সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

গাজীপুর বিষয়ে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরোধী শক্তিগুলো নানা কৌশলে ফের সক্রিয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের নেতা মন্ত্রী এবং এমপিদের মোবাইল ফোন আলাপ ফাঁস করছে চক্রটি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এর জন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বেছে নেয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট নেতাদের ঘনিষ্ঠজনদের। কথার মারপ্যাঁচে ফেলে দলীয় ক্রোন্দল সৃষ্টি করে দেয়াই এই চক্রটি প্রধান কাজ। এরপর রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় ভুল বোঝাবুঝি। এমনটাই মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

নাম না প্রকাশের শর্তে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ঘটনাটি উদ্দেশ্য মূলক মনে হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য এমনটাই আঁচ করেছেন তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একই সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রতিবেদন চলে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যা বলেছেন তাতে স্পষ্ট যে অডিও এডিটিং হতে পারে।

তাছাড়া ঘটনাটি যখন প্রকাশ পায় তখন সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা দেশি ছিলেন না। প্রতিপক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে। ঠিক একই সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অবস্থান করছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা এই সময়টি বেছে নিয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিজেদের পারস্পরিক স্বার্থে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কিনা সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে কেন্দ্র।

সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা না করেই শতশত মানুষ দিয়ে সড়ক অবরোধের মত কঠিন কর্মসূচিতে চলে যান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। নিজ দলের নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান এর বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও আজমত উল্লাহ খানের সাড়া মিলেনি।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মোবাইল ফোনে বলেন, দলীয় কারণ দর্শানোর চিঠির উত্তর দেয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

গাজীপুর মহানগর এবং জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ঘরোয়া পরিবেশে মানুষ অনেক কথাই বলে। কিন্তু যারা বিষয়টিকে রাজনীতির উন্মুক্ত মাঠে নিয়ে এসেছেন তারাও বুদ্ধিমানের কাজ করেননি। সিনিয়র রাজনীতিবিদ হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লাহ খান একটি অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যে বিভক্তির শক্ত দেয়াল তুলে দিয়েছেন তাতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সভাপতি হিসেবে সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের জন্য মিটিং করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারতেন না এখন কেন্দ্র দিয়েছে।

গাজীপুরের সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার ফলে দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার দ্বন্দ্বের কারণে এখন বিভক্ত পুরো গাজীপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী পরিবার। পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক সবার সজাগ দৃষ্টি থাকলেও আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর আলমের গ্রুপে প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মী ছাড়া অন্যরা মুখ খুলতে রাজি নয়।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি বিরাট অংশ নিজ স্বার্থে তার সঙ্গে রয়েছেন। অনেকের চোখ ২১ হাজার কোটি টাকার বাজেটের দিকে। তারা মনে করেন জাহাঙ্গীর আলম দলীয় লোক হিসেবে তাদের আগামী দিনেও সুযোগ-সুবিধা দিবেন। আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর পন্থী নেতাদের দাবি দলীয় কর্মীদের মূল্যায়ন যে নেতা করেন কর্মীরা তার দিকেই থাকবে।

মেয়রের অডিও ক্লিপ যাচাই-বাছাই না করে নিজ দলের নেতাদের এমন প্রতিবাদ- বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ারকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন তারা। বিএনপি-জামাতের এত বড় ফাঁদে পা দেয়ার আগে বড় বড় নেতাদের আরো সময় নেয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য তাদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ