বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০১:৫০ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

‘কমোডিটি’ লেনদেন করতে চায় সিএসই: কতটুকু দক্ষতা দেখাতে পারবে?

সাইফুল শুভ, চীফ নিউজ রিপোর্টার
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১

‘কমোডিটি’ লেনদেন চালু করতে চায় সিএসই: কতটুকু দক্ষতা দেখাতে পারবে?

স্টক বা শেয়ার লেনদেন কার্যক্রমে ব্যর্থতা নিয়েই ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ বা পণ্য লেনদেন শুরু করতে চায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এজন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) একটি আবেদন করেছে।

সিএসইর আবেদনের প্রেক্ষিতে কমোডিটি লেনদেনের অনুমতি দিতে পারে বলে জানা গেছে। তবে কি পদ্ধতিতে অনুমোদন দেয়া হবে সেটি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

বর্তমানে বিএসইসির প্রাথমিক অনুমোদনের (কনসেন্ট লেটার) জন্য অপেক্ষা করছে। অনুমোদন পেলেই পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে এক্সচেঞ্জটি অদক্ষতার কারণে পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে কমোডিটি লেনদেন করতে গিয়ে কতটুকু দক্ষতা দেখাতে পারবে সেটি অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)’র সঙ্গে তুলনা করলে সিএসইর অবস্থান আকাশ-পাতাল ফারাক। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টক এক্সচেঞ্জটিকে উইন্ড-আপ (বন্ধ) করাই সমীচীন হবে।

বর্তমানে আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জের সম্ভাবনা ভাল নয়। মূলত এনালগ যুগে আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জগুলো গড়ে ওঠেছিল। আশপাশের দেশ ভারত-পাকিস্তানেও বেশ কয়েকটি এক্সচেঞ্জ আছে। ভারতে ১২টি, পাকিস্তানে ৪টি। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসব এক্সচেঞ্জ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও সিলেটে আরেকটি স্টক এক্সচেঞ্জ গঠন করার কাজ চলছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি আর এগোয়নি।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টক এক্সচেঞ্জেটি বিগত ২০১৩ সালে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড হয়। ডিমিউচ্যুয়ালাইজড হলেও তারা স্ট্র্যাটিজিক পার্টনার হিসেবে এখনো বিদেশী অংশীদার পায়নি। এটাও পরিচালনা পর্ষদের একটি বড় ধরণের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যেখানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর স্ট্র্যাটিজিক পার্টনার হওয়ার জন্য ভারতীয় ও চীনা জোট রীতিমত কূটনৈতিক যুদ্ধ চালিয়েছে। সেদিক থেকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো আগ্রহ নেই।

এতসব ব্যর্থতার মধ্যে সম্প্রতি ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে বোর্ড। এখানেও প্রশ্ন ওঠেছে দূর্নীতির অভিযোগ ও ঋণখেলাপি হওয়ার পরও কেন তাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। ছিল না স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর বিশেষ কোন দক্ষতা। মূলত একজন ব্যাংকার ছিলেন। একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও ঋণখেলাপি হওয়ায় আগেই এমডি নিয়োগ করায় প্রশ্ন ওঠেছিল।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সিএসই সূত্র বলছে, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ নিয়ে আলোচনা অনেকটা এগিয়ে গেছে। কিন্তু কতটুকু সফল হতে পারবে, সবার মধ্যে এমন প্রশ্নই জাগছে।

এর আগেও ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন হওয়ার আগে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জটির সদস্য ও কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নতিই হয়নি। লেনদেন বাড়েনি আশানুরূপ। যদিও ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন হওয়ার পর বোর্ড চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দক্ষ লোক পায়নি বলে দাবি করছেন অনেক সদস্য।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম দায়িত্ব পালন করেছেন। গতানুগতিক একজন চেয়ারম্যানের পদ অলঙ্কৃত করা ছাড়া আর কোনো কাজ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত বোর্ড মিটিং করে না বলেও অভিযোগ আছে। বছরে ৫-৬টি মিটিং হলেও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে তেমন কোন আলোচনাই হয় না। ফলে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পর চেয়ারম্যানকেও দায়ি করছেন অনেক শেয়ারহোল্ডার ও পর্ষদ সদস্য।

এ কারণে যেখানে বর্তমান কমিশন আসার পর ডিএসইর লেনদেন তিনশ’ কোটি থেকে তিন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে, সেখানে সিএসই এখনো একশ’ কোটি টাকা।

সিএসইর একাধিক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও কেউই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারেননি।

সিএসইর অন্যতম পরিচালক মেজর (অবঃ) এমদাদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিবেদনকে বলেন, বিএসইসির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই জানতে পারবেন।

লেনদেন না বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এমদাদুল ইসলাম বলেন, সিএসইর লেনদেনে ডেপথ কম। কেউ চাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ শেয়ার কিনতে পারে না, আবার বিক্রি করতেও পারে না। ছোট ছোট ট্রেড হয়। ডেপথ নেই বলে অনেকে এখানে লেনদেন করে না, সেজন্য মার্কেট ডেপথও বাড়ে না।

এ বিষয়ে সিএসইর অন্যতম পরিচালক ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সভাপতি মোঃ ছায়েদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিবেদনকে বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের কমোডিটি বাজার চট্টগ্রাম থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেহেতু সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ করলে ভাল করবে। তবে সেটি কোন কাঠামোয় হবে, তা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক বাংলাদেশ প্রতিবেদনকে বলেন, কোন ফরমেটে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হবে, সেটি বিএসইসির প্রাথমিক অনুমোদনের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিয়ে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিএসইসি কিভাবে চায় সেটিও দেখার বিষয়। বাংলাদেশে একটি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রয়োজন, এটি সবাই অনুধাবন করছেন। বরং আরো আগেই হওয়া উচিত ছিল।

অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. আবু আহমেদ বলেন, আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জগুলো সব দেশেই ব্যর্থ হয়েছে। তাই সিএসইকে উইন্ড-আপ করে দেয়া উচিত। দেশে একটি কমোডিটি বাজার দরকার। এটা আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জ হলে আবারও ব্যর্থ হতে পারে। তাই কমিশনের উচিত ভেবে-চিন্তে দেওয়া।

এ বিষয়ে সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ খুবই জনপ্রিয়। যেখানে বিভিন্ন পণ্য শেয়ারের মতো লেনদেন হয়। সেখানে স্বর্ণ থকে শুরু করে নানা ধরণের ভোগ্যপণ্য লেনদেন হয়। যেটির প্রচলন নেই আমাদের দেশে। এসব মার্কেট চালু হলে দেশের অর্থ পাচার কমে আসবে। বিশেষ করে স্বর্ণ বা গোল্ড মার্কেটে অনেকেই বিদেশে বিনিয়োগ করে থাকে। সেসব অর্থ আর দেশে ফিরে আসে না। তাই গোল্ড মার্কেট চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ