মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

মসজিদে মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষ; নিহত ১-আহত১১

/ ৩৮ /২০২১
প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মসজিদে মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষ; নিহত ১-আহত১১।

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

মসজিদে সানি আজান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হানিফ খান (৪৩) নামের এক মুসল্লিকে ছুরিকাঘাতে কুপিয়ে হত্যা ও ১১ জনকে আহত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কুড়াখাল বাইতুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

উক্ত ঘটনায় পুলিশ শাহীন ভুইয়া নামের একজনকে আটক করেছে।
মসজিদের মুসল্লিসহ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়াখাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইমামের সামনে সানি আজান দেওয়া হয়। গত শুক্রবার মসজিদের দরজায় সানি আজান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ চলে আসছিল। গতকাল শুক্রবারও দরজায় সানি আজান দিতে গেলে প্রতিবাদ করেন মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি হাবিব খান। তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া মাত্রই পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা একদল লোক ধারালো ছুরি, রামদা, লোহার রড, টেটা বল্লম, লাঠিসোটা নিয়ে নিরীহ মুসল্লিদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়।

হামলায় বারান্দাসহ মসজিদে রক্তাক্ত জখম হয়ে ১২ জন আহত হয়। আহতদের মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কবর্তব্যরত চিকিৎসক হানিফ খানকে (৪৩) মৃত ঘোষণা করেন। সে ওই গ্রামের আবদু খানের ছেলে।

এ সময় গুরতর আহত ইমন খান (২৫) ও খায়ের সরকারকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মসজিদের মুসল্লিরা জানায়, দরজায় সানি আজান দেওয়া নিয়ে মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি হাবিব খান প্রতিবাদ করার সঙ্গে-সঙ্গেই সভাপতি আব্দুল মালেক, ডিজে কালাম, শাহীন ভুইয়া, এলেম খান, রাজিব মিয়া, আমির হোসেন, কামাল খান ও ফরিদ মিয়ার নেতৃত্বে মসজিদের ইমাম কামরুজ্জামান তৌফিকের ইন্ধনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তারা এতিমখানার কমিটি নিয়েও ষড়যন্ত্র করছে। মসজিদ ও এতিমখানা কমিটির দ্বন্দের জের ধরেই পরিকল্পিত ভাবেই ঠান্ডা মাথায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, মসজিদসহ কুড়াখাল শাহসুফি সৈয়দ দাইম উল্লাহ হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার কমিটি নিয়ে ওই চক্রটি দ্বন্দ লাগিয়ে রেখেছে। যার ফলে তারা মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদেরকেও মারধর করেছে। এই চক্রটি এহেন প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। এমন কর্মকান্ডে তীব্র নিন্দা ও দু:খ প্রকাশ করেছেন মুরাদনগর উপজেলা কওমী মাদরাসা সংগঠনের সভাপতি মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও উপজেলা বে-সরকারি এতিমখানা কল্যান পরিষদের সভাপতি হাফেজ বাশারিত ভুইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ লোকমান। তারা উক্ত ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহত হানিফ খানের মা, স্ত্রী ও ৪ শিশু সন্তান রয়েছে। পুত্রের মৃত্যুর খবর পেয়েই বার বার মূর্চা যাচ্ছেন বৃদ্ধ মা আয়শা খাতুন। স্ত্রী আফরোজা বেগমের আহাজারিতে এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠেছে। প্রতিবেশী কেউ তাদের কান্না থামাতে পারছে না।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, জুমার নামাজের সানি আজান মসজিদের ভিতরে ও বাহিরে দেয়া নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত শাহীন ভুইয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। উক্ত বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ##


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories