বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:২১ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

সরাইল-অরুয়াইল সড়ক সংস্কার হবে কবে,দূর্ভোগের শিকার ২লক্ষাধিক মানুষ

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সরাইল-অরুয়াইল সড়ক সংস্কার হবে কবে,দূর্ভোগের শিকার ২লক্ষাধিক মানুষ।

আব্দুল আওয়াল খান/সরাইল প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-অরুয়াইল সড়কটি সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বেহাল দশা। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এতে করে যাত্রীদেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সংস্কার না হওয়ায় দূর্ভোগের শিকার ২লক্ষাধিক মানুষ। কবে হবে সড়কটির সংস্কার? আদৌ কি সংস্কার হবে সড়কটি? চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর সেতুটি থেকে পাকশিমুল ইউনিয়নের ভূইশ্বর বাজার পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়ক সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গত বছরের বর্ষায় পানির ঢেউয়ের আঘাতে দু’পাশ ভেঙ্গে সড়কটি সরু হয়ে গেছে। রাস্তার পিচ উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। কদিন বাদেই বর্ষা শুরু হয়ে যাবে, বর্ষার আগে সংস্কার করা না হলে হাওরে বিলীন হয়ে যাবে সড়কটির অনেকাংশ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সরাইলের উত্তর প্রান্তে হাওড় এলাকায় ১১ বছর আগে নির্মাণ করা হয় সরাইল-অরুয়াইল সড়কটি। উপজেলা সদরের হাসপাতাল মোড় থেকে অরুয়াইল বাজার পর্যন্ত এ সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪ কিলোমিটার ও ১২ ফুট প্রস্থ ছিল। ওই পাকা সড়কটি নির্মাণের ফলে উপজেলার কৃষিনির্ভর চুন্টা, পাকশিমুল ও অরুয়াইল ইউনিয়ন এবং নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ও কুন্ডা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের ২ লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এসেছে। এটি ওই এলাকার একমাত্র সড়ক।

কিন্তু সড়কটি নির্মাণের পর থেকে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে যায়। গত বছরের জুন মাসে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়। বাকি রয়েছে চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর সেতু থেকে পাকশিমুল ইউনিয়নের ভূইশ্বর বাজার পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার অংশ। এ অংশটি পুরোপুরি হাওরের মধ্যে পড়েছে। তাই এ অংশটি প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আড়াই কিলোমিটার অংশের দুই পাশে ভেঙ্গে গেছে। কোনো কোনো স্থানে এখন এর প্রস্থ আছে চার-পাঁচ ফুট। বাকি অংশ পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বিপরীতমুখী দুটি অটোরিকশাও অতিক্রম করতে পারে না। যানবাহন পাশের খাদে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগামী বর্ষার আগে ভাটি অঞ্চলের একমাত্র সড়কটি সংস্কার করা না হলে বর্ষাকালে দুই লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাড়ির চালক আনিছ মিয়া (২৫), নাজিম উদ্দিন (২২), জহিরুল ইসলাম (৩৫) বলেন, সড়ক সংস্কার না হওয়ার কারণে ৩-৪ ঘন্টা অতিরিক্ত সময় দিতে হয়। এখন সড়কের মধ্যে প্রচুর ধুলাবালি । ধুলাবালির জন্য ওই এলাকার প্রায় মানুষেরই শ্বাসকষ্টসহ নানান ধরণের অসুখের সমস্যা হচ্ছে। আর বৃষ্টি হলে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। গাড়ি চালানো সম্ভব হয়না। গাড়িরও অনেক ক্ষতি হয়। তখন এখানকার মানুষের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। তাই সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হয়, তারা এই দাবি সরকারের কাছে জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসীন্দা মো. মন মিয়া (৫০) ও আলিফ ইসলাম (২০) বলেন, অসুস্থ রোগী নিয়ে গাড়ীতে যেতে পারি না হেঁটে যেতে হয়। সেজন্য আমরা নিজ উদ্যোগে সড়কটিতে কিছুটা মাটি ফেলেছি। কিন্তু গাড়ির চাকার বাড়িতে আর বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানিতে মাটি অন্যত্রে চলে যায়। তখন আবার আমাদের চলাচলের সমস্যা হয়।

অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সড়কটিতে ছোট-বড় গর্ত থাকায় প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর ওই সড়কে যাতায়াত একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে গেলে উল্টো অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। অনেক সময় গর্ভবতী মহিলারা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যাওয়ার সময় সড়কের মধ্যে সন্তান প্রসব হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, আসন্ন বর্ষার আগে সড়কটির সংস্কার করা না হলে ঘাগড়াজোর -ভুইশ্বর অংশটি হাওড়ে বিলীন হয়ে যাবে। সেইসাথে দুই লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিবন্ধী হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ