শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও আগুন : নেপথ্যে উগ্রবাদী আরসা

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।।

কক্সবাজারের উখিয়া কাম্পে আগুনে পুড়ে গেছে ২৯ বসতি। তবে কেউ হতাহত হয়নি। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ভোর রাত ২টার দিকে উখিয়ার ইরানী পাহাড়ের ৫ নম্বর ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও এপিবিএন সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন দেয়া থেকে শুরু করে মাদক পাচার, অপহরণ, ডাকাতি, মুক্তিপম আদায়, হত্যা, মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত আরসা,আরএসও, আল ইয়াকিন ও ইসলামি মাহাস সহ কয়েকটি উগ্রবাদী সংগঠন, অভিযোগ রোহিঙ্গাদের ।
মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ভাই মো. শাহ আলীকে (৫৫) কে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করার পরই এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১৪ (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক নাইমুল হক জানান, মঙ্গলবার ভোর রাতে ক্যাম্পে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আমাদের লোকজন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্যাম্প-৫ এর আওতাধীন মেইন ব্লক-বি, সাব ব্লক-বি/৩ এবং ডি/২ তে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। উক্ত আগুনে সাব ব্লক-বি/৩ এর ২৫ টি এবং ডি/২ এর ৪ টি বসতি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি বলে জানান এপিবিএন অধিনায়ক।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা নামে একটি শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০০টি ঘর পুড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় হারিয়েছে।
এর আগে, গত ২ জানুয়ারি উখিয়ার বালুখালী ২০ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত করোনা হাসপাতালে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত না হলেও হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারের ১৬টি কেবিন পুড়ে যায়।
এছাড়া গত বছরের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীতে আরেক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জন রোহিঙ্গার। আগুনে পুড়ে যায় ১০ হাজারের বেশি ঘর।
এদিকে, রবিবার ১৬ জানুয়ারী ভোররাতে ড্রোন ব্যবহার করে আর্মড পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করা হয় মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ভাই মো. শাহ আলীকে (৫৫)। এ তথ্য জানিয়েছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, পুলিশ সুপার নাইমুল হক।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কিছু দুষ্কৃতিকারী অবস্থান।এবং তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই
এই অভিযান চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আরসা নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর সাথে তার ভাই মো. শাহ আলীর যোগাযোগ ছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে কোন ধরনের অপতৎপরতা আছে কিনা-এ বিষয়ে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে আটক মো. শাহ আলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কতদিন ধরে, কোথায়, কিভাবে অবস্থান করছিলেন সে সম্পর্কে কোন তথ্য জানাননি এপিবিএন এর এই কর্মকর্তা।
নাইমুল হক  বলেন, ড্রোন দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পরবর্তীতে শাহ আলীকে আটক করার সময় সেখানে চোখ বাধা অবস্থায় সাদিকুল নামে একজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। সাদিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তাকে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন এবং  টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিতে না পারলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়। পরবর্তীতে  ওই স্থান  থেকে অস্ত্র, ইয়াবা ও  টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আটক শাহ আলীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উখিয়া থানায় সোর্পদ করা হয়।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ তাদের এক রিপোর্টে বলছে, রাখাইন এবং আরবী, এই দুটি ভাষাই তিনি অনর্গল বলতে পারেন। ২০১২ সালে আতাউল্লাহ সৌদি আরব থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। এরপর ২০১৭ সালে আরাকানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর তার নাম শোনা যায়।
২০১৭ সালে মিয়ানমার জান্তা সরকারের রোষানলে পড়ে নিজের ভূখণ্ড ছেড়ে পালিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য করা হয় ক্যাম্প। সেখানে বসবাসের শুরু থেকেই ‘আরসা’র নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের অপকমের অভিযোগ পাওয়া যায়।
সর্বশেষ গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কুতুপালং ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। তখন মুহিবুল্লাহর পরিবার থেকে অভিযোগ তোলা হয়,  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় মুহিবুল্লাকে আরসা’র সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে।
রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মনে করেন, আতাউল্লাহ’র নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র সংগঠনটি মূলত মিয়ানমার সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন দেয়া থেকে শুরু করে মাদক পাচার, অপহরণ, ডাকাতি, মুক্তিপম আদায়, হত্যা, মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত আরসা,আরএসও, আল ইয়াকিন ও ইসলামি মাহাস সহ কয়েকটি উগ্রবাদী সংগঠন, অভিযোগ রোহিঙ্গাদের।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ