বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
বিশেষ ঘোষণাঃ
• করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, টিকা নিন। • গুজব নয়, সঠিক সংবাদ জানুন। • দেশের কিছু জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। • আপনি কি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ফিল্ম ও মিডিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিষয়ে পড়ছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে 'ইন্টার্নশিপ'-এর সুযোগ। • আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলতি পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যেকোনো ভিন্নধর্মী খবর (ছবি অথবা ভিডিও) পাঠাতে পারেন। • হটলাইনঃ +৮৮০ ১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ (হোয়াটসঅ্যাপ), • ই-মেইলঃ protibedonbd@gmail.com • গুগল, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমাদের পেতে Bangladesh Protibedon লিখে সার্চ দিন।

লঘুচাপের মধ্যে সাগরে যেতে প্রস্তুত চরফ্যাশনের জেলেরা

এআর সোহেব চৌধুরী নিজস্ব প্রতিবেদক ভোলা
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

উপকূলীয় জেলার সাগরে ৬৫দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে শুক্রবার (২৩জুলাই) মধ্যরাত থেকে। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই মৎস্য শিকারে সাগরে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে চরফ্যাশনের জেলেরা। আর তাই এসব জেলে ব্যস্ত সময় পাড় করছে সর্বত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে।

মহামারি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ও সাগরে ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধে বেকার বসে থেকে ঋণ করে চলতে হয়েছে প্রান্তিক অনেক জেলেকে।

চরফ্যাশন উপজেলার তালিকাভূক্ত প্রায় ৪৫ হাজার জেলের মধ্যে সমুদ্রগামি প্রায় ২০ হাজার জেলে নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে গভীর সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেও উপজেলা মৎস্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উপকূলে থেকে মৎস্য শিকারের জন্য বলা হচ্ছে।

উপজেলা সিপিপির সহকারী পরিচালক মেজবা উর রশিদ জানান, বৈরি আবহাওয়ার জন্য গভীর সমুদ্র ও চারটি বন্দরকে ৩নাম্বার সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। ফলে মাছ ধরার ট্রলারসহ সকল নৌ-যানকে সমুদ্র উকূলে থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হরেয়ছে। পহেলা জুলাই থেকে সাগর ও নদ-নদীতে অনেকটা ইলিশ মাছসহ অন্যান্য মাছ পড়া শুরু করলেও লঘুচাপের জন্য গভীর সাগরে মৎস্য শিকারে যেতে পাড়ছেনা সমুদ্রগামী এসব জেলেরা।

প্রস্তুতির এ শেষ দিনে দীর্ঘদিন নদী ও সাগরে কাঙ্খিত মাছ না পাওয়া হতাশাগ্রস্ত জেলে ও মাঝি-মাল্লা থেকে শুরু করে আড়ৎদার ও সংশ্লিষ্ট পেশার শ্রমিকরা নতুন ভাবে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে মৎস্য উৎসবের মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে মধ্যরাতে সাগরে যাওয়ার এ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে।

ঢালচর ও কুকরি-মুকরিসহ সামরাজ মৎস্যঘাটের একাধীক জেলে বলেন, করোনার এ লকডাউনে ধারদেনা শেষে সাগরে যাওয়ার পূর্বে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নামায় (সাগরে) নামছেন তাঁরা।

ঢালচরের জেলে পল্লীর আইয়ুব আলী বলেন, পেটের টানে ঝড়-ঝঞ্চার মধ্যেও গভীর সাগরে যেতে হয় তাঁদের। তিনি আরও বলেন, আমাদের মাঝারী বাব ড় একটি ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে সব মিলিয়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়। তবে নতুন একটি মাঝারী কিংবা বড় ট্রলার তৈরী করে নদী বা সাগরে নামাতে যন্ত্রাংশসহ সব মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা খরচ হয়।

মানিকা ইউনিয়নের একাধীক জেলে বলেন, ৬৫টি দিনের অবরোধ ও লকডাউনে বেকার বসে ছিলাম। ধারদেনা করে চলেছি। কোরবানীর ঈদেও ছেলে সন্তানাদী নিয়ে পাতে ভালো খাবার জোটেনি। গত সিজনে মহাজনের থেকে নেয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পাড়িনি। এবার আড়তদার ও দাদন ব্যবসায়ীরা আমাদের কয়েকজন জেলেকে দাদন দিতে নাড়াজ। কারণ গতবার চুক্তিমতো মাছ দিতে না পাড়ায় এবার তাঁরা ঝুঁকি নিতে চান না।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে সমুদ্রগামী ১৮হাজার ৮শ জেলে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে ৩নাম্বার সতর্ক সংকেত চলছে। ফলে মৎস্য শিকারে সমুদ্রগামী সকল নৌ-যানকে সাবধানে উপকূলীয় এলাকায় থেকে মৎস্য শিকারে যেতে মৎস্যঘাটগুলোতে ঘোষণা করা হচ্ছে। চরফ্যাশনে ১০হাজার যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক ট্রলার বা নৌকা রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রগামী ২৭শ ট্রলার রয়েছে। যার মধ্যে এফভি আশা,এফভি মায়ের দোয়া,এফভি চন্দ্র দ্বিপ ও এফবি আলোখ নুরসহ বড় ছোট একাধীক মৎস্য ট্রলার সমুদ্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ