সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলার পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। • বাংলাদেশ প্রতিবেদন-এর পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভাকাঙ্খীদের জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবরক’।

নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াবা মাফিয়া হ্লাতুসী মারমা দখলে বৃহৎ মাদক ও অস্ত্র পাচার রুট

/ ১১২ /২০২১
প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে ফিরে।।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম বিশাল সীমান্ত এলাকা দিয়ে সহজেই অবৈধ অস্ত্র, মাদক চোরাচালান, স্বর্ণ এবং মূল্যপান পাথর সহ নানা ধরণের জিনিস পাচার হয়ে আসছে বাংলাদেশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘকাল ধরে এই বিশাল চোরাচালানী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মারোগগাপাড়ার (বৌদ্ধ মন্দিরের লাগোয়া) মাফিয়া খ্যাত হ্লাথোয়াইচিং প্রকাশ হ্লাতুসী মারমা নামের এক ব্যক্তি। অত্যাধুনিক সশস্ত্র অবস্থায় থাকা এই হ্লাথোয়াইচিং মাঝে মধ্যে কক্সবাজার শহরের একটি ভাড়া বাসায়ও আস্তানা গেড়েন। থাইল্যান্ড, চীন ও মিয়ানমারে রয়েছে তার ঘনঘন যাতায়ত। আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) এর সদস্য বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানকারী এবং ভারত সীমান্তের কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদীরাই চোরাচালানী নেটওয়ার্ক সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার মুল গ্রাহক বলে জানা গেছে ।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পথের সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারে পায়ে হেটে সহজে যাওয়া আসা করা যায়। মিয়ানমার-বাংলাদেশ ও ভারত তিন দেশের সীমান্ত একই স্থানে হওয়ার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারী হ্লাতুসীসহ
চোরাকারবারীরা সীমান্তকে নতুন পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
তবে, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. আলমগীর হোসেন সীমান্তের ইয়াবা ও স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের বিষয়টি স্বীকার করলেও অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনা তার অজানা।

সীমান্তে দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে অনেকগুলো বিদ্রোহী দল রয়েছে। এই বিদ্রোহী দলগুলোর চীন থেকে অস্ত্র পাচারের ঘটনায় সেই দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মিয়ানমারের বিদ্রোহী দলগুলোর সাথে নাইক্ষ্যংছড়ির মাফিয়া চক্রের যোগাযোগ রয়েছে অনেকদিন। সীমান্তের চোরাই পথে মিয়ানমারে নিয়মিত যাওয়া আসার করছে মাফিয়া হ্লাতুসী মারমা। তার মাধ্যমে এদেশীয় ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা চাইনিজ রাইফেল, মেশিন গান, বুলেট সরবরাহ করে আসছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

একটি দায়িত্বশীল সুত্র মতে, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আনা এসব অস্ত্র যাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী, আরসার ও ভারতে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদীর হাতে। সশস্ত্র
আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে । এরা বাংলাদেশেও সন্ত্রাসী দল হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিচিত পেয়েছে।

১৯ জুলাই কক্সবাজারে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কলিমুল্লাহ প্রকাশ করিম (৩২) নামে একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। কথিত ‘আরসা’ ও ‘আল-ইয়াকিন’ নামধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসাবে তিনি ক্যাম্পে পরিচিত ছিল। নিহত করিম উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মীর আহমেদের ছেলে। তিনি এর আগে প্রকাশ্যে চাইনিজ পিস্তল হাতে নিয়ে খুনসহ একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেই সব ভাইরাল ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে ছিল।
সুত্র মতে, হ্লাতুসী মারমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও ইয়াবা এবং অস্ত্র ব্যবসার কারণে রোহিঙ্গা এবং এদেশীয় আরো কিছু মাফিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে দিব্যি চোরাচালান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৌদ্ধ ধর্মীয় অনেক নেতা ও বৌদ্ধ মন্দির পরিচালক কয়েকজন ধর্মীয় গুরু অপকটে স্বীকার করেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম সীমান্তপথে অহরহ ইয়াবা পাচার করছে হ্লাতুসী মারমা।

মাদক কারবারী হ্লাতুসী নিজেই সশস্ত্র অবস্থায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান নিয়ে আসে। তবে মারোগগাপাড়ার বেশির ভাগ বাসিন্দা তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, হ্লাতুসীর রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজার শহর কেন্দ্রীক ৩০ জনে ইয়াবা কারবারী সিন্ডিকেট। সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তপথে মাদকদ্রব্য পাচার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। গত ২০১০ সাল থেকে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলেও ধুরন্ধর হ্লাতুসী মারমার ঠিকিও ছুঁতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে তিনি। কক্সবাজার শহরে বাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সোনাইছড়ি মারোগগাপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরে পাশে টিনসেড সেমিপাকা বাড়িটি সিসি ক্যামরা নিয়ন্ত্রিত। মোবাইলের মাধ্যমে সিসি ক্যামরা নজরদারী করে। মুুলত ইয়াবা ব্যবসা আড়াল করতে সোনাইছড়িতে গড়ে তুলেছে বিশাল মৎস্য চাষ ও গরু ফার্ম। সেখানে খামার বাড়ী করে ইয়াবা কেনা বেচা করে। প্রতিদিনই রাতে তার খামার বাড়ীতে অচেনা লোকজনের আনাগোনা থাকে। এছাড়াও ঘুরে বেড়ান মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ। তার সাথে যোগাযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মাফিয়াদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চোরাচালানের নিরাপদ রুটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
সোনাইছড়ি পুলিশ ফাড়ির পাশে ভগবান টিলা রোড় দিয়ে রামু পঞ্জেখানা রুট, সোনাছড়ি থেকে মরিচ্যা বাজার রুট, বটতলি থেকে আপার রেজু ঢালা হয়ে দারিয়াট দীঘি রুট ও পাতা বাড়ি সড়ক দিয়ে বের হয়ে মরিচ্যা- চট্টগ্রাম সড়ক পথে পাচার হয় ইয়াবা, স্বর্ণ ও অস্ত্র।
সূত্র মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৬ এর ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এক স্মারকপত্র সূত্রে মাদকদ্রব্য অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) প্রণব কুমার নিয়োগী স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে স্থান পাওয়া ৭৬৪ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় বান্দরবানের ২৯ জনের নাম উঠে আসে। যার মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রয়েছে ২১জন মাদক কারবারীর নাম। এদের মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে ৯ জন, সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ২ জন, ঘুমধুম ইউনিয়নের ১০ জন। এই তালিকার শীর্ষে ছিল সোনাছড়ির মারোগগা পাড়ার হ্লাথোয়াইচিং প্রকাশ হ্লাতুসী মারমা ও ৬নং ওয়ার্ডে সাবেক মেম্বার সাইফুল।
সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম রেজু আমতলী বিজিবি ক্যাম্পের আওতাধীন শালবাগান এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার করছিল হ্লাতুসী মারমার মাদক পাচারকারীরা। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। জব্দকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই ইয়াবার চালানটি হ্লাতুসী সিন্ডিকেটের ছিল বলেও সুত্রে প্রকাশ।
এছাড়াও হ্লাতসী মারমার পার্টনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারী সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ইয়াবা গডফাদার সাইফুলের আস্তানায় হানা দিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ। ওসি মুহাম্মদ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে আটক এবং মাদক বেচাকেনার ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা জব্দ করেছিল। এঘটনায় ইয়াবা সম্রাট সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এই মামলায় চার্জশিটও আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এই মামলায় সাবেক মেম্বার সাইফুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে বর্তমান সদস্য চামরা মারমা বলেন, হ্লাতুসী ও সাইফুল সীমান্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত চোরাচালানে জড়িত। তারা পুরো সোনাইছড়ি কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট সৃষ্টি করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
নাইক্ষ্যং ছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে এটা সঠিক। এ পর্যন্ত তিনটি অভিযানে ৫ কেজির অধিক স্বর্ণ আটক ও বিপুল সংখ্যক ইয়াবার চালান আটক করা হয়েছে।
তবে অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টি তিনি অবগত নন। এ পর্যন্ত বিদেশী কোন অস্ত্র নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পুলিশ কিংবা বিজিবির হাতে আটক হয়নি। দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
তিনি বলেন, হ্লাতুসী মারমা, সাইফুল মেম্বার ও তার মেয়ের জামাইসহ একটি সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত।
সাইফুলের বাড়ী থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
তবে হ্লাতুসীকে আটক করার জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়েছে। ধুরন্ধর প্রকৃতির হ্লাতুসীকে আটক করা যায়নি।
সোনাই ছড়ি, দোছড়ি ও কুরুপপাতা ঝিরি দুর্গম এলাকায় সশস্ত্র আরসা সন্ত্রাসীরা এখনো রয়েছে বলে স্বীকার করেন ।
সীমান্তে অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টি জানার পর নজরদারী বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে হ্লাতসী মারমা এর সাথে কথা বলার জন্য একাধিক বার চেষ্টা করা হয়। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করা হয়, কিন্ত প্রতি বারই তিনি রিসিভ করেছেন, তবে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর তাকে ক্ষুদে বার্তাও প্রেরণ করা হয়, কিন্ত কোন জবাব দেননি।

একটি গোয়েন্দা সংস্থা সুত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন কেবল বাংলাদেশেই প্রায় ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পাচার হয়। আর এজন্য মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের আটটি সংগঠন গড়ে তুলেছে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা।
মুখোশধারী চোরাচালানিদের হাত দিয়ে এসব মাদক পৌঁছে যাচ্ছে দেশের অলিতে-গলিতে। ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। বাড়ছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারী বাড়ালে চোরাচালান হ্রাস পাবে বলে অভিমত সচেতন মহলের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories