বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:২৩ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

ধর্ষণ চেষ্টা মামলা তুলে নিতে ভিকটিমসহ তার স্বামীকে আটকিয়ে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ধর্ষণ চেষ্টা মামলা তুলে নিতে ভিকটিমসহ তার স্বামীকে আটকিয়ে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ।

আব্দুর রহিম/সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার বাদি (ভিকটিম) ও তার স্বামীকে আটকিয়ে রেখে শারিরীক নির্যাতনসহ সাদা কাগজে জোরপূর্বকভাবে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৭) সকালে ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভূক্তভোগী পরিবার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের দুই সন্তানের জননী (৩৮)কে প্রায় উত্ত্যক্ত করতো ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামের হারাধন চকিদারের ছেলে রনজিত। একপর্যায়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূর স্বামী ব্যবসায়ীক কারণে বাইরে থাকলে গৃহবধূকে জোরপূর্বকভাবে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় রনজিত। ওইসময় ধর্ষণ চেষ্টায় বাঁধা দিলে রনজিতের আঘাতে গুরুত্বরভাবে আহত হয় গৃহবধূ। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে পালিয়ে যান রনজিত। এঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় ভূক্তভোগী পরিবারটি মামলা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৮১/২২) নির্যাতিত ওই গৃহবধু। ওইদিন আদালতটির বিচারক এম.জি আযম গৃহবধূর জবানবন্দী রেকর্ড করে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে একটি পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের আদেশ দেন। তবে অভিযুক্ত রনজিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সমর্থক হওয়ায় ভূক্তভোগী গৃহবধূর দায়েরকৃত মামলাটি তুলে নিতে চাপ দেন ওই জনপ্রতিনিধি। তবে পরিবারটি মামলা তুলে নিবেনা বলে জানালে রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গ্রাম পুলিশ দিয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে বাসা থেকে তুলে আনেন জনপ্রতিনিধি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ভূক্তভোগী পরিবারটিকে জোরপূর্বক পরিষদে নিয়ে আসার পর ভীতি সঞ্চার করে মামলাটি তুলে নিতে বলা হয়। এসময় ভিকটিমের স্বামী মামলা তুলে নিবে না বলে জানালে মারপিট করা হয়। প্রাণভয়ে গৃহবধুর স্বামী পালিয়ে গেলেও গৃহবধূকে আটকে রাখা হয়।
তারা আরও বলেন, উপস্থিত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ভিকটিম (গৃহবধূ) সাহায্য চেয়ে এক গণমাধ্যম কর্মীকে ফোন করেন। এসময় তার স্বামীকে বাঁচাতে এবং তাকে বন্দীদশা থেকে উদ্ধারের অনুনয় বিনয় করতে থাকেন।
এব্যাপারে ভিকটিমের স্বামী জানান, রবিবার সকালে দুজন গ্রাম পুলিশ আমাদেরকে জোরপূর্বক বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে। ওই সময় মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে আমি দৌড়ে পালিয়ে আসলেও আমার স্ত্রীকে আটকিয়ে রাখে।
এবিষয়ে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ বলেন, পরিষদে যাওয়ার সাথে সাথে আমার স্বামীসহ আমাকে মারপিট করতে থাকেন চেয়ারম্যানের লোকজন। ওইসময় আমার ম্বামী প্রাণভয়ে পালিয়ে গেলে আমাকে একটা রুমের ভিতরে আটকে রাখা হয়। এক সাংবাদিকের সাথে ঘটনার বিস্তারিত জানাই। সাংবাদিকের সাথে কথা বলায় কয়েকজন গ্রামপুলিশ আমার হাত থেকে আমার ফোন কেড়ে নেন। আর এভাবে কয়েকঘন্টা পর্যন্ত নির্জন একটা কক্ষে আমাকে আটকিয়ে রেখে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। তবে আমি আমার জীবন চলে গেলেও মামলা তুলে নেব না জানালে ওইসময় আমাকে শারীরিক ও মানুষিকভ নির্যাতন করেন ইউপি সদস্য বিস্টু সরকারসহ অনেকে। একপর্যায়ে বিকালে আমাকে দিয়ে জোরপূর্বকভাবে কয়েকটি সাদা কাগজে সই করিয়ে নেয় চেয়ারম্যান। পরে আমাকে নির্যাতনকারী ব্যক্তিদের সাথে আমাকে বাসায় ফেরত পাঠান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি বাসাতে পৌঁছানোর সাথে সাথে আমার দায়েরকৃত মামলাটির আসামী রনজিত, ইউপি সদস্য বিস্টু সরকার আমার বাড়িতে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় তারা বলেন, ‘তুই যদি মামলা তুলে না নিস তাহলে তোর স্বামীর খবর আছে। ওরে আজীবনের জন্য গুম করে দিবো।’ এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই গৃহবধূ বলেন, পরিষদ থেকে আমার স্বামী প্রাণভয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে একবার আমার কথা হয়েছে। তার পর থেকে তার সাথে আমার কথা হয়নি। আমি জানিনা আমার স্বামী বর্তমানে কী অবস্থায় আছে? আপনারা যেভাবে হোক আমার স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) গোলাম কবির বলেন, আদালত থেকে গৃহবধূর দায়েরকৃত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণকরে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সদর থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে গৃহবধূর দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে গৃহবধূসহ তার স্বামীকে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন করার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ওই পরিবারটির পুরো নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। একারণে ভুক্তভোগী ওই পরিবারকে যেকোন মারফত পুলিশের সাথে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ