বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০১:২২ অপরাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

আখাউড়ায় গাছে গাছে লোহার পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড

বাংলাদেশ প্রতিবেদন
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

আখাউড়ায় গাছে গাছে লোহার পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড।

মো:আশরাফুল আলম আসিফ আখাউরা(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি

গাছ মানুষের পরম বন্ধু, গাছ অক্সিজেন দেয় সে অক্সিজেন নিয়ে মানুষ বেচে থাকে। সেই সাথে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ঘরবাড়ীও রক্ষা করে। আর জীবন বাঁচানো সেই গাছে লোহার পেরেক ঠুকে সাটানো হয়েছে অসংখ্য সাইনবোর্ড । এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে।

ওই সড়কের দুই পাশে থাকা বেশীরভাগ গাছে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের অসংখ্য সাইনবোর্ড লোহার পেরেক ঠুকে সাটানো হয়েছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কের গাছের মধ্যে ও লোহার পেরেক ঠুকে সাটানো হয়েছে । গাছে পেরেক ঠুকে এসব লাগানো আইনসম্মত না হলেও তা কেউ মানছে না। এতে সড়কের গাছগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে গাছে গাছে সাইনবোর্ড লাগানোর বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না স্থানীয় সচেতন মহল।

জানা যায়, উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে বর্তমানে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়েছে। পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার প্রায় ২ লাখ লোকের একমাত্র চিকিৎসার ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি। এই হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছেন। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশ পথের সড়কের দুই পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ রয়েছে।ওইসব গাছের বেশীভাগের মধ্যে ঝুলছে চিকিৎসক ও বিভিন্ন ক্লিনিকের প্রচার-প্রচারণার অসংখ্য সাইনবোর্ড । এসব সাইনবোর্ডগুলো লোহার পেরেক ঠুকে গাছের মধ্যে সাটানো হয়। রোগীদের আকৃষ্ট করতে কোন কোন গাছে ৮-১০টি সাইনবোর্ড সাটানো হয়। যে ভাবে গাছে গাছে পেরেক ঠোকানো হচ্ছে মনে হয় দেখার যেন কেউ নেই। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন সড়কের গাছের মধ্যে ও লোহার পেরেক ঠুকে সাটানো হয়েছে ।

এদিকে গাছ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ‘গাছের পরিবহন সিস্টেম দু’টি রয়েছে। একটি হলো জাইলেম আর আরেকটি হলো ফ্লোয়েম। পানির সঙ্গে দ্রবীভূত খনিজ লবণও জাইলেম টিস্যুর মাধ্যমে উপরে প্রবাহিত হয়। আবার গাছের পাতা থেকে যে খাদ্য তৈরি হয়, সেটা আবার গাছের ছাল দিয়ে ভেতরে যায়। ছালের নিচে ফ্লোয়েম রয়েছে। পাতা থেকে সেটা গাছের নিচের দিকে আসে। এখন যদি গাছে কোনও ধরনের পেরেক মারা হয়, তাহলে ফ্লোয়েম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পাতায় উৎপাদিত খাদ্য রুটে যেতে পারে না। আর যদি বড় পেরেক মারা হয়, তবে পানি, খনিজ লবণের পরিবহন বাধা পায়। এতে গাছ প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ পায় না।’

তাছাড়া গাছে পেরেক লাগানোর কারণে গাছের গায়ে যে ছিদ্র হয় তা দিয়ে পানি ও এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব ঢোকে। এতে গাছের ওই জায়গায় পচন ধরে। ফলে গাছের খাদ্য ও পানিশোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একসময় গাছটি মরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আখাউড়া সচেতন নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুসলেহ উদ্দিন বলেন, সরকারি হাসপাতালের সড়কের পাশের প্রতিটি গাছে পেরেক মেরে গাছে গাছে চিকিৎসক আর ক্লিনিকের সাইনবোর্ড সাটানো খুবই দুঃখ জনক। চিকিৎসক হয়ে পরিবেশ ও আইনের তোয়াক্কা না করে গাছে পেরেক মেরে তারা সাইনবোর্ড লাগাবে তা কখনও কল্পনা করা যায় না। তিনি আরো গাছ কোনো জড়বস্তু নয়। গাছের ও প্রাণ আছে। একেকটা গাছ একেকটা অক্সিজেনের কারখানা। সচেতন মানুষ হয়ে কি ভাবে অসচেতন কাজ করছেন তা ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

ব্যবসায়ী আলহাজ্ব বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গাছের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা খুবই কষ্টদায়ক। গাছ পরিবেশ ও মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু। পাশাপাশি গাছ আমাদের সম্পদও। যাঁরা মানুষকে সচেতন করবেন তাঁরা নিজেরাই গাছে পেরেক ঠুকে নিজেদের অসচেতনতার পরিচয় তুলে ধরেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি দেখবাল করতেন তাহলে এগুলো করতে পারতো না।

মো. মজিবুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালের সড়কে চিকিৎসরকদের সাইনবোর্ড গাছে গাছে সাটানো তা খুবই দু:খ জনক। পরিচিতির জন্য মানুষের নজরে আসতে এভাবে গাছের ডালে লাগানো হবে তা কখনও কল্পনা ও করিনি। পরিবেশ রক্ষার্থে গাছের সাথে এ নিষ্ঠুর আচরণ বন্ধে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ছায়া দেয়, ফল-ফুল ও জ্বালানী দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। ঝড়-বন্যা থেকে রক্ষা করে। গাছে লোহা দিয়ে সাইনবোর্ড সাটানো খুবই দু:খ জনক । লোহা মারার কারণে গাছের ক্ষতি হওয়ায় সম্ভাবনা আছে। এতে গাছের কাঠের গুনগতমান নষ্ট হয়ে যায়। পরিবেশ রক্ষার জন্য যেমন পাখি নিধন নিষেধ, তেমনি গাছের ক্ষতি করাও দন্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন জীবন্ত গাছে লোহার পেরেক দিয়ে সাইনবোর্ড সাঁটানো একটি অমানবিক কাজ। এরফলে বনজ জাতীয় গাছের কাঁঠের গুনগত মান নষ্ট হয় আর ফলজ বা ঔষধি জাতীয় গাছে লোহার পেরেক দিলে তাতে ফলন কমে যাবে। গাছে লোহা দিয়ে সাইনবোর্ড না লাঘাতে এবং এলাকায় সচেতনতা তৈরিতে আমরা কাজ করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ