শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

খুলনায় নতুন সাজে সেজেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; দেখা দিয়েছে উৎসাহ, কেটেছে হতাশা

/ ১৭ /২০২১
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

খুলনায় নতুন সাজে সেজেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; দেখা দিয়েছে উৎসাহ, কেটেছে হতাশা।

ইশরাত ইভা (খুলনা ব্যুরো প্রধান):

প্রায় দের বছর পরে আজ রবিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এতে খুলনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ, কেটেছে হতাশা। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে শুরু করেছে। আর স্কুলে ঢুকতেই ফুল ও চকলেট দিয়ে বরণ করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

দীর্ঘদিন পর নতুন সাজে সেজেছে শিক্ষার্থীদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয়। এসব দেখে বিমোহিত শিক্ষার্থীরা।আবারো পাঠদান করাতে পেরে খুশি শিক্ষকরা শিক্ষিকারাও। তবে বাচ্চারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিনা এ নিয়ে অভিভাবকদের ভেতর রয়েছে শঙ্কা। কেউ কেউ আবার স্কুলের ক্লাস টাইম বাড়ানোরও দাবিও জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার প্রথম দিনে খুলনা জেলা স্কুল, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খুলনা সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি ইকবাল নগর বালিকা বিদ্যালয়, সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়, পাইওনিয়ার বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেশিই ছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা গেছে অভিভাবকদেরও।

খুলনা জেলা স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শরিফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে এক দিকে যেমন আনন্দিত; অন্যদিকে দুশ্চিন্তাও রয়েছি। হাজার হলেও বাচ্চা তো! বাসা থেকে মাস্ক পরিয়ে বার বার বলে দেওয়া হয় মাস্ক যাতে না খোলে। কিন্তু কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকবে সেটা নিয়ে চিন্তিত। মাস্ক খুলে ফেলতে পারে। তাছাড়া স্কুলের ঠিকমত স্বাস্থ্যবিধি মানবে কিনা সেটা নিয়েও রয়েছি উদ্বিগ্ন। সবচেয়ে ভালো লাগছে, এতো দিন আমার ছেলে সকাল ১০/১১ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতো। স্কুলের যাওয়ার আনন্দে আজ সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠেছে। সবমিলিয়ে আবারও আমার সন্তান যে স্কুলে লেখাপড়ায় ফিরতে পেরেছে, এতে আমি খুব খুশি।

খুলনা মেট্রো পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ঈদের চেয়ে বেশি খুশি লাগছে। পুরো স্কুলটা নতুন মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর স্বশরীরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিবো। খুশিতে ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে উঠেছি। এর একটাই কারণ কত দ্রুত এইসব শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা হবে। স্কুলের ভেতরের জঙ্গল কেটে এবং স্কুল ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হওয়ায় তাদের জন্য আমরা অর্ভথ্যনার ব্যবস্থা করেছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে সকল শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্কুল খোলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। আগের মতো স্কুলে শিক্ষার্থীদের হৈ চৈ মেতে উঠবে। দৃশ্যটি দেখে ভালো লাগছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ।

খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাদিকুর রহমান খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ একেবারেই কম বিধায় কোন সমস্যা হবে না। দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায় উপস্থিত হয়েছে এসব শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে সরকার যে ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিস। এর আগে সপ্তাহখানিক ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে করা হয়েছে ধোয়া-মোছার কাজ। দূরত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ সংযোজন করা হয়েছে। প্রবেশ গেটে ‘নো মাস্ক, নো স্কুল’ সহ বিভিন্ন সচেতনতা ও নির্দেশনামূলক লেখা টানানো হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জটলা ভিড় এড়াতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বৃত্ত অঙ্কন করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির দিনটা স্মরণীয় করতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে বরণ করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শিক্ষার্থীদের আগমনকে সুন্দর করতে ফুল-কলম এবং রংয়ের বেলুন দিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে স্কুলে আগত শিক্ষার্থীদের করতালি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories