বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

কক্সবাজারে সৈকতে পর্যটকের ঢল : প্রাণ ফিরছে পর্যটনে

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।।

বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে আবারও প্রাণ ফিরেছে। ধর্ষণ কান্ড আর হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরা গুলোতে গলাকাটা বাণিজ্যের কারণে গত শুক্রবার থার্ট ফাস্ট নাইটে কক্সবাজার ছিল পর্যটক শুণ্য। গত এক সপ্তাহ কক্সবাজারে বেশির ভাগ হোটেল মোটেল গেস্ট হাউসগুলো হা হা করছিল। সৈকতও ছিল ফাঁকা।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ নির্দেশনা দেওয়ার পর আস্তে আস্তে পর্যটক বাড়ছে কক্সবাজারে। শুক্রবার ৭ জানুয়ারী সাপ্তাহিক ছুঠির দিনে বিকালে সৈকত ছিল লোকেলোকারন্য। রাতারাতি লাখপতি হবার চিন্তা থেকে দুরে সরে নমনীয় আর সহনশীলতার পথে থেকে সেবার মনোভাব নিয়েই ব্যবসা করার শপথ নিয়েছে অনেক ব্যবসায়ী।
গত ২২ ডিসেম্বর সন্তান ও স্বামীকে জিম্মি করে এক নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা এবং ১৬ ডিসেম্বর খাবারের দাম ও হোটেল রুম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবে কক্সবাজারে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক আসেনি।
আগে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনে কক্সবাজারে হোটেলে কোনো রুম খালি থাকত না। এবার ৫০ শতাংশ হোটেলের রুম খালি ছিল। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে পর্যটক ব্যবসায়ীরা।
২০২২ সালে কক্সবাজারে পর্যটকদের স্বাগত জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ বলেন, কক্সবাজার শুধু দেশের নয় পৃথিবীর একটি আকর্ষণীয় পর্যটন জোন। তাই বিদেশী বেশ কিছু পর্যটক এসেছে এবার। বছরের প্রথম দিনে পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ জন্য স্ব স্ব হোটেল পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারকে নিয়ে প্রচারণায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একাধিক বৈঠকে প্রয়োজনী সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি নেয়া হয়। শুধু থার্টি ফাস্ট নাইট বা বর্ষবরণ নয় ভরা পর্যটন মৌসুমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহ কক্সবাজারে পর্যটকের দেখা না মিললেও কিছু বিদেশী পর্যটকের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। তবে
দেশের পর্যটন খাতে লোকসান কাটিয়ে আবারো আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। কক্সবাজার সৈকতসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম হচ্ছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতি লোকসান কাটিয়ে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ কক্সবাজার ছিল পর্যটক শুন্য, বিগত দুই বছর করোনাকালীন সময়ে পর্যটন মৌসুমেও হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসান গেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়।
৭ জানুয়ারী শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এখন করোনা নেই, চমৎকার আবহাওয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাও শেষ। এখনই কক্সবাজারে বেড়ানোর সুযোগ। এই সুযোগে সব শ্রেণী-পেশার পর্যটকরা কক্সবাজার ভ্রমণে আসছেন। এই ছুটিতে কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ পর্যটক সমাগম হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ব্যাপক পর্যটক সামাল দিতে নড়েচড়ে বসেছেন। হোটেল মোটেল মালিক সমিতি কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সেবায় তাদের তদারকি বাড়িয়েছেন। নজরদারি বাড়িয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন সৈকতের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস গুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ছুটিতে হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় ৮০ ভাগ অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অনেক পর্যটক এসে গেছেন কক্সবাজারে।
শুক্রবার বিকালে দেখা গেছে, সৈকতের বিনোদন পয়েন্টগুলোতে শত শত ছাতাচেয়ারে ভরপুর পর্যটক। বিভিন্ন পয়েন্টে টিউব, স্পিডবোট ও জেটস্কি দিয়ে পর্যটকদের সাগরে গোসল এবং সাঁতার কাটতে সহযোগিতা দিয়ে আনন্দ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে একদিকে যেমন চাঙ্গা হচ্ছে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি। একই কারণে অতীতের লোকসান কাটিয়ে উঠার আশা করছেন তারা। হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটক এসেছেন এবং আসছেন। এই পর্যটক সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে হোটেল মোটেল মালিক সমিতি ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বিধানে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ