শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:৫০ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

সিনিয়র- জুনিয়র দ্বন্দে ফেসবুকে পোস্ট, কু্বির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১

সিনিয়র- জুনিয়র দ্বন্দে ফেসবুকে পোস্ট, কু্বির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা।

রকিবুল হাসান/কু্বি প্রতিনিধিঃ

সিনিয়র- জুনিয়র দ্বন্দের জেরে জুনিয়র শিক্ষার্থী ফেসবুকে পোস্ট করে। সেই পোস্টের পরে পাল্টা পোস্ট করে ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় সিনিয়র ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এক ছাত্রীনিবাসে। এদিকে এ ঘটনায় তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন দাবি করে ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নিকট অভিযোগ দিয়েছেন একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের এক শিক্ষার্থী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার রাত ৮ টার দিকে রুমে গেস্ট আনাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র- জুনিয়র দুই শিক্ষার্থীর মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় সিনিয়র ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তার পক্ষে কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজনের কর্মীকে ডেকে নিয়ে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ধমকায়। পরে ১৪ তম ব্যাচের একাউন্টিং বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীর পক্ষে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী মেসে আসে। এসময় দুই পক্ষই তর্কে জড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। তবে শনিবার রাত প্রায় ১১ টায় ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন দাবি করে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। এরপরেই সিনিয়র ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেসবুকে পাল্টা একটি পোস্ট করে ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা পাঠানো হয়। বর্তমানে ঐ শিক্ষার্থী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে ছাত্রীদের বাকবিতন্ডার পর এক ছাত্রীর পক্ষে নজরুল হল ছাত্রলীগের ব্যবসায় অনুষদের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী মেসে যান। আবার অপরদিকে আরেক ছাত্রীর পক্ষে দত্ত হল থেকে ব্যাবসায় অনুষদের কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী মেসে যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আসন্ন ব্যবসায় অনুষদ ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার কথা রয়েছে। এখানে দু’পক্ষেরই পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা রয়েছেন এবং জড়িয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের দু-পক্ষের নেতা-কর্মীদের প্ররোচনা রয়েছে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরকেও নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, মেয়েদের বিষয়ে সমস্যা সৃষ্টি বা সংগঠনকে এখানে জড়িয়ে ফেলবে তারাই যেই হলের হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এটা নিয়ে রাজনৈতি করতে চায় তারা কোন ভাবে পদ পাবে না। বরং তাদের জন্য সংগঠন পদক্ষেপ নিবে।

১৪ তম ব্যাচের একাউন্টিং বিভাগের ঐ শিক্ষার্থী বলেন, গত তিন মাস আগে আমি একটি রুম ভাড়া নেই। তারপর আমার রুমমেট হিসেবে উঠে রাবিনা ইসলাম ঐশী। তারপর উনি আমার রুমে উঠার পর থেকে গত দুইমাস ধরে নিয়মিত বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা, গান-বাজনা করেন। রোববার আমার পরীক্ষা থাকায় ওনাদের বলার পরও পার্টি করতেছিলো। আমি মেস মালিককে জানালে ওনাদের লিমিটের বাইরে কিছু করতে নিষেধ করেন। তার কিছুক্ষণ পর মেস মালিক চলে গেলে ওনারা তিন বান্ধবী আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করেন। তারপর আমি বিষয়টি আবার মেম মালিককে বিষয়টি জানালে ওরা বাড়িওয়ালার সামনে আমাকে বাবা-মা তুলে গালি দেন এবং হুমকি দেন। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এই ঘটনায় আত্মাহত্যার চেষ্টা করার আগে ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, জুনিয়র মেয়েটি আমাকে বলেন “আপনি রুম ছেড়ে দিবেন, আমি আপনাকে রুমে রাখতে চাচ্ছিনা।” যেখানে আমি নিজে নিজের ভাড়া দিয়ে থাকি। আমাকে মেস ছাড়তে বলা হয়েছে। তারপরেও আমি মেনে নিয়েছি। আমার অবর্তমানে বলা হয়েছে যে, “আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মেস থেকে বের করে দেয়া হবে”।এটা নিয়েও হয়ত কিছু বলতাম না। কিন্তু মুখের উপর একজন ছোটবোন বেয়াদবি করে যাবে তা মেনে নিতে আমার কষ্ট হচ্ছে। নিজের নামের উপর এতো বড় দায় আমি আর নিতে পারছি না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে এক পক্ষ অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে। বিষয়টি যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে তা আমরা জানতে পেরেছি। সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস কে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমাদের কাছে ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করেছে। এ অভিযোগে যাকে অভিযুক্ত করা হয়ছে তিনি এখনও হাসপাতালে। তিনি সুস্থ হয়ে আসলে আমরা তদন্ত শুরু করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ