সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলার পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। • বাংলাদেশ প্রতিবেদন-এর পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভাকাঙ্খীদের জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবরক’।

চট্টল পুরুষ এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

/ ৭৩ /২০২১
প্রকাশকালঃ রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

চট্টল পুরুষ এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::
অবিভক্ত ভারতবর্ষের কলকাতা, বাংলা, বিহার, মুলতান মূলক তথা উপমহাদেশের অবহেলিত, শোষিত মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানকারী, এবং নেতাজী সুভাষ বসুর নেতৃত্বে কলকাতায় ইংরেজ কর্তৃক স্থাপিত ‘হলওয়েল মনুমেন্ট’ উচ্ছেদের অন্যতম মহানায়ক ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের আধুনিকায়নের অন্যতম রূপকার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার, এককালীন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর ৪৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষে রবিবার (১৮ জুলাই) সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাউজান গহিরাস্থ মরহুমের কবরে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল, পুষ্পমাল্য অর্পণ ও জেয়ারতের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরস্থ মরহুমের পারিবারিক বাসভবন গুডস্‌হিলে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করবে। হাটহাজারীস্থ ফজলুল কাদের চৌধুরী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, ফজলুল কাদের চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ, মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও মিলাদ মহফিলের আয়োজন করেছে।

উল্লেখ্য, এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী ১৯১৯ সালের ২৬ মার্চ রাউজানের গহিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন কারমাইকেল হোস্টেলে ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন নিখিল ভারত (অল-ইন্ডিয়া) মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এবং ১৯৪২ সালে ভারতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন। ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা শাখার সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ১৯৫৪ এর নির্বাচনে এমএলএ নির্বাচিত হন, এ পদে থাকা অবস্থায়ই তিনি ১৯৫৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরিষদ-সদস্য নির্বাচিত হন। অবশ্য পরে তিনি মুসলিম লীগের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন। তিনি আইয়ুব খানের মন্ত্রিসভায় (১৯৬২) পরপর কৃষি ও পূর্তমন্ত্রী, শিক্ষা ও তথ্যমন্ত্রী এবং শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন (১৯৬৩)। কনভেনশন মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় (১৯৬২) তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় পরিষদের কোনো সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে, সুপ্রিম কোর্টের এমন একটি রায়ের ফলে (১৯৬৩) এসেম্বলিতে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হয় (মে ১৯৬৩)। ১৯৬৩ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ওই বছর অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে পুনরায় তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৯ নভেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হন। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় ১৯৬৫ সালে পুনরায় তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। দলীয় স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ১৯৬৬ সালে তাঁকে মুসলিম লীগ (কনভেনশন) থেকে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব সরকারের পতনের পর কনভেনশন মুসলিম লীগ বিভক্ত হলে ফজলুল কাদের দলের এক অংশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরী ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। একই সাথে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (চুয়েট), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি, চট্টগ্রাম মেরিন ফিসারিজ, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স,এনায়েত বাজার মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেন।

১৯৭৩ এর ১৮ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যু বরণ করেন। তবে পরিবারের দাবী ছিল, ১৯৭৩ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আধিপত্যবাদী, ব্রাহ্মণ্যবাদী ও চাণক্য বাদী শক্তি মরহুম এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীকে কলার ভেতর বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। কারণ মৃত্যুর পর মরহুম এ কে এম ফজলুল কাদের চৌধুরীর শবদেহ সম্পূর্ণ নীল বর্ণ ধারণসহ নাক, মুখ রক্ত মিশ্রিত তুলা দ্বারা আবৃত ছিল। মৃত্যুর পর মরহুমের লাশ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট হয়ে সরাসরি নগরীর গুডস হিলস্থ তাঁর বাসভবনে রাখা হয়। পরেরদিন ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্যারেড ময়দানে জানাযা শেষে মরহুমের পৈতৃক বসতবাড়ী রাউজানের গহিরাস্থ পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে কবরস্থ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories