মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক অরক্ষিত ; প্রতিনিয়ত লুট হচ্ছে মাদার ট্রি

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৪ মার্চ, ২০২২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে পর্যটননগরী কক্সবাজার যাওয়া আসার পথে চকরিয়ার খুটাখালীতে সড়কের দু’পাশে চোখে পড়ে মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক বা জাতীয় উদ্যান। দেশের প্রথম এবং সর্ববৃহৎ এই উদ্যানের ৩৯৬ হেক্টর বনভুমি জুড়ে খাতা কলমে দাঁড়িয়ে আছে অন্তত ১০ হাজার ৩৩৭টি শতবর্ষী মাদার ট্রি ( মা গর্জনগাছ)। পাশাপাশি অন্যান্য প্রজাতির গাছও রয়েছে এখানে। বর্তমানে সাড়ে ৫ হাজার মাদার গর্জন গাছও নেই।
বনকর্মীদের যোগসাজশে মাদার গর্জন গাছ পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
মুল্যবান গাছ কেটে পাচারের পাশাপাশি জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে বনের গাছপালা ও ঝোপঝাড় পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে মাদার গর্জন বাগানটি।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহা-সড়কের দুই পাশে মাদার গর্জন ট্রি সমৃদ্ধ এই বনভূমিকে
২০০৫ সালে ন্যাশনাল পার্ক ঘোষণা করেন সরকার। তবে এর কার্যক্রম শুরু করা হয় ২০০৪ সালে। জাতীয় উদ্যান সংরক্ষণে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা ও একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয় তৎসময়। জাতীয় উদ্যান ঘোষণার ১৬ বছর পার হতে চলছে। কিন্তু
রহস্যজনক কারণে তা থমকে আছে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের তথ্যানুযায়ী, মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কটি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন। উদ্যানের এক থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার পরিবার বনভুমি দখল করে অবৈধভাবে বসবাস করছে। এসব পরিবার মূলত কৃষিকাজ, লবণ চাষ ও মৎস্য চাষের ওপর নির্ভরশীল। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে এখানেও ক্রমান্বয়ে রোহিঙ্গার চাপ বাড়ছে। বনভুমি দখলের পর কেনা-বেচা হচ্ছে। এতে করে এই জাতীয় উদ্যান একেবারেই অরক্ষিত হয়ে গেছে।
একটি সুত্র জানায়, এজন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা অরণ্য ফাউন্ডেশনের কাছে ১৫ কোটি টাকা সহযোগিতা চেয়ে একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছিল বনবিভাগের পক্ষ থেকে। কিন্তু জাতীয় উদ্যান ঘোষণার ইতোমধ্যে ১৬ বছর পার হতে চললেও ওই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এই উদ্যান রক্ষায় চারিদিকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত এই উদ্যানের বড় বড় মাদার গর্জন গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও গাছের গুড়ায় তুইত্তা দিয়ে আকাশ চুম্বি গর্জন গাছ মেরে ফেলা হচ্ছে। গর্জন বাগানের মাদার ট্রি লোপাট হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
তবে, বনবিভাগ বলছে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের শতবর্ষীয় মাদার গর্জন গাছ রক্ষায়। এমনকি সিএমসি কমিটি গঠন করে মাদার গর্জন গাছ রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকে বলেন, বন দখলের উদ্দেশ্যেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বনে আগুন দিয়ে থাকে। আগুনে গাছপালা পুড়ে সাফ হয়ে গেলে সুবিধাজনক সময়ে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বনভূমি দখলে নেওয়া হয়। পরে তা স্ট্যাম্প মুলে দখল স্বত্ব বিক্রিও করা হচ্ছে।
বনে কারা আগুন দিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত নন জানিয়ে মেদাকচ্ছপিয়া বিট কর্মকর্তা শাহীন আলম বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে জাতীয় উদ্যান।
জাতীয় উদ্যানের আরেক অংশ নরফাঁড়ি বনে আগুন লাগার বিষয়ে খুটাখালী বনবিট কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ একটি বনখেকো চক্র নরফাঁড়ি গর্জনবাগানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। সেই আগুন দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন খবর দেয়। এরপর সহকর্মীদের নিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুনে উদ্যানের সংরক্ষিত বনভূমির দেড় একরের মতো জায়গার ছোট ছোট গাছপালা ও ঝোপঝাড় পুড়ে গেছে।
এ ব্যাপারে ফুলছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক বাবুল বলেন, জাতীয় উদ্যান ঘোষণাকালে এই পার্কের আওতায় সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মাদার ট্রি থাকলেও বনদস্যুদের অব্যাহত নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে সদ্যসমাপ্ত জরিপে সাড়ে ৫ হাজার শতবর্ষী গর্জন গাছ রয়েছে।
ওই রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, বনে যখনই আগুনের খবর পাচ্ছি, তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো হচ্ছে। কিছু লোক কয়লা তৈরির জন্য বনে আগুন দিয়ে থাকে। হয়তো সেখান থেকে আগুন লাগতে পারে।
মাদার গর্জন গাছ ও বনভুমি বিক্রিতে বনকর্মীরা জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ