে গিয়েছিল, এবং প্রায় সেন্সলেস ছিলো। রক্তে হিমোগ্লোবিন ছিলো চার, সাথে থাকা পল্লী চিকিৎসক আমাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি আগে সিজার হওয়া প্রসূতি ফেরদাউসকে বাসায় নরমাল ডেলিভারির জন্য ঔষধ প্রয়োগ করেছেন, বিষয়টি শুনে আমরা আশ্চর্য হই। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করি একজন পল্লী চিকিৎসক হয়ে
পূর্বে সিজারে বাচ্চা নেওয়া নারীকে আপনি বাসায় কি করে নরমাল ডেলিভারির জন্য চিকিৎসা দিলেন? সে আমাদেরকে কোন উত্তর দিতে পারেন নি। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখায় আমরা তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে বলে বিদায় করে দেই। শুনেছি প্রথমে রোগী ফেরদৌসকে চিকিৎসার জন্য চরফ্যাসন সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিলো। সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোগী অতিরিক্ত রক্তশূন্যতায় ভোগায় রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো। হাসপাতালটির ম্যানজার মুরাদ বলেন, এর আগেও পল্লী চিকিৎসক মামুনের অপচিকিৎসায় স্থানীয় অনেক রোগীর অবনতি ঘটলে, সে নিজেই বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন বলে শুনেছি।
চরফ্যাসন হাসপাতালে শুক্রবার দিবাগত রাতে ডিউটিরত ডাঃ রায়হানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন, রাত প্রায় দেরটার দিকে ফেরদাউস নামের একজন প্রসূতি নারী হাসপাতালে আসেন, আমি তাকে একেবারে রক্তশূণ্যতায় পাই, পরে জানতে পারি আগে এই নারীর সিজার হয়েছিলো। প্রসূতি নারীর আত্মীয়রা ছাড়াও সাথে একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন, শুনেছি তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান হাটের একটি স্কুলের শিক্ষক। আমার কাছে মনে হয়েছে এখানে প্রসূতি নারীর পরিবারের অবহেলা রয়েছে।
চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সোভন কুমার বসাক বলেন, পূর্বে সিজার হওয়া রোগীকে বাসায় রেখে নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা করা ঠিক হয়নি । এতে পল্লী চিকিৎসকের ভূমিকা থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ