মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্বামীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা!

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০২২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।।

কক্সবাজার শহরে আদালত পাড়া থেকে তুলে নিয়ে নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ১৫ মার্চ দুপুরে ওই নারী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেছেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় ওই নারীর বর্তমান স্বামী ফিরোজ আহমদকে।
অপরাপর আসামীরা হলেন, রাসেল উদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও মো. শরীফ। এদের মধ্যে মো. শরীফ ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী। রাসেল উদ্দিন, নুরুল ইসলাম শহরের বাসিন্দা ও আপন সহোদর।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ওই নারীর লিখিত এজাহারটি মঙ্গলবার দুপুরে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। থানার মামলা নং-৫৬,জিআর নং-১৭৭।
ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও আওলিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা ওই নারী দায়েরকৃত মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ফিরোজ ও শরীফের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে তিনি কক্সবাজার আদালত এলাকায় এক আইনজীবীর কার্যালয় থেকে বের হলে আসামিরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে ফিরোজ ও শরীফসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন এসে তাঁর হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেন। ফিরোজ ওই নারীর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন।
এরপর কক্সবাজার ল্যাবরেটরি স্কুলসংলগ্ন (বাহারছড়া) এলাকায় ফিরোজের আত্মীয় ফজল কাদেরের বাসায় নিয়ে ওই তরুণীকে আটকে রেখে ফিরোজ ও শরীফ তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে একইভাবে নুরুল ইসলামও তাঁকে ধর্ষণ করে তাঁর মুঠোফোন ও টাকা নিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পর রাসেল উদ্দিন ওই কক্ষে এসে নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে অথবা বাড়াবাড়ি করলে মানব পাচার মামলায় চালান করে দেওয়ার হুমকি দেন রাসেল। একপর্যায়ে রাসেলও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
দলবদ্ধ ধর্ষণের কারণে একপর্যায়ে ওই তরুণী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর রাসেল ও শরীফ ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসেন। এ দৃশ্য দেখে রাস্তায় থাকা এক ব্যক্তি তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল দিলে আসামিরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে।
ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন,এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করবে।
এদিকে, সংঘবদ্ধ কথিত ধর্ষণের ঘটনায় স্বামী সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে,কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বর্তমান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ‘ঝগড়া’র
ঘটনাকেই পরদিন দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ ঘটনা বলে প্রচারিত
হয়েছে। ‘ধর্ষণে’র এই ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মূলতঃ ওই নারী প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের স্বার্থ হাসিলের জন্য ‘স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া’কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে চারজন যুবককে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ওই নারীর স্বামী ফিরোজ আহমদ নিজেই এমন দাবি করেছেন। তিনি মঙ্গলবার (১৫
ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটেনি। বরং তার স্ত্রীই সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি)
সকালে কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে তাকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করার চেষ্টা
করেন। নিজের মান-সম্মানের কথা ভেবে প্রধান সড়ক থেকে নিজেকে সরিয়ে শহরের
শহীদ সরণীতে এমপি আশেক উল্লাহ রফিকের বাড়ির সামনে চলে যান।
তার দাবি, স্ত্রী সেখানেও তার শার্টের কলার ধরে টানাহেচড়া করে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। ওই সময় পথচারিরা তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
ফিরোজ আহমদ বলেন, আমার স্ত্রী যখন আমাকে হেনস্থা করতেই থাকে
তখন আমি বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে পাশেই আমার মামা বাড়িতে ঢুকে পড়ি। ওই সময়
আমার বয়োবৃদ্ধা মামী আমার স্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ওই ঘটনাকে স্ত্রী প্রতিপক্ষের লোকজনের
সাথে যোগসাজস করে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণে’র ঘটনা সাজিয়ে থানায় এজাহার দেন
এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে এটিকে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’ বলে চালানোর চেষ্টা করেন।
ওই নারীর স্বামী ফিরোজ আহমদ দাবি করেন, মামলায় দেয়া এজাহারে যে ৪ জনের
নাম উল্লেখ করে তাদের ‘ধর্ষণ মামলার আসামি’ করেছে তাদের মধ্যে তিনজনের ঘটনার সাথে কোন সম্পর্কই নাই। বরং আসামি তালিকায় থাকা
ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী এলাকার মোহাম্মদ শরীফ আগামি নির্বাচনে
একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার ইমেজ নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে তাকে আসামি
করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নাম উল্লেখ থাকা অপর দুই আসামি আপন দুই ভাই রাসেল উদ্দিন ও নুরুল
ইসলামও এই ঘটনার সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নয়। বরং তারা ঘটনার সময় নিজেদের
বাড়ি থেকে একটি বিয়ে অনুষ্টানে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। পথিমধ্যে রাস্তায়
আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ঝগড়া দেখে আমাদের দুজনকেই সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা
করেন। পরে তারা তাদের কাজে চলে যান। অথচ আমার স্ত্রী এজাহারে তাদেরও ধর্ষক সাজিয়েছে।
ফিরোজ আহমদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসামি তালিকায় এবার বাকি থাকি
আমি। এখন আপনারাই বলেন, আমার স্ত্রীকে আমি কেন ধর্ষণ করবো?
ফিরোজ আহমদের দাবি, কথিত ধর্ষণ মামলার বাদী ওই নারী আমার দ্বিতীয় স্ত্রী। ২০২০ সালে তিনলাখ টাকা দেনমোহরে রেজিঃ কাবিননামায় বিয়ে হয়। এটিও তার (স্ত্রী) দ্বিতীয় বিয়ে।
আমার প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগের কারণে দ্বিতীয় স্ত্রী বারবারই সংসারে অশান্তি তৈরি করেন। এই কারণে দুই স্ত্রীকে দুই জায়গায় আলাদা ঘর করে দিয়েছি। তারা দুজন দুই ঘরে থাকেন। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর
কাছে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রী ওই নারী এটা কোন ভাবেই মানতে পারেন না। এ নিয়ে আমাদের সংসারে অশান্তি লেগেই আছে।
তার মতে, সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে দ্বিতীয়
স্ত্রী ওই নারী আমার কাছে কোন কারণ ছাড়াই ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং আমাকে হেনস্থা করতে থাকে। পারিবারিক ঘটনা রাস্তায় এসে পড়াটাই মূলত ঘটনা। এখানে ধর্ষণের মতো কোন ঘটনাই ঘটেনি।
তিনি স্ত্রীর সাজানো ধর্ষণ ঘটনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান। তার স্ত্রী মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে
সম্মানহানি, হয়রানী ও বিশেষ মহলের মিশন বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে দাবী করেন ফিরোজ।
উল্লেখ্য, কথিত ধর্ষণ মামলার বাদী ওই নারী ফিরোজ আহমদকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।বিয়ের পর ওই নারীর সাবেক স্বামী মুর্শেদ মিয়া কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানাধীন আউলিয়াবাদ ঢালারদোয়ার এলাকার গৃহবধুকে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় জড়িত সাবেক স্বামী মুর্শেদ মিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। গৃহবধুর বাবা বাদী হয়ে গত বছরের ২৪ মে ঈদগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
তৎসময়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঈদগাঁও থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামাল হোসেন মামলার প্রধান আসামী মোর্শেদ মিয়াকে গ্রেফতারের চেস্টা চালালে তিনি স্বেচ্ছায় গত বছরের ২৫ মে কক্সবাজার (সদর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করেন। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
সেই থেকে ওই নারীর সাবেক স্বামী মুর্শেদ কারাগারে রয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ