সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলার পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। • বাংলাদেশ প্রতিবেদন-এর পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভাকাঙ্খীদের জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবরক’।

বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হলেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩২ /২০২১
প্রকাশকালঃ বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১

বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হলেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা

কবি মুহম্মদ নুরুল হুদাকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তিন বছরের জন্য এ নিয়োগ দিয়ে সোমবার (১২ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।

মুহম্মদ নুরুল হুদা সত্তর দশকের একজন প্রথিতযশা কবি। তিনি জাতিসত্তার কবি হিসেবেও পরিচিত। একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবাদনের জন্য তাকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার জন্ম ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে কক্সবাজার জেলায়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গত ২৫ মে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর থেকে মহাপরিচালকের পদটি শূণ্য ছিল।

বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল হুদা। তিনি সমকালীন বাংলা কবিতার শীর্ষ কণ্ঠস্বর আমাদের সময়ের বহুমাত্রিক আলোক মানুষ । তাঁর কাব্যপ্রয়াসের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তিমানুষ, জাতিমানুষ ও বিশ্বমানুষ। জাতিসত্তার কবি রুপে বহুল নন্দিত তিনি দৈশিক ও বৈশ্বিক মানব অস্তিত্বের নান্দনিক ভাষ্যকার। তাঁর সৃষ্টিসত্তা নানা নিরীক্ষা, প্রকরণ ও উদ্ভাসে নিয়ত নবায়ন প্রবণ। স্বোপার্জিত কাব্যমুদ্রা নন্দনলোকের বরপুত্র এই বাঙালি কবি সমকালীন বিশ্বকবিতারও এক তাৎপর্য পূর্ণ কারুকৃৎ। মুহাম্মদ নূরুল হুদা ১৯৪৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার পোকখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুহাম্মদ সেকান্দার মাতা আঞ্জুমান আরা বেগম।

মূলত তিনি কবি। তবে কথা সাহিত্য, মননশীল প্রবন্ধ, কলাম ও অনুবাদসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তিনি বিচরণশীল। তাঁর প্রিয় ক্ষেত্র কবিতা, নন্দনতত্ত্ব, মেধাস্বত্ত্ব ও লোকবিদ্যা।

সৃষ্টিশীলতার নানাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি জাতিয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্মানীত ও পুরস্কৃত। তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো, আমেরিকান ফোকলোর সোসাইটি, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর ফোক ন্যারেটিভ, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিসহ নানা আন্তর্জাতিক সংস্থার সন্মানীত সদস্য। তাঁর কবিতাবলি পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত। কাব্যব্যপদেশে তিনি ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর নানাপ্রান্ত।

মুহাম্মদ নূরুল হুদার প্রাপ্ত পুরস্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একুশে পদক ২০১৫, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩),যশোর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), আওয়ামী শিল্পী সংবর্ধনা (১৯৮৬), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৮), কক্সবাজার পদক(১৯৮৮), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯৪), যুক্তরাষ্ট্রের আই এসপি ঘোষিত পয়েন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল মেরিট ও পয়েন্ট অব দ্য ইয়ার(১৯৮৫), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃক প্রদত্ত নজরুল জন্মশত সম্মাননা (১৯৯৯), জীবনানন্দ জন্মশতবর্ষ সম্মাননা(১৯৯৯), কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার (২০০১), সুকান্ত পুরস্কার (২০০৪), মহাদিগন্ত পুরস্কার (কলকাতা ২০০৭), চয়ন সাহিত্য পুরস্কার(২০০৮), দেশব্যাপী ষাটবর্ষপূর্তি সম্মাননা (২০০৯), নগরচাবি কক্সবাজার (২০০৯), ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতি পুরস্কার (২০১০), একুশ ঊনিশের ভাষাগৌরব সম্মাননা(ত্রিপুরা সরকার ২০১২), নগর প্রতীক কক্সবাজার (২০১২) ইত্যাদি।

১৯৯৭ সালে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি সুলেমান ডেমিরিল কর্তৃক তিনি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হন। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপনা দিয়ে। তারপর বাংলা একাডেমিতে তাঁর চাকরি বদল। এখানেই বিকশিত তাঁর শ্রেষ্ঠ সময়। তিনি বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব ও বাংলাদেশ কপিরাইট সোসাইটির সভাপতি। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান ও মানবিক অনুষদে ডীন হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশের শীর্ষ কপিরাইট বিশেষজ্ঞ জনাব হুদা জেনেভাস্হ আন্তর্জাতিক ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (ওয়াইপো) কনসালটেন্ট ও বাংলাদেশ কপিরাইট বোর্ডের সদস্য। সমসাময়িক বাংলাদেশে লেখকদের অধিকার সুরক্ষা ও মেধাস্বত্ত্ব আন্দোলনের তিনি পথিকৃৎ। তিনি বিশ্বব্যাপী নান্দনিক কবিতা আন্দোলন ‘কবিতা বাংলা’র সভাপতি ও দরিয়ানগর আন্তর্জাতিক কবিতামেলার প্রবর্তক।

বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক পদে এই গুণি কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদাকে নিয়োগ দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সাথে কবির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories