সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলার পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। • বাংলাদেশ প্রতিবেদন-এর পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভাকাঙ্খীদের জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবরক’।

“মা” ডাকটি শুনার আগেই করোনা কেড়ে নিয়ে গেল জারিনকে

/ ১২৯ /২০২১
প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

প্রতীকী ছবি…

।। তোফায়েল আহমেদ।।

সন্তান সম্ভবা তরুণী বধু জারিন তাসমীন মুন্নী কভিড পজিটিভ হয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার বিয়ে হয়েছিল গত বছর। অনার্সের ছাত্রী তিনি। দুই জনই উখিয়ার খোন্দকার পাড়ার বাসিন্দা। স্বামী সাংবাদিক ফারুকের ভাইপো বিপু। এনজিওতে চাকরি করেন।
একটু বিলম্বিত কভিড টেস্টের কারণে কি রকম সর্বনাশ হতে পারে এটিই তার উদাহরণ। মুন্নীর এমন ভয়াবহ অবস্থা ছিল যে,তাকে হাসপাতালে আনার সাথে সাথেই আইসিইউতে অক্সিজেনের উপর রাখতে হয়েছে। এমনকি ঘন্টায় ৮০ লিটার অক্সিজেন দিতে হয়েছে তাকে।

অবস্থা যখন শেষের দিকে সাংবাদিক ফারুক আমাকে ফোন দেন। যিনি নিজেও তার শিশু সন্তান নিয়ে কভিডে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন। গোটা পরিবারটি যেন এক অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে।
ওদিকে জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকগন তাগিদ দিতে শুরু করেছেন মুন্নীর অবস্থা ভাল নয়। তারা এও বলছেন,সন্তান সিজারিয়ান করে নিয়ে ফেলাই ভাল হবে। আমাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার কারণে বিষয় টি নিয়ে উখিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী ও সাংবাদিক আবু তাহের ভাইয়ের সাথে শেয়ার করি।
তারা দুইজনই আবার ডাক্তার পরিবার। দুইজনেরই মেয়ে আর জামাই ডাক্তার। তিনজনে মিলে গত মধ্য রাতে সন্তান সম্ভবা কভিড আক্রান্ত তরুণী কে বাঁচানোর সে কি আকুতি। তার উপর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার থাকায় অনেক ডাক্তারই ছুটিতে ছিলেন। কভিড রোগী হওয়ায় হাসপাতালের ওটিতে মুন্নীকে নিয়ে যাওয়াও ছিল রিতীমত ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও সবার অনুরোধে সেই মধ্যরাতের পর গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাঃ খাইরুন্নেসা মুন্নী হাসপাতালে এলেন।
মধ্য রাতে একজন নারী চিকিৎসক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে আসতে একবারের জন্যও না করলেন না। বরং ডাঃ খাইরুন্নেসা মুন্নী বললেন, আমি যত ঝুঁকি হোক মাথায় নেব। সাহসী আর মানবিক ডাক্তার মুন্নী কে অভিনন্দন।

ততক্ষণে এনেস্থিসিয়ার দায়িত্বে থাকা ডাক্তারও এলেন। রোগী মুন্নী কে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হল। হাসপাতালের ডাক্তার নওশাদ রিয়াদ এবং ডাক্তার ইয়াসির আরাফাত থেকে যাদের বলা হয়েছে তারা সবাই উদ্বিগ্ন। সবার এক কথা – মা আর সন্তান এক সাথে যেন চিরবিদায় না নেয়।
এবার অপেক্ষার পালা। এক ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের মাধ্যমে কভিড রোগী প্রসব করলেন ফুটফুটে ছেলে শিশু। সেই শিশু দুনিয়াতে এসেছে ভাল ভালোই। মাও ততক্ষণে ভাল ছিলেন।
কিন্তু নিষ্ঠুর মহামারি কভিড-১৯ বলে কথা। আজ সাত সকালেই কভিড আক্রান্ত তরুণী বধু তার কলিজার টুকরো টিকে রেখে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পৃথিবীতে যে মা শব্দ টির বিবরণের শেষ নেই সেই মা ডাকটি শুনার আগেই করোনা হতভাগী মা কে শিশু সন্তানের বুক থেকে কেড়ে নিয়ে গেল। এই তরুণী মা’ র জন্য প্রভুর কাছে জান্নাত কামনা করছি। সেই সাথে শিশু টির জন্যও রইল শুভ কামনা। হাসপাতালের সকল ডাক্তার,নার্স এবং যারা কভিড আক্রান্ত মা কে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তাদের জন্য অনেক শুভেচ্ছা।
( কালের কন্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,  কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক      ‘তোফায়েল আহমেদ’ এর টাইম লাইন থেকে নেয়া)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories