শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

শিক্ষা বিস্তারে শেরেবাংলা ও সাউথ এশিয়া এডুকেশন গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন গফরগাঁওয়ের অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান

মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী / ৬৫ /২০২১
প্রকাশকালঃ শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

শিক্ষা বিস্তারে শেরেবাংলা ও সাউথ এশিয়া এডুকেশন গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন গফরগাঁওয়ের অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান 

শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদানের জন্য শেরে বাংলা একে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদ এবং সাউথ এশিয়া সোস্যাল এডুকেশন ফাউন্ডেশন প্রবর্তিত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের শামসুল হক মহিলা ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আবুল খাইর মোহাম্মাদ নূরুজ্জামান।
গত ৩০ অক্টোবর রাজধানী রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শেরে বাংলার ১৪৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে সাবেক তথ্য সচিব বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও শেরে বাংলার দৌহিত্র এবং শেরেবাংলা গবেষণা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, বিচারপতি মুজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকসহ অতিথিবৃন্দ “শেরেবাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড ২০২১” ও সনদপত্র তাঁর  হাতে তুলে দেন এবং গতকাল ১৯ নভেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে ‘হোটেল ৭১’ এর বলরুমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা,  গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাউথ এশিয়া সোস্যাল এডুকেশন ফাউন্ডেশন কর্তৃক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যক্ষ আবুল খাইর নুরুজ্জামানকে ‘গোল্ডেন জুবিলি আওয়ার্ড ২০২১’ ও সনদপত্র প্রদান করেন।  বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি  নিজামুল হক নাসিম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া ,সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদসহ অতিথিবৃন্দ ‘গোল্ডেন জুবিলি অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ তার হাতে তুলে দেন।
অধ্যক্ষ আবুল খাইর মোহাম্মাদ নূরুজ্জামান ১৯৬২ সালের ১ জুলাই ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের চামুরথা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অললী-তললী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কাপাসিয়ার খিরাটি ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৭২ সালে দাখিল ও ১৯৭৪ সালে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর নরসিংদীর মনোহরদীর ঐতিহাসিক শেখেরগাঁও জে. ইউ ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৬ সালে ফাযিল(স্নাতক) পাস করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে মাদ্রাসা-ই-আলিয়া , ঢাকা থেকে কামিল পাশ করেন এবং একই সাথে ১৯৭৭ সালে ঢাকার লালবাগের জামিয়া-ই- ইসলামিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন। তিনি ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
শিক্ষা জীবনের শেষ দিকেই গফরগাঁও সদর থেকে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উপজেলার সীমান্তে নিজ গ্রামে তিনি অবহেলিত মেয়েদের ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষাদানের লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে শামসুল হক বালিকা মাদ্রাসা গড়ে তোলেন। এখানকার কয়েকটি গ্রামের মেয়েদের দূরে গিয়ে তাদের শিক্ষা গ্রহণ ছিল অনিশ্চিত। তিনি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করার ফলে এখানকার মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের অবাধ ও নিরাপদ সুযোগ সৃষ্টি হয়। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাদ্রাসাটি ১৯৯১ সালে আলিম স্তর এবং ১৯৯৪ সালে ফাযিল স্তরে উন্নীত হয়। বর্তমানে শামসুল হক মহিলা ফাযিল মাদ্রাসাটি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬টি জেলার মধ্যে একমাত্র এমপিওভুক্ত মহিলা ফাযিল মাদ্রাসা। নিগুয়ারী  ইউনিয়নের মধ্যে মাদ্রাসাটি একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে প্রায় ৮/১০টি গ্রামের বহু মেয়ে শিক্ষার্থী ফাযিল (স্নাতক) পাস করে পরবর্তীতে অন্যত্র থেকে কামিল পাস করে এবং পাশাপাশি  জেনারেল লাইনে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে কর্মজীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত।
অধ্যক্ষ আবুল খাইর মোহাম্মাদ নুরুজ্জামান প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি একাধিকবার উপজেলা -জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসার পুরস্কার লাভ করে এমনকি জাতীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসার পুরস্কার লাভ করে । তিনি উপজেলা ,জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ হিসেবে পুরস্কৃত হন ও সনদ লাভ করেন। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, জীবদ্দশায় তিনি মাদ্রাসাটিকে কামিল স্তরে উন্নীত করে রেখে যেতে চান।
ব্যক্তি জীবনে অধ্যক্ষ জামান তিন সন্তানের জনক। বড় মেয়ে তামিমা জামান উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্সসহ-মাস্টার্স ও কামিল পাস, তার স্বামী একজন ব্যাংক চাকরিজীবী। বড় ছেলে ফিদা জামান রাজধানীর একটি মাদ্রাসার আলিম এবং ছোট ছেলে ফাতিন জামান ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। তাঁর সহধর্মিনী খালেদা খাতুন পুরান ঢাকার মাহমুদা খাতুন মহিলা কামিল মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories