শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

সুকুক বন্ড কি, কিভাবে কাজ করে, এর মৌলিক নীতিমালাসমূহ জেনে নিন

মোঃ কেরামত আলী / ৬২ /২০২১
প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সুকুক বন্ড কি, কিভাবে কাজ করে, এর মৌলিক নীতিমালাসমূহ জেনে নিন

মোঃ কেরামত আলীঃ অপার সম্ভাবনার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে একটি অতি পরিচিত ও সম্ভাবনাময় দেশ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োজিত অর্থ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে যথাযথভাবে বিনিয়োগ করে দেশের সার্বিক অবস্থার যেমন উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে, তেমনি বিনিয়োগকারীগণ তাদের কাঙ্খিত আয় যথাসময়ে ফেরত পাচ্ছেন। সংখ্যগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য সবসময়ই দ্বিধায় থাকেন সুদের কারণে। কারণ ইসলাম ধর্মে সুস্পষ্টভাবে সুদের লেনদেনকে হারাম করা হয়েছে। সুদভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নতুন সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ব্যবস্থার নাম ‘সুকুক বন্ড’। বাংলাদেশে নতুন হলেও এর উৎপত্তি ৭ম খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার দামেস্কে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরকে সুকুক বন্ড সম্পর্কে সম্যক ধারনা প্রদানের জন্য এর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-

সুকুক বন্ড কিঃ
সুকুক একটি আরবি শব্দ যাকে বাংলায় বিনিয়োগ সার্টিফিকেট বা নোট বলে। সুকুক নোটের মালিক শরিয়াহ্ নীতিমালা মেনে চলা কোন বিনিয়োগ প্রকল্পের বা কোন সম্পদের আনুপাতিক মালিকানা পেয়ে থাকেন। সুকুকের (শরিয়াহ্ বন্ড নামে পরিচিত) মূলনীতী হলো যে এর ধারক একটি সম্পত্তির অবিভক্ত মালিকানার অধিকারী এবং তিনি উক্ত সম্পদ হতে অর্জিত আয়ের আনুপাতিক দাবিদার।

ইসলামিক ফাইন্যান্সের একটি উপাদান হিসাবে সুকুক একটি অ-সুদভিত্তিক বিনিয়োগ এবং অর্থায়নের উপকরণ। কিন্তু এর প্রয়োগ শুধু মুসলমানদের মধ্যে সিমাবদ্ধ নয়। কারণ এটি নৈতিক মান এবং ন্যায়বিচারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পদ্ধতি, যা সবার জন্য প্রযোজ্য।

সুকুক বন্ড কিভাবে কাজ করেঃ
খুব সাধারণভাবে বুঝতে গেলে সুকুক বন্ডে প্রধানত ৩টি পক্ষ থাকে যেমনঃ

১. উদ্যোক্তা যিনি ইনিসিয়েটর বা বন্ডের অর্থ ব্যবহারকারী (বাংলাদেশের প্রথম সুকুক বন্ডের ক্ষেত্রে উদ্যোক্ত হলো বাংলাদেশ সরকার)

২. মধ্যস্থাকারী বা এসপিভি যিনি অর্থ ব্যবহারকারী ও বিনিয়োগকরীর মধ্যে সমন্বয় করে থাকেন (বাংলাদেশের প্রথম সুকুক বন্ডের ক্ষেত্রে মধ্যস্থাকারী হলো বাংলাদেশ ব্যাংক)

৩. বিনিয়োগকারী যিনি উক্ত সুকুক বন্ড মধ্যস্থাকারীর মাধ্যমে ক্রয় করে সম্পদের আনুপাতিক মালিকানার অধিকারী হন।

উক্ত পক্ষগুলোর কাজের ধাপ নিম্নরূপঃ
ধাপ-১ঃ উদ্যোক্তা কোন বিশেষ বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহন করে তার সম্ভাবনা বিচার-বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ সুকুক বন্ড বিক্রয়ের মাধ্যমে যোগাড় করার জন্য মধ্যস্থাকারীর নিকট প্রস্তাব পেশ করবে। বাংলাদেশের প্রথম সুকুক বন্ডের ক্ষেত্রে সরকার ‘সেফ ওয়াটার সাপ্লাই ফর হোল কান্ট্রি’ নামক প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য সুকুক বন্ড বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ যোগাড় করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রস্তাব প্রদান করে।

ধাপ-২ঃ উক্ত প্রাপ্ত প্রস্তাব যথাযথ মনে হলে মধ্যস্থাকারী নিলামের মাধ্যমে বা প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের মাধ্যমে বা অন্য কোন অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় উক্ত প্রকল্পের মালিকানা সুকুক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের নিকট বিক্রয় করে অর্থ সংগ্রহ করে এ সংক্রান্ত একটি আলাদা ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করবে।

ধাপ-৩ঃ উক্ত প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা মধ্যস্থাকারী উদ্যোক্তার নিকট হতে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে উক্ত প্রকল্পের মালিকানা ক্রয় করে নিবে এবং উদ্যোক্তা অর্থ পরিশোধ করবে। অতঃপর ক্রয়কৃত প্রকল্প পরিচালনার জন্য মধ্যস্থাকারী বাৎসরিক নির্দিষ্ট হার ভাড়ায় উদ্যোক্তার নিকট নির্দিষ্ট মেয়াদে লিজ বা ইজারা প্রদান করবে।

ধাপ-৪ঃ ধাপ ৩ এ বর্ণিত ইজারা হতে প্রাপ্ত ভাড়া নির্ধারিত সময়ে আদায় করে মধ্যস্থাকারী- তা বিনিয়োগকারীকে প্রদান করবে এবং বিনিয়োগকারী এভাবেই ইজারা বা বন্ডের মেয়াদে সুদের পরিবর্তে ভাড়া আকারে আয় পেতে থাকবে।

ধাপ-৫ঃ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মধ্যস্থাকারী বিনিয়োগকারীর পক্ষে উক্ত প্রকল্প উদ্যোক্তার নিকট পূর্ব নির্ধারিত দরে (সমমূল্যে/বর্ধিতমূল্যে/হ্রাসকৃত মূল্যে) বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগকারীকে ফেরত প্রদান করবে। অনেক ক্ষেত্রে উক্ত সুকুক বন্ড মেয়াদ শেষে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিকানায়ও (নির্দিষ্ট অনুপাতে) রূপান্তর করার সুযোগ থাকে যা বিনিয়োগকারী ইচ্ছা করলে করতে পারে।

উপরোক্ত প্রধান পক্ষসমূহ ছাড়াও আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যারা পুরো প্রক্রিয়াটি সরকার ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকর্তৃক প্রণিত এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করে থাকে।

সুকুক বন্ডের মৌলিক নীতিমালামসূহঃ
সুকুক বন্ড নিন্মুক্ত মৌলিক নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকেঃ

১. সুকুক থেকে অর্থায়ন করা প্রকল্পসমূহ অবশ্যই জনকল্যানকর হতে হবে এবং শরিয়াহ্ আইনে অবৈধ কোন পণ্যের কারবার করা যাবে না।

২. সুকুকের আওতায় কোন সম্পদ স্থানান্তর বৈধ চুক্তির মাধ্যমে হতে হবে।

৩. শরিয়াহ্ আইনে বৈধ পণ্য বা সেবার লেনদেন করতে হবে এবং ফটকাবাজি বা জোর-জুলুম করে কোন লেনদেন করা যাবে না।

৪. পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও কোন প্রকার সুদের সম্পৃক্ততা থাকা চলবে না।

৫. সুকুক লেনদেন অবশ্যই সু-নির্দিষ্ট সম্পদভিত্তিক হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অধিকার ও দায় সু-স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

৬. সুকুক থেকে অর্জিত আয় হতে হবে মুনাফার অংশ বা ভাড়ার অংশ বা সম্পদ বিক্রয় হতে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ।

সুকুক বন্ডের সাথে সাধারণ বন্ডের পার্থক্যমসূহ নিম্নরুপঃ

১. সাধারণ বন্ড একটি সুদভিত্তিক অর্থায়ন পদ্ধতি, যার মালিক নির্দিষ্ট হারে ঋণ গ্রহিতার কাছ থেকে সুদ পেয়ে থাকে। কিন্তু সুকুক বন্ডের মালিক উক্ত লেনদেনে সম্পৃক্ত সম্পত্তির আনুপাতিক মালিকানার অংশ পেয়ে থাকে এবং ব্যবসায়ের লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে মুনাফা পেয়ে থাকেন।

২. সাধারণ বন্ড যেকোন সম্পদের বিপরীতে ইস্যু করা যায়, কিন্তু সুকুক বন্ড শুধুমাত্র শরিয়াহ্ অনুমোদিত সম্পদের বিপরীতে ইস্যু করা হয়।

৩. সুকুক বন্ডের মূল্য নির্ধারণ করা হয় সংশ্লিষ্ট সম্পদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কিন্তু সাধারণ বন্ডের মূল্য নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণমাণ ও আর্থিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে।

৪. সুকুক থেকে অর্জিত আয় হতে হবে মুনাফার অংশ বা ভাড়ার অংশ বা সম্পদ বিক্রয় হতে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ। কিন্তু সাধারণ বন্ড হতে বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট হাবে সুদ পেয়ে থাকে।

৫. মেয়াদ শেষে সুকুকের মালিক সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রি করে তার অর্থ ফেরত পেয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ বন্ডের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী শুধুমাত্র ঋণপত্রের মালিকানা বিক্রয়ের অধিকার পায়।

৬. সুকক বন্ডে মূল বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতের কোন নিশ্চয়তা প্রদান করা হয় না, অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট সম্পদের মূল্য হ্রাস পেলে সুকুক বন্ডের মূল্যও হ্রাস পায়। কিন্তু সাধারণ বন্ডহোল্ডার তার মূল বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা পেয়ে থাকেন।

সুকুক বন্ডের প্রকারভেদঃ
অর্থায়নের ধরণ অনুযায়ী সুকুক বন্ড বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। বহুল প্রচলিত কিছু সুকুক বন্ড হলো-

১. ইজারা সুকুকঃ যার মাধ্যমে সুকুক ক্রেতা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা উদ্যোক্ত বা অর্থ সংগ্রহকারীর নিকট হতে ক্রয় করে পুনরায় সেটি উদ্যেক্তার নিকট নির্দিষ্ট মেয়াদে ও নির্দিষ্ট ভাড়ায় ইজারা প্রদান করে থাকে। মেয়াদ শেষে সুকুকের মালিক উদ্যোক্তার নিকট উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পেয়ে থাকে।

২. মুরাবাহা সুকুকঃ যার মাধ্যমে সুকুক ক্রেতা সল্প-মেয়াদের জন্য উদ্যোক্তাতাকে অর্থের যোগান দিযে থাকে। এ ক্ষেত্রে সুকুক মালিক কোন নির্দিষ্ট পন্য সরবারহকারীর নিকট হতে ক্রয় করে উক্ত ক্রয় মূল্যের সাথে মুনাফা যোগ করে উদ্যোক্তা বা অর্থ সংগ্রহকারীর নিকট বিক্রয় করে থাকে এবং ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের পার্থক্যই উক্ত সুকুকের আয় বলে বিবেচিত হয়।

৩. মুদারাবা সুকুকঃ মুদারাবা সুকুকের মাধ্যমে লাভ-লোকসান অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়। উক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ যোগানকারী ও অর্থ গ্রহনকারী পারস্পারিক চুক্তির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান ভোগ করে থাকেন।

৪. ইসতিসনা সুকুকঃ বৃহৎ প্রকল্পের অর্থের যোগানের জন্য ইসতিসনা সুকুক ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে সুকুক গ্রহিতা মধ্যস্থাকারীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মালিকানার বিপরিতে অর্থ প্রদান করে থাকে এবং উক্ত প্রকল্প শেষ হলে তা নির্ধারিত মূল্যে কিস্তি-ভিত্তিক পরিশোধের শর্তে উদ্যোক্তার নিকট বিক্রয় করে থাকে বা নির্দিষ্ট ভাড়ায় ইজারা প্রদান করে থাকে।

৫. সালাম সুকুকঃ কৃষি ক্ষেত্রে অর্থের যোগানের জন্য সালাম সুকুক ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে সুকুক গ্রহিতা কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তি ভবিষ্যতে কোন নির্দষ্ঠ তারিখে পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে পাওয়ার শর্তে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করে থাকে এবং পরিশোধিত মূল্য ও হস্তান্তরকৃত মূল্যের পার্থক্যই মুনাফা বলে বিবেচিত হয়।

সুকুক বন্ডে কেন বিনিয়োগ করবেনঃ
সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা সামগ্রিক ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক মন্দা ব্যতিত সুকুক বন্ডে বিনিয়েগে কোন ঝুঁকি নেই। মেয়াদ শেষে যদি উদ্যোক্তা অর্থ পরিশোধ করতে না পারে তবে সুকুক মালিকগণ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে নিজেরা ব্যবস্থাপনা করতে পারে বা অন্যত্র বিক্রয় করে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পেতে পারে। সুদভিত্তিক বিনিয়োগ যারা পছন্দ করে না তাদের জন্য সুকুক বন্ড হতে পারে অন্যতম বিকল্প হালাল উপার্জনের মাধ্যম। সুকুক বন্ড সহজে হস্তান্তর করা যায়, মেয়াদ পূর্তির আগে বিক্রয় করা যায় এবং হালাল উপায়ে দেশের অবকাঠামো নির্মানে অর্থায়ন করে দেশ সেবার সুযোগ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে সুকুক বন্ডের সূচনাঃ
২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘সেফ ওয়াটার সাপ্লাই ফর হোল কান্ট্রি’ নামক প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য সর্বপ্রথম সুকুক বন্ড (ইজারা সুকুক) বিক্রয় করা হয় যেখানে উদ্যোক্তা হলো বাংলাদেশ সরকার এবং মধ্যস্থতাকারী হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারী পর্যায়ে বেক্সিমকো তিন হাজার কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহের জন্য ‘গ্রীন সুকুক বন্ড’ ইস্যু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়াহ্ভিত্তিক বিনিয়োগ পদ্ধতি দেশের অর্থনীতীর চাকাকে আরও গতিশীল করতে যথেষ্ঠ ভুমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেশের শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশের বাজারে সুকুক বন্ড একটি নতুন ধারণা তাই এটিকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে নিন্মোক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারেঃ

১. সাধারণ শেয়ারের মতো সুকুক বন্ড ইস্যুর পূর্বে ‘রোড শো’ বা ভিন্ন কোন প্রচারণা চালানো যেতে পারে।

২. ইসলামী ব্যাংক বা ইনস্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান যেখানে সাধারণ মানুষ সুদবিহীন বিনিয়োগের জন্য যোগাযোগ করে তাদেরকে সুকুক বন্ডের প্রচারণার জন্য উদ্ভুদ্ধ করতে হবে।

৩. সুকুক বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানে যোগ্য আলেম দ্বারা শরিয়াহ্ বোর্ড গঠন করতে হবে এবং বন্ড ইস্যুর পূর্বে উক্ত আলেমদের দ্বারা প্রচারণা চালানো যেতে পারে।

৪. সুকুক বন্ডের বিপরীতে আয় নির্ধানের সময় কোম্পানীর শেয়ার মূলধনের বিপরীতে প্রদত্ত লভ্যাংশের হারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারণ করলে বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট করতে সহজ হবে।

৫. সুকুক বন্ডের সুবিধাসমূহ ডিজিটাল প্রচারণা চালানো যেতে পারে।

লেখকঃ ডিজিএম ও সিএফও, ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories