বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

ভালো খাবো ভাল থাকবো 

মোঃ জহিরুল হক
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিরাপদ খাদ্য পণ্য সরবরাহ নিয়ে “ভালো খাবো ভাল থাকবো” এই শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে Grammo Food ‘গ্রাম্য ফুড’র পথ চলা।

টাকা নেই, আমার দ্বারা ব্যবসা হবে না, বিশ্বস্ত মানুষ নেই, এসব ভেবে অনেকেই এক ধাপ সামনে আগান আবার তিন ধাপ পিছনে ফিরে যান । উদ্যোক্তা হওয়ার মতো সাহস দেখাতে পারে খুব কম সংখ্যক মানুষ। তেমনি এক তরুণ উদ্যোক্তার কথা জানাবো আজ-

মনের মাঝে সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্যোক্তা দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং বিখ্যাত প্রায় ১৩০ টিরও অধিক পণ্য নিয়ে গড়ে তোলেছেন ‘গ্রাম্য ফুড’ । এসব পণ্য উদ্যোক্তা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত এবং সংগ্রহ করে থাকেন।

নিজের ব্যবসা নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবেদনের সঙ্গে কথা বলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা হৃদয় হাসান। উদ্যোক্তা হৃদয় হাসানের আইডিয়া আর বন্ধুর দেয়া পুঁজি নিয়ে কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় সেই গল্পই তুলে এনেছেন ‘বাংলাদেশ প্রতিবেদন’র বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ জহিরুল হক।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: ব্যবসায় কীভাবে এলেন?

গ্রাম্য ফুড: বাবার হাত ধরেই আমার ব্যবসায় আসা। বাবা যখন বাজারে দোকান নিয়ে বসতেন তখন আমি ছোট ছিলাম। আমিও বাবার সাথে বসতাম।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: উদ্যোক্তা হবেন এই ভাবনা মাথায় কখন কিভাবে আসলো?

গ্রাম্য ফুড: পড়াশোনা শেষ করে, শিক্ষকতা করার পাশাপাশি অনলাইনে ছোট্ট পরিসরে শেরপুর জেলার তুলসী মালা চাল বিক্রি শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো সাড়া পাওয়ায় সেখান থেকেই উদ্যোক্তা জীবনের শুরু।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: কি কারনে মনে হয়েছিল – আপনি কোন একটি উদ্যোগে যোগ দেবার চেয়ে – নিজে উদ্যোগ নিলে ভাল করবেন?

গ্রাম্য ফুড: আমার ভিতরে একটা স্বপ্ন ছিল। আমার স্বপ্ন আমাকে উদ্যোক্তা বানাতে সাহায্য করছে। আমি চেয়েছি সবসময় নিজের জন্য নয় মানুষের জন্য কিছু করব। এজন্যই প্রথম থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: শুরুর চ্যালেন্জগুলো কি কি ছিল? (বিনিয়োগ/ ইত্যাদি)?

গ্রাম্য ফুড: আমি যখন নিরাপদ খাদ্য পণ্যের কথা বলতাম, তখন সবাই হাসি ঠাট্টা তামাশা করত, পড়াশোনা করে চাল তেল বিক্রি করবে! তাহলে পড়াশোনা করার কি দরকার ছিল। কিন্তু আমার ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তি , তাই শুরু করতে পেরেছিলাম। শুরু করতে যে মূলধন আমার দরকার, যা আমার ছিল না, আমার ছিল শুধু আইডিয়া। আমার বন্ধুকে শেয়ার করায় সে আমাকে ফান্ডিং করে। সেই থেকে শুরু ‘গ্রাম্য ফুড’র এর পথচলা।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: পন্য বা সেবাগুলোর মধ্যে আপনার নিজের সৃষ্টি বা ভ্যালু এডিশন কোনগুলো?

গ্রাম্য ফুড: আমার সবগুলো পণ্যই আমার নিজের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা বা উৎপাদক থেকে সংগ্রহ করা। আমার নিজস্ব প্রোডাকশন শেরপুর জেলার সুগন্ধি তুলশীমালা চাল, ঢেঁকিছাটা লাল চাল, পাইজন ভাতের চাল, হাতে ভাজা মুড়ি, কাঠের ঘানি ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেল, গাওয়া ঘি, কালোজিরা তেল, ইত্যাদি।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: আজকে আপনি যতখানি সফল তার পিছনে উল্লেখযোগ্য কারনগুলো কি?

গ্রাম্য ফুড: সততা, পণ্যের গুণগত মান, কাস্টমারের সাথে সুন্দর ব্যবহার, কমিটমেন্ট রক্ষা করা, বিক্রিত পণ্য ফেরত নেওয়া, রিটার্ন ও রিফান্ড করা এগুলো আমার সফলতার কারণ বলা যায়।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: আলটিমেট গোল?

গ্রাম্য ফুড: গ্রাম্য ফুডের নিরাপদ খাদ্যপণ্যের ২০২৩ সালের মধ্যে ১০০টি আউটলেট করার স্বপ্ন দেখছি।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: কোথায় গিয়ে থামতে চান? কোথায় থামা উচিৎ বলে মনে করেন?

গ্রাম্য ফুড: প্রতিটা জেলায়, প্রতিটা জেলা শহরে যখন ‘গ্রাম্য ফুড’র নিরাপদ খাদ্য পণ্যের আউটলেট পৌঁছে যাবে। তখন আর আউটলেট না বাড়িয়ে মানুষের জন্য মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবো, ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: কি কি অর্গানিক পণ্য নিয়ে কাজ করছে গ্রাম্য ফুড ?

গ্রাম্য ফুড: মূলত ১১ ধরনের অর্গানিক পণ্য নিয়ে কাজ করছি। যেমন-

বিশুদ্ধ দেশীয় তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য, বাছাই করা সেরা মানের মসলা, খাঁটি মধু, হোম মেড আচার, অর্গানিক ও ক্যামিকেল মুক্ত শুটকি, বাদাম ও খেজুর আইটেম, রেডি টু কুক, সিজন বেস্ট পণ্য, দেশের বিখ্যাতসব পণ্যসহ প্রায় ১৩০ টিরও অধিক পন্য ।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন: গ্রাম্য ফুড’র ফ্রাঞ্চাইজি আউটলেট করতে আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি?

গ্রাম্য ফুড: বর্তমানে ‘গ্রাম্য ফুড’র ফ্রাঞ্চাইজি আউটলেট চালু করার সুব্যবস্থা আছে, কোনো উদ্যোক্তা চাইলে ‘গ্রাম্য ফুড’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। শর্তসাপেক্ষে ‘গ্রাম্য ফুড’র ফ্রাঞ্চাইজি আউটলেট স্থাপন করে দিচ্ছি আমরা।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন এর পক্ষ থেকে অনেক শুভকামনা রইলো।

গ্রাম্য ফুড’র এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে প্রতিবেদনের পাঠক এবং কর্তৃপক্ষকে জানাই অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা ।

গ্রাম্য ফুড’র উৎপাদিত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- শেরপুর জেলার জেলা ব্র্যান্ডিং তুলশীমালা চাল (পোলাও চাল), ভাতের জন্য কাটারি, নাজির ও পাইজম চাল, হাতে ভাজা মুড়ি, ঢেঁকি ছাটা লাল চাল, ঘি, নিজস্ব কারখানায় তৈরি আচার, নারিকেল লাড্ডু। এছাড়াও নিজস্ব তত্ত্বাবধানে আরো কিছু পণ্য সংগ্রহ করে থাকেন ও তৈরি করেন।

উদ্যোক্তা হৃদয় হাসান ‘গ্রাম্য ফুড’ নামে অনলাইন প্লাটফর্ম এবং গ্রেট ওয়াল সিটি, গাজীপুর চৌরাস্তা একটি আউটলেট দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে দ্বিতীয় আউটলেট রয়েছে কৃষি গেইট, জয়দেবপুরে।

সারাদেশে বিভাগীয় শহরগুলোতে ‘গ্রাম্য ফুড’র পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে এবং তুলশিমালা চাল রপ্তানি হচ্ছে আফগানিস্তানে । নিজস্ব তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪২ টি পণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে । বর্তমানে তিনি অনলাইন এবং অফলাইন থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মত মাসিক বিক্রি করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পৌষ মেলা পরিদর্শনে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের হাতে ‘গ্রাম্য ফুড’র এর ঢেঁকিছাটা লাল চাল তুলে দেন উদ্যোক্তা হৃদয় হাসান। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পৌষ মেলাসহ, বিসিক এবং বিভিন্ন অনলাইন মেলায় ‘গ্রাম্য ফুড’ অংশগ্রহণ করে। বিসিক অনলাইন পণ্য মেলা-২১, সেরা বিক্রেতা হিসেবে ক্রেস্ট ও উপহার গ্রহণ করেন উদ্যোক্তা হৃদয় হাসান।

বাবা মোঃ ফরহাদ আলী এবং মাতা- অঞ্জলী বেগমে’র বড় ছেলে হৃদয় হাসান বেড়ে উঠেন শেরপুর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। শেরপুর সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ