মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

উখিয়া রাজাপালংয়ে বিএনপি নেত্রীর স্বামী চান নৌকার মনোনয়ন!

/ ৪০ /২০২১
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার।।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০০৮ সালে বিএনপি মনোনীত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজ স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগমের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়ে চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানো নোটিশ পান তৎকালীন হিসাব রক্ষণ বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) জাফর আলম চৌধুরী।
তৎসময় নির্বাচনে জাফরের স্ত্রী কক্সবাজার জেলার তালিকাভুক্ত রাজাকার, একাত্তরে শান্তি কমিটির নেতা হাছান আলী মাস্টারের কন্যা ছেনুয়ারা পরাজিত হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবারো সরাসরি বিএনপির দলীয় সমর্থনে আওয়ামীলীগ সর্মথিত প্রার্থী খুরশিদা করিমকে পরাজিত করে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ছবি: ২০১৪ সালে নির্বাচনে জয় লাভের পর বিএনপির বিজয় মিছিলে ছেনুয়ারা বেগম।

তৎকালীন উখিয়া উপজেলা মহিলা দলের সহ সভাপতি ছেনুয়ারা বেগম যদিও পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের স্বামীর কূটকৌশলে চক্রান্ত করে সে সময়ের বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরীকে স্বপদ থেকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে।
উখিয়া উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের মুখে তিনি পরিচিত বিশ্বাসঘাতকিনী হিসেবে।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, ” আমার রাজনীতির ইতিহাসে তার ( ছেনুয়ারা’র) মত প্রতারক আর দেখিনি। সে ও তার স্বামী কোন দলেই নিরাপদ নয়।”
এদিকে, আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন ছেনুয়ারার স্বামী জাফর আলম চৌধুরী। এই নিয়ে রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ” জাফর আলম চৌধুরী কখনোই দলের কোন পদে ছিলেন না, তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসতে চাইছেন।”
কখনো আওয়ামী লীগের কোন পদে না থাকলেও জাফর নিজেকে পরিচয় দিতেন আওয়ামী লীগের সমমনা বলে কথিত ভূইফোড় একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে। এছাড়াও তিনি উখিয়া পৌরসভা বাস্তবায়ন পরিষদ, পরিবেশ আন্দোলন সহ নামসবর্স্ব সাংগঠনিক কার্যক্রম বিহীন ডজন খানেক সংগঠনের নেতা।
বয়সের তারতম্য থাকলেও ক্ষমতার দাপটে “দরখাস্তবাজ” নামে পরিচিত জাফর বিএনপির আমলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত হন। মুক্তিযোদ্ধা লীগের জেলা সভাপতি পরিচয়ে বায়োবৃদ্ধ ব্যক্তিদের টার্গেট করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অহরহ অভিযোগও আছে জাফরের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উখিয়ার রত্নাপালংয়ের এক বয়োবৃদ্ধ জানান,” জাফর আমার সমবয়সী ও তার সাথে সখ্যতা থাকায় আমি বিভিন্ন সময় তার সাথে মুক্তিযোদ্ধা লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিই। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিলো খুবই কম, আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলেও জাফর আমাকে টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা বানাবে বলে প্রস্তাব দেয়। আমি তা প্রত্যাখ্যান করি।”
উখিয়া উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, ” আমার জানামতে জাফর কখনো সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি।কিন্তু কিভাবে সে মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভুক্ত হলো তা আসলে খতিয়ে দেখার বিষয়”।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে জাফরের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে একপর্যায়ে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ” নমিনেশনের জন্য ঢাকায় আছি, পরে যোগাযোগ করেন”।
নানা কারণে বিতর্কিত জাফর আলম চৌধুরী যদি কোনভাবে নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে নেন তবে স্ত্রীর মতোই প্রতারকের ভূমিকায় অবর্তীণ হবেন বলে আশংকা উখিয়ার তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories