বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ  মুকুন্দ মধুসূদন পুর গ্রামে পাল পাড়ায় ইটের পাজা গুলোতে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ  মুকুন্দ মধুসূদন পুর গ্রামে পাল পাড়ায় ইটের পাজা গুলোতে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব।

আব্দুর রহিম/সাতক্ষীরা  জেলা প্রতিনিধি:

বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে কুমারপাড়া বা পালপাড়ার লোকজন এখন মাটির হাড়ি পাতিল তৈরীর পরিবর্তে চলছে  ইট পড়ানোর নামে মিনি  ইটভাটায় হাজার হাজার মন কাঠ পোড়ানোর মহাউৎসব।

ঘন জনবসতি পূর্ণ এলাকায় একদিকে যেমন কালো ধোঁয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ অন্যদিকে গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়লেও দেখার কেউ নাই।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দ মধুসূদনপুর গ্রামের কুমার/পাল পাড়ায় বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে হাঁড়িপাতিলের নাম করে গড়ে উঠেছে একাধিক পাজা এর নামে মিনি ইটভাটা। আর এই সমস্ত অবৈধ কাজের সুযোগ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রশাসন বছর বছর ফায়দা লুটছেবলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান। মুকুন্দ মধুসূদন পুর গ্রামের আজগর আলী, আলমগীর, আব্দুল কাদের, সমীর দাস, কৃষ্ণ গোপাল, ইলিয়াস হোসেন, আকবর আলি সহ একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান মুকুন্দ মধুসূদন পুর গ্রামে প্রায় শতাধিকেরও উপরে কুমার পাল পরিবার বসবাস করত। অনেকে এলাকা ছেড়ে এখন ভারতে বসবাস করছে।

অধিকাংশ চলে যাওয়ার পরও এখনো ১৫/২০ঘর কুমার পরিবার এখানে বসবাস করছে। এরমধ্যে মুকুন্দ মধুসূদন পুর গ্রামের রাধাপদো পালের পুত্র শম্ভু পাল, মৃত নেতাই পালের পুত্র বাসুদেব পাল, দিদেন পালের পুত্র প্রভাস পাল, মৃত কানাই বিশ্বাস এর পুত্র নিরাপদ পাল, মধুসূদন পাল এর পুত্র দুলাল পাল এবং দাউদ কারিগরের পুত্র আনোয়ার কারিগর এখন বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে হারি পাতিল তৈরি করে পড়ানোর পরিবর্তে পাজা য় ইট পুড়িয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। আর এখন এই ব্যবসার নামে পাল পাড়ায় মিনি ইটভাটা গড়ে তুলেছে। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মন কাঠ পোড়ানো হয় বছরের পর বছর। এইভাবে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই।

মাঝেমধ্যে সাতক্ষীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন গেলে নগদ নারায়ণ এ তুষ্ট হয়ে মুখে কুলুপ এঁটে চলে যায় বলে এলকাবাসী সাংবাদিকদের জানান। এতে করে জ্বালানি কাজে কাঠ ব্যবহারের জন্য এলাকার গাছ কেটে পূজার করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। অন্যদিকে প্রতিদিন পাজা এর কালো ধোঁয়ায় এলাকার মানুষ বসবাস করতে দারুন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পালপাড়া বা আশপাশের গ্রামে বসবাসকারীদের মধ্যে রোগবালাই, জ্বর, সর্দি, কাশি প্রতিনিয়ত লেগেই আছে।

মুকুন্দ মধুসূদন পুর গ্রামের পালপাড়া এখন এলাকাবাসীর জন্য বিষ ফোড়া হয় দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা এলাকাবাসী প্রতি বছর শীতের শুরুতে মৌসুম শুরু হওয়ার আগে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সহ পরিবেশ অধিদপ্তর এ লিখিত ও মৌখিক ভাবে বলেও কোন কাজ হয়নি তাই বিষয়টি আমরা দ্রুত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসীর বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায় হাজার হাজার মন কাঠের স্তুপ এবং সারি সারি পাজা বা মিনি ইটভাটায় চুল্লিতে এবং ইট বানানোর কাজে শত শত নারী-পুরুষ হাড়ি পাতিল এর পরিবর্তে ইট বানানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

তবে এ প্রসঙ্গে পাজা মালিক শম্ভু পাল, নিরাপদ পাল, দুলাল পাল, বাসুদেব পাল সহ অন্যান্যরা সাংবাদিকদের জানান এখন আর হাটে বাজারে হাড়ি পাতিল কেউ কেনে না। তাই বাপ-দাদার পেশা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলেও পেট তো বন্ধ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এই কাজ করে পেট চালাতে হচ্ছে। তা না হলে বউ-বাচ্চাদের খাওয়ামু কি?

এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান,

জেলাজুড়ে ভাটা মালিকদের কাঠ পোড়ানো বন্ধ করতে ঐদিকে আর দেখা যাচ্ছে না। ইমেইলে অবৈধ পাজা মালিকদের তালিকা পাঠিয়ে দিতে বলেন। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কালীগঞ্জের রোকনুজ্জামান বাপ্পির নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি আরও জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের অফিসে যেয়েও না পাওয়ায় মুঠোফোনে তার সঙ্গে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ