বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৩:১০ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

পীরগাছার ৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ৩১টি গ্রুপে বিভক্ত

মোঃ গোলাম আযম সরকার, রংপুর
প্রকাশকালঃ বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
পীরগাছায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য

পীরগাছার ৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ৩১টি গ্রুপে বিভক্ত
মোঃ গোলাম আযম সরকার .রংপুরঃ
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কমপক্ষে ৩১ টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অথাৎ ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন নেতা একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন। এই গ্রুপিংয়ের কারনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হেরে গেছেন বলে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মজনু মিয়া বলেন, আমাদের যে ভোট ব্যাঙ্ক রয়েছে, সেই হিসাবে নৌকার প্রার্থী হেরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের রয়েছে দলীয় কোন্দল, নির্বাচনের সময় অনেকেই প্রকাশ্য, অনেকেই আবার গোপনে নৌকার বিপক্ষে কথা বলেছেন। শুধুমাত্র হিংসার কারনে আমরা হেরে গেছি। তাম্বুলপুল ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই এবার নৌকা মার্কায় ভোট দেয় নাই, শুধুমাত্র নৌকার প্রার্থী পরিবর্তন করার কারনে। পীরগাছা উপজেলার কোন নৌকার প্রার্থীকে ভোটে হারানোর মত অন্য কোন দলের প্রার্থী নাই, আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রার্থীদেরকে হারিয়েছি।

অপর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাফর ইকবাল বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে নৌকার প্রার্থী হেরে গেছে মুলত অনেক স্থানে মনোনীত প্রার্থী পছন্দের না হওয়ার কারেন। তবে পীরগাছা ইউনিয়নের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম জালাল একজন সৎ মানুষ, তিনি হেরেছেন মুলত টাকার কারনে, এই ইউনিয়নে অপর দুই প্রার্থী ছিলেন কোটি টাকার মালিক অপর দিকে জাহাঙ্গীর আলম জালাল সৎ মানুষ কিন্তু টাকা ছিল অনেক কম এই কারনে তিনি হেরে গেছেন। এছাড়াও বিগত দিনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তৃর্ণমূল নেতা কর্মীদের মূল্যয়ন করা হয়নি, এই কারনে অনেক ইউনিয়নে নেতা-কর্মীরা নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন নাই। ইউনিয়ন পর্যায়গুলোতে দেখা দিয়েছে দলীয় কোন্দল।

এদিকে পীরগাছা উপজেলার সাবেক সভাপতি অধ্যাক্ষ নজরুল ইসলাম রাজু বলেন, ত্যাগী নেতা কর্মীদেরকে সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাদের গ্রুপিং অনেক বেশি। বেশি গ্রুপিং হওয়ার কারন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধরেন একজন নেতা একজন কর্র্মীকে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আনতে পাঠাইলেন, সেই কর্মী একসময় নিজেকে নেতা হিসাবে প্রকাশ করার জন্য গোপনে গোপনে কাজ করেন এক সময় সে হয়ে যায় একজন বড় নেতা। এই ভাবে গ্রুপিংয়ের সংখ্যা বুদ্ধি পাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের এই গ্রুপিংয়ের বিষয়টি এতদিন গোপনে থাকলেও এখন কিছুটা প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে এত বিভক্ত দেখে সচেতন মহল চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। সচেতন মহলের ধারনা এখনেই এই গ্রুপিং বৃদ্ধি হওয়া ঠেকানো না গেলে যে কোন মহুত্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনে দুর্ঘটনা ।
বিশেষ করে ৮টি ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্রে করে এই বিভক্তি প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছে।

এই ব্যাপারে উপজেলার এক নেতা বিষয়টি সত্যাতা স্বীকার করলেও এই বিষয়ে কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হয় নি। অনেকের ধারনা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গেলে পদ চলে যেতে পারে। তবে তারা বিষয়টি খুবেই দুঃখ জনক বলে মন্তব্য করেছেন।

দলীয়নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ততথ্য মতে , তাম্বুলপুরে ৯টি , পীরগাছায় ৩টি, কৈকুড়ী ইউনিয়নে ৩টি, কান্দি ইউনিয়নে ৩টি ইটাকুমারী ইউনিয়নে ৩টি, ছাওলা ইউনিয়নে ৫টি, পারুল ইউনিয়নে ৩টি গ্রুপে বিভক্ত হওয়া সহ কমপক্ষে ৩১ টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এই সংগঠনটি। দলীয় নেতাদের বক্তব্য হয়তো বা গোপনে গোপনে আরোও গ্রুপিং থাকতে পারে। এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৯টি ইউনিয়নে এই রকম গ্রুপিং সম্ভবত ৪১ টি রয়েছে।

১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়কে অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলছেন এর প্রভাব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেতে পারে। পীরগাছার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে ১১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে । ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেছেন তিনটিতে, বিএনপি তিনটিতে, জাতীয় পার্টি একটিতে এবং জামায়াত জয়লাভ করেছেন একটিতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ