বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

প্রখ্যাত লেখক আহমদ ছফার ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী

ড. আ.ন.ম এহছানুল মালিকী
প্রকাশকালঃ বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

প্রখ্যাত লেখক আহমদ ছফার ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী

আহমদ ছফা একজন বাংলাদেশী লেখক, কবি ও সমাজবিজ্ঞানী। আজ তাঁর বিশতম মৃত্যুবার্ষিকী। তার লেখার মধ্যে বাংলাদেশের জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারনে প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা হেদায়েত আলী ওরফে ধন মিয়া ও মা মরহুমা আসিয়া খাতুনের ছিলেন তিনি দ্বিতীয় সন্তান।

আহমদ ছফার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ গাছবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে নিজের গ্রামের নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম নাজিরহাট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন একই বৎসরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে। পরে বাংলা বিভাগে ক্লাশ করা অব্যাহত রাখেননি। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী ও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে এমএ পরীক্ষা পাশ করেন। উচ্চ ডিগ্রির জন্য আরো চেষ্টা করে তিনি সফল হননি। পরে ১৯৮৬ সালে জার্মান ভাষার ওপর গ্যোটে ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন, যে জ্ঞান তাঁকে পরবর্তী সময়ে গ্যাটের অমর সাহিত্যকর্ম ফাউস্ট অনুবাদে সাহস জুগিয়েছিল।

লেখালেখি শুরু করেন ষাটের দশক থেকে। ১৯৬৭ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘সূর্য তুমি সাথি’ প্রকাশ হয়। বাংলাদেশের চিন্তাজগতেও আহমদ ছফা ছিলেন অনন্য। ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ ও ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ নামে দুটি প্রবন্ধের বইয়ে ছফার চিন্তার সেই অনন্যতার প্রতিফলন ঘটেছে। লিখেছেন আরও অনেক প্রবন্ধ। এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘জল্লাদ সময়’, ‘একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা’, ‘লেনিন ঘুমোবে এবার’ ইত্যাদি। ‘নিহত নক্ষত্র’ তার একমাত্র ছোটগল্পের বই। অনুবাদ করেছেন জার্মান কবি গ্যাটের বিখ্যাত কাব্য ‘ফাউস্ট’। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখে গেছেন। স্বাধীনতার পর আহমদ শরীফের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ লেখক শিবির’। বলা যায় আহমদ ছফা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণ কাহিনী মিলিয়ে তিরিশটির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার জীবদ্দশায়ই আহমদ ছফা রচনাবলি প্রকাশ শুরু হয়। তার রচনাবলী নয় খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো নিন্মরুপ- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭), ওংকার (১৯৭৫), একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন (১৯৮৮), মরণবিলাস (১৯৮৯), অলাতচক্র (১৯৯৩), গাভী বিত্তান্ত (১৯৯৫), অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬), পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৯৬), গল্পসংগ্রহ: নিহত নক্ষত্র (১৯৬৯), ইতিহাসগ্রন্থ: সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস (১৯৭৯), সৃজনশীল জীবনী: যদ্যপি আমার গুরু (১৯৯৮)।

সৃষ্টিশীল লেখক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ, আদর্শনিষ্ঠ এবং প্রগতিপন্থি সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন আহমদ ছফা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরের বছর ১৯৭২ সালে তার রচিত বই ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ তুমুল সাড়া জাগিয়েছিল। তিনি এ বইতে বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা করেছেন। আহমদ ছফা দেখাতে চেয়েছেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বুদ্ধিজীবীদের কর্মকা- ও ভবিষ্যৎ ভাবনা। তার প্রবন্ধগুলো হলো: জাগ্রত বাংলাদেশ (১৯৭১), বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৭২), বাংলা ভাষা: রাজনীতির আলোকে (১৯৭৫), বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা (১৯৭৭), বাঙালি মুসলমানের মন (১৯৮১), শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৮৯), অংঢ়বপঃ ড়ভ ঝড়পরধষ ঐধৎসড়হু রহ ইধহমষধ ঈঁষঃঁৎব ধহফ চবধপব ঝড়হম (১৯৯১), রাজনীতির লেখা (১৯৯৩), আনুপূর্বিক তসলিমা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ (১৯৯৪), নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ (১৯৯৫), সঙ্কটের নানা চেহারা (১৯৯৬), সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৯৭), শরবর্ষের ফেরারী: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৯৭), শান্তিচুক্তি ও নির্বাচিত প্রবন্ধ (১৯৯৮), বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র (২০০১), উপলক্ষের লেখা (২০০১), আমার কথা ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০০২), সেইসব লেখা (২০০৮)।

অনুবাদ, কবিতা ও অন্যান্য গ্রন্থগুলো: তানিয়া (মূল: পি. লিডভ) (১৯৬৭), সংশয়ী রচনা: বার্টারু রাসেল (১৯৮২), ফাউস্ট (মূল: ইয়োহান ভোলফ্ গাঙ ফন গ্যোতে) (১৯৮৬), কবিতা: জল্লাদ সময় (১৯৭৫), দুঃখের দিনের দোহা (১৯৭৫), একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা (১৯৭৭), লেনিন ঘুমোবে এবার (১৯৯৯), কিশোর গল্প: দোলো আমার কনকচাঁপা (১৯৬৮), শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ: গো-হাকিম (১৯৭৭)।

আহমদ ছফা ১৯৭৫ সালে লেখক শিবির পুরস্কার ও ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমীর সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। বাংলা একাডেমি হতে ২০০২ সালে তাকে সাহিত্যে (মরণোত্তর) একুশে পদক দেওয়া হয়।

২০০১ সালের ২৮ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবি গোরস্থানে তাঁর দাফন হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ