শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

কক্সবাজারে পানের দোকানে মিলে বিদেশী মদ : আটক-২

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।।

কক্সবাজারের হোটেল মোটেল জোনে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। পর্যটকদের কাছে মাদকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দিনদিন মাদক বিক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। ভ্রাম্যমান মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি পানের দোকানেও মিলছে বিদেশী মদ। ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ৮ টার সময় কক্সবাজার কলাতলি সুগন্ধা পয়েন্টে একটি পানের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশী মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে র্যাব। এসময় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব- ১৫ এর সহকারী পরিচালক ( এএসপি) আবদুল্লাহ মো.শেখ সাদী অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে কক্সবাজার কলাতলি হোটেল মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্টের একটি পানের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এসময় পানের দোকানে তল্লাশী করে ৫৮ বোতল বিদেশী মদ, ২৪ ক্যান বিদেশী বিয়ার উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয়
মো.ইমরান ও জুবায়ের নামের দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে।
তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স।
কক্সবাজার হচ্ছে বিশ্বখ্যাত পর্যটন এলাকা। এখানে বাংলাদেশীরা যেমন আসেন, তেমনি বিদেশীরাও আসেন। এটাকে মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের চেস্টা আগেও ছিল এখনও আছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে, কক্সবাজার কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের হোটেল, মোটেল ও কটেজগুলোতে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ইয়াবা, বিদেশী মদ। দিনদুপুরেই নির্বিঘ্নে হোটেল ও কটেজগুলোর রুমে রুমে বসে ইয়াবা সেবনের আসর। এতে স্থানীয় মাদকাসক্তরা নয়; দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও ইয়াবা সেবনের আসর বসান। মাদকাসক্ত পর্যটক ছাড়াও শখের বশে আবেগপ্রবণ হয়েও অনেক পর্যটকরা মিলে মিশে আসর বসিয়ে ইয়াবা সেবন করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন হোটেল ও কটেজের পরিচালনকারীরা জানান, পর্যটনের অফ সীজনে যখন খালি থাকে তখন হোটেল ও কটেজগুলো ইয়াবা সেবন, জুয়ার আসর ও পতিতায় ভরে থাকে।

স্থানীয় মাদক সেবী ও জুয়াড়ীরা প্রতিনিয়ত হোটেল ও কটেজগুলোর রুমে রুমে আসর বসায়। এসব আসরের অধিকাংশই হোটেল ও কটেজের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাধ্যমে সরবরাহ হয় বলে অভিযোগ।
বর্তমানে পর্যটনে ভরা মৌসুম। পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজার। হোটেল, কটেজে রুম খালী না থাকায় স্থানীয়দের ইয়াবা সেবনের আসর অনেকটা কমে এসেছে। কিন্তু ইয়াবা সরবরাহকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইয়াবার বিকিকিনিতে লিপ্ত রয়েছে ঠিকই।
হোটেল ও কটেজের পরিচালনকারীরা আরো জানান, হোটেল ও কটেজগুলোতে পর্যটক উঠলে তাদেরকে টার্গেট করে ইয়াবা বিকিকিনির সাথে জড়িত হোটেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বন্ধু-বান্ধব মিলে যে সব পর্যটক আসে তাদেরকে টার্গেট করে ইয়াবা, বিদেশী মদ ও নারী সরবরাহ করে। মাদকাসক্ত না হলেও অনেক পর্যটক ‘মজা’ করার জন্য বন্ধুদের নিয়ে হোটেল কক্ষে ইয়াবা সেবন ও নারী নিয়ে ফুর্তিতে লিপ্ত হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শহরের কলাতলীর হোটেল মোটেল ও কটেজ জোন কেন্দ্রীক জমজমাট ইয়াবা ও নারী নিয়ে দেহ ব্যবসা চলে আসছে। মূলত পর্যটকদের টার্গেট করেই চলছে এই অনৈতিক ব্যবসা। হোটেল ও কটেজ পরিচালনাকারী, ভাড়াটিয়া ও কর্মচারীরা এই ইয়াবা ও নারী ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। পাশাপাশি হোটেল ও কটেজ সংলগ্ন পানের দোকানগুলোতে ইয়াবাসহ বিদেশী মদ মিলে। পাইকারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা হোটেল ও কটেজের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যবহার করে কক্সবাজারের পর্যটন জোন কলাতলীকে এক প্রকার ইয়াবার অঞ্চল বানিয়েছেন। অনেকটা প্রকাশ্যে এই ইয়াবার বিকিকিনি চললেও দায়িত্বরত পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করে- এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযান চালিয়ে মাদক উ্দ্ধারের ঘটনাও কম ঘটছে না।
এব্যাপারে হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘হোটেল-মোটেল ও কটেজগুলোর ইয়াবার নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা সব সময় চেষ্টা করি। আমরা এবং প্রশাসন মিলে অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। কিন্তু তারপরও তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মূলত অসাধু এবং নিম্নশ্রেণির হোটেল, ফ্ল্যাট ও কটেজ কর্মচারীরা এই অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ