বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১১:২০ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

কলাতলি সি-বীচ রোডের দু’পাশে অবৈধ পার্কিং : মাসে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।।

কক্সবাজারের ব্যস্ততম ডলফিন মোড়ে কলাতলি সি-বীচ রোডের দুই পাশে অবৈধ কার ও নোয়া পার্কিংয়ের কারণে যানজট লেগেই আছে। ১৫০টি কার এবং নোহা গাড়ি (ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে দেখিয়ে)
কক্সবাজার- টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে অবাধে বা চলাচল করছে। ব্যক্তিগত হিসেবে লাইসেন্স নেওয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ এই কারগুলোর প্রত্যেকটিই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুধু যাত্রী পরিবহণই নয় অভিযোগ উঠেছে ইয়াবা পাচারেরও এসব কার ও নোহা গাড়ী ব্যবহার হচ্ছে। দৈনিক লাইন খরচ ও ভর্তি ফির নামে মাসে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। কলাতলি ডলফিন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত কক্সবাজার শহর যানবাহণ নিয়ন্ত্রণ শাখার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. আমিনুর রহমান এই চাঁদাবাজির ঘটনার মুল নিয়ন্ত্রক।
ট্রাফিক বিভাগসহ রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ওঠানো এসব টাকা মাসিক ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী ডলফিন মোড় এবং টেকনাফ স্টেশনে বাসস্ট্যান্ড সৃষ্টি, কথিত লাইন তৈরি, সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ৫০০ টাকা হারে পরিবহণ নেতা ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা আদায়, দায়হীন গাড়ি চালাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা এবং কৌশলে ইয়াবা পাচারের চিত্র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
জানা গেছে, কার গাড়ি প্রতি ৫শ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করে থাকে গুপ্ত ওই সিন্ডিকেট। যার মধ্যে ৩শ’ টাকা নেওয়া হয় টেকনাফের উদ্দেশ্য কক্সবাজার ছেড়ে যাওয়া প্রাক্কালে কলাতলি ডলফিন মোড়ে এবং অবশিষ্ট ২শ’ টাকা নেওয়া হয় টেকনাফ ছেড়ে আসার প্রাক্কালে টেকনাফ স্টেশনে। চাঁদা আদায়ের এই দৃশ্য কলাতলী ডলফিন মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কার ও নোহাগুলোর দিকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলেই সহজেই দেখা মেলে। কলাতলির বাহার উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি একটি শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে এই চাঁদা উত্তোলন করছে। কক্সবাজার কলাতলি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. আমিনুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সব চাঁদাবাজি চলে আসছে মাসের পর মাস। এটা অনেকটাই প্রকাশ্যে চলছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

অভিযোগে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ লাইনে ভর্তির নামে প্রতিটি কার ও নোয়া গাড়ীর মালিকের কাছ থেকে এককালীন ভর্তি ফি এর নামে ২০ হাজার টাকা অফেরত যোগ্য নেওয়া হয়। দৈনিক ও এককালীন আদায়কৃত টাকার বিপরীতে দেওয়া হয়না কোনো রশিদ কিংবা অর্থ লেনদেনের কোনো দালিলিক প্রমাণ।
কক্সবাজার কলাতলি-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের কার-নোহা যাতায়াতের লাইন সৃষ্টিকারী অঘোষিত মালিক বাহার উল্লাহ এবং সাবেক গাড়ী চালক লাইন পরিচালক বেলাল উদ্দিন ।
এক্ষেত্রে বাহার উল্লাহর দাবী-তিনি লাইনের মালিক নন। তবে ‘ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ‘দুই রাজনৈতিক ভাই’ মিলে এসব লাইন চালাচ্ছে। টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে চলাচলকারী
দোয়েল কার এর লাইনে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এখন দুটি লাইন চলছে। দুটিতে কক্সবাজার ও টেকনাফের ক্ষমতাসীনদলের নেতাকর্মিরা জড়িত রয়েছে। তাদের ইশারায় মূলত এই লাইন পরিচালিত হচ্ছে।
তবে কয়েকজন গাড়ির মালিক ও চালক জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইয়াবা সিন্ডিকেট এর গাড়ি বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া কমে গেছে। আগে দিনে লাইনে ৫/৬ বার আসা-যাওয়া করা যেত। আর এখন গাড়ি বেশির কারনে ২ বার যাওয়া আসা করা যায়।
এই সড়কে গাড়ি চালায় এমন একাধিক চালক জানিয়েছেন-গাড়ি চালাতে গিয়ে কেন তাদের এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয় তারা কেউ জানেন না। গোপনে পুলিশ ও নেতা ভাইদের টাকা দিয়ে এই লাইন চালু রাখতে হয়েছে এমন দাবী করেই নাকি তাদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়ে থাকে।
তারা আরও জানিয়েছে, সীমাবদ্ধ যাত্রী, সময়, তেল-গ্যাস খরচ এবং বাড়তি খরচের বোঝা মাথায় চেপে কোনোভাবেই এসব গাড়ির মালিক তাদের বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে আনতে পারার কথা নয়।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, প্রতিটি গাড়িতে অনধিক ৪ জন যাত্রী বহন করা যায়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যেতে প্রতিজন যাত্রীর নিকট হতে ভাড়া হিসেবে নেওয়া হয় ৩০০ টাকা। এভাবে প্রতি যাত্রায় ১২শ’ টাকা তাদের আয় হয়। দুরত্ব হিসেবে গাড়িগুলো দৈনিক ৪ বারের বেশি যাতায়াত করা সম্ভবও নয়। অন্যদিকে, খরচ দেখা যাচ্ছে- লাইন ভাড়া ৫০০ টাকা। তার সাথে ড্রাইভারের বেতন ৭০০ টাকা। আবার প্রতি ট্রিপে জ্বালানি খরচ হয় কমপক্ষে ৪শ’টাকা। এভাবে সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়ায় ১৮শ’ টাকা। গাড়িগুলোর মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হয় ২৫ হাজার টাকা করে। তাহলে বাকী আরও ৭ হাজার টাকা কীভাবে পরিশোধ করেন তারা-এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলে। এই বাড়তি টাকার আয়ের উৎস কি? তাদের নির্ধারিত সময় ১ ঘন্টা ১০ মিনিটে দ্রুত গতিতে চলে যায়। এতে অনেক দুর্ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কার ও নোয়া গাড়িগুলো তাদের খরচ তুলে আনতে তৃতীয় ট্রিপে রাতের বেলা টেকনাফের বিভিন্ন ইয়াবা অধ্যুষিত গ্রামে অবস্থান করে। সেখানে রাত কাটিয়ে সকালে নতুন ট্রিপ নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসেন।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন বিন্যাসের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দুস্কৃতিকারীরা বেপরোয়াভাবে পাচার করে যাচ্ছে মাদক । আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেছে নিয়েছে মেরিনড্রাইভ সড়কটি।
টেকনাফ বাহারছড়ার শামলাপুরের এনজিও কর্মকর্তা ও সমাজসেবক শহীদ উল্লাহ জানান, কোন অদৃশ্য শক্তির আড়ালে নাম্বার-লাইসেন্সবিহীন এই কার ও নোয়া গাড়ি গুলো মেরিন ড্রাইভে চলাচল করছে। বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
দীর্ঘতম এই মেরিনড্রাইভ সড়কে তাদের অবৈধ এই পরিবহণ সুষ্ঠু পরিচালনা ও লাইসেন্সসহ চলাচল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সচেতম মহলের মতে, পর্যটন জেলা কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণ মেরিন ড্রাইভ সড়ক। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তের সাথে সড়কটি শহরের সাথে সৌন্দর্যবর্ধণের মাধ্যমে সহজে যানজটমুক্ত যোগাযোগ সৃষ্টি করেছে। আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য যে কেউ এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। গত ২০২০ সালের ৩১ জুলাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ খুন হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আরো আলোচিত হয়ে উঠে এই সড়কটি। এরআগে মেরিন ড্রাইভ রোডে অসংখ্য বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। একদিকে যেমন আলোচিত অপরদিকে অভিশপ্ত সড়ক ‘মেরিন ড্রাইভ’ বলেও অনেকেই মতামত ব্যক্ত করেন।
এই সড়ক পর্যটকদের জন্য প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি টেকনাফ-কক্সবাজারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট অবৈধ গাড়ি এনে প্রভাব বিস্তার করে মৃত্যুযাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। এখন এই মসৃণ আরামদায়ক সড়কটি তাদের দখলে চলে গেছে। বেড়েছে যানবাহন, যাতায়াত এবং শতাধিক কার ও নোয়স গাড়ির রহস্যজনক বিচরণ। এর কারনে বেড়েছে দুর্ঘটনাও। ইয়াবা পাচারের অভিযোগে আটক হয়েছে অনেকেই। সেই কারনে এখন চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে প্রশাসন।

কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার বাকিবুর রাজা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডলফিন মোড়ে অবৈধ পার্কিং আমরা ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।
জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেটা নির্মিত হলে অবৈধ পার্কিং সুবিধা কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট কারগুলো ব্যক্তিগত। এসব গাড়ী বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
টিআই আমিন, এসব গাড়ী থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও তদন্ত করে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ