সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
জরুরী ঘোষণাঃ
দেশের কয়েকটি জেলা, উপজেলা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগাযোগঃ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হটলাইন। বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। যোগাযোগঃ +৮৮ ০১৯ ০৯ ৮৬ ২৬ ১৬ হোয়াটসআপ। আপনিও হতে পারেন সাংবাদিক! চলার পথে নানা অসঙ্গতি, দুর্নীতি, কারো সফলতা বা যে কোনো ব্যতিক্রম খবর পাঠিয়ে দিতে পারেন। ছবি ও ভিডিও থাকলে আরো ভাল। পাঠিয়ে দিন আমাদের এই ঠিকানায়: protibedonbd@gmail.com • আপনি কি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়শুনা করছেন? বাংলাদেশ প্রতিবেদন আপনাকে দিচ্ছে ‘ইন্টার্নশিপ’ এর সুযোগ। আজই যোগাযোগ করুন। করোনা থেকে বাঁচতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। • বাংলাদেশ প্রতিবেদন-এর পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভাকাঙ্খীদের জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবরক’।

‘ক্রিপ্টো কারেন্সি’ সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

লিটু আনাম, যুক্তরাষ্ট্র / ৩৯৮ /২০২১
প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
Crypto currency btc eth doge ltc bitcoin

‘ক্রিপ্টো কারেন্সি’ সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

‘অন্ধের হাতী দেখা’ গল্পটি আমরা সকলেই জানি। তারপরও সংক্ষেপে একটু না বললেই নয়। কয়েকজন অন্ধ হাতি দেখতে কেমন সেটা জানতে চাইল। তাদের একটি শান্ত হাতীর সামনে ছেড়ে দেওয়া হলো যেন তারা ছুয়ে বুঝতে পারে হাতী কেমন, এক অন্ধ হাতীর স্যুর ছুঁয়ে বললো হাতি বড় অজগর সাপের মত, কান ছুঁয়ে একজন বলল হাতী কুলার মতো, পা ছুয়ে একজন বলল হাতী পিলারের মতো, পেট ছুয়ে বলল হাতী দেয়ালের মত, এভাবে যে যেটা ছুতে পারল সে সেভাবেই হাতীর বর্ণনা দিল। কিন্তু হাতী কি তাই?

বর্তমান সময়ের অত্যন্ত আলোচিত একটি বিষয় ‘ক্রিপ্টো কারেন্সি’। কয়েন মার্কেট ক্যাপ-এর তথ্য মতে বিটকয়েন, ইথারিয়াম, ডোজি কয়েনসহ প্রায় ১০ হাজার ক্রিপ্টো কারেন্সি রয়েছে। কিন্তু ক্রিপ্টো সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? আমি আমার পরিচিত কয়েকজন যারা ওয়াল স্ট্রিটের সাথে সম্পৃক্ত তাদের জিজ্ঞাসা করলাম যে- আপনি ক্রিপ্টো কারেন্সি সম্পর্কে কি জানেন? জবাব সেই অন্ধের হাতী দেখার মতো উত্তর দিল।

একজন বলল ক্রিপ্টো হচ্ছে ভার্চুয়াল, বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নাই, তাই ভরসা করা ঠিক হবে না।কেউ বলেন এটি জুয়া, তাই হালাল হারাম প্রসঙ্গ চলে আসে, আবার কেউ বলেন এটি ডিজিটাল কারেন্সি যা ভবিষ্যতের মানি মার্কেট। আর বাংলাদেশ সরকার তো এটাকে অবৈধ বলে হুলিয়া জারি করে রেখেছে। কারন ওই একটাই অবৈধ জুয়া। হারাম তকমা দিয়ে যদি অশিক্ষিত বক ধার্মিকেরা আবার সরকারকে বিরক্ত করে! বিরোধী দলের সমালোচনার ইস্যু হতে পারে। এমন অনেক কিছু হতে পারে। কিন্তু সেটার সাথে বাস্তবতার অনেক ফারাক। এই ফারাক বুঝতে হলে তো পড়াশুনা করতে হবে, সে সময় কোথায় আমাদের। যেমন চলছে চলুক না!

আমি খুব সংক্ষেপে বলতে চাই ক্রিপ্টো কারেন্সি কি এবং কেন এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাবিকাঠি হবে? ক্রিপ্টো কি সেটা জানতে হলে আগে জানতে হবে মাইনিং কি এবং ব্লকচেইন কি? ক্রিপ্টো কারেন্সি কিংবা ক্রিপ্টো হচ্ছে ডিজিটাল মুদ্রা বা ডিজিটাল টোকেন যেটা কোন পন্য কিংবা সেবা ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু এটি অনেকটা ডলার কিংবা টাকার মতো কাজ করে তাই একে কারেন্সিও বলা হয়। যেমন এই মুহুর্তে আপনি বিটকয়েন কিংবা ডোজি কয়েন দিয়ে টেসলা গাড়ি কিংবা স্পেস এক্স এর সকল সেবা পেতে পারেন।

এছাড়া উইকিপিডিয়া, মাইক্রোসফ্ট, এটিএনটি, মায়ামী ডলফিন, কিছু কিছু পিৎজা হাট, সাবওয়ে, বার্গার কিং, নরওয়েজিয়ান এয়ারসহ বেশ কিছু কোম্পানী তাদের পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে বিটকয়েন গ্রহন করছে। কিছু কোম্পানী ইথারিয়াম এবং ডোজি কয়েন এক্সেপ্ট করছে। এমনকি এমাজনও একটি বিশেষ উপায়ে বিটকয়েন এবং ইথারিয়াম গ্রহন করে থাকে। আর ব্লকচেইন হচ্ছে সকল ধরনের ক্রিপ্টো টোকেনের ডিজিটাইজেশনের দলীল। সহজ কথায় আমরা যাকে ট্রেডমার্ক বলে থাকি। যেটা আপনার টোকেনের স্বকীয়তা, নিরাপত্তা এবং অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। সকল ক্রিপ্টো কারেন্সি ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে যার মাধ্যমে পৃথিবীর সকল ডিভাইসকে সেন্ট্রালাইজেশন করে এর আদান প্রদানকে নিরাপত্তা প্রদান করে। মাইনিং হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি ক্রিপ্টো ব্লকচেইনে পাঠানো হয়, এর নথীকরন এবং স্বকীয়তা নিশ্চিতকরনের জন্য। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। ধারনা করা হয় একটি বিটকয়েন মাইনিং করতে প্রায় ৭০-৭৫ হাজার ডলার খরচ হয়ে থাকে।

আসুন এবার জানি কেন ক্রিপ্টো ভবিষ্যতের মানি মার্কেট শাসন করবে? এই মুহুর্তে ক্রিপ্টো কারেন্সির মার্কেট মূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যার বড় অংশ দখল করে আছে বিটকয়েন এবং ইথারিয়াম। এবং দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ চীন ১৭ এপ্রিল ২০১৭ সালে তাদের নিজস্ব ক্রিপ্টো ইউয়ান চালু করে এবং এবছর মে মাসে চাইনিজ সরকার আন্তর্জাতিক সকল ক্রিপ্টো নিষিদ্ধ করে তাদের নিজস্ব ক্রিপ্টোর ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য। যদিও বিটকয়েনের সমগ্র মার্কেট ক্যাপিটালের প্রায় ৬৫ শতাংশের দাবীদার চীন।

এদিকে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর চাপ আসছে নিয়মিত তাদের নিজস্ব ক্রিপ্টো কারেন্সি করার। ওয়েল্স ফার্গো, মাইক্রোসফ্ট, টেসলার মত বড় বড় কোম্পানী তাদের বিনিয়োগ ক্রিপ্টোর দিকে ঝুঁকছে, আমরা সবাই আলী মিজানীকে চিনি কম বেশী, যারা জানি না তারা একটু গুগল করে নেবেন। ক্রিপ্টো সম্পর্কে তার কোন প্রেডিকশন আজও ভুল প্রমানিত হয়নি। আমার মতো তিনিও এক বাক্যে স্বীকার করেন যে ক্রিপ্টো ইজ দ্য ফিউচার। আর তার মতে ক্রিপ্টো মূল্য কেমন হবে সেটা এখানে না বলাই ভালো। ওয়াল স্ট্রিটের বড় বিনিয়োগকারী চাম্পাথ পালিহাপিটিয়া তো টিভি সাক্ষাতকারে বলেই দিলেন যে বিটকয়েন ২ লক্ষ ছুঁবে খুব শিগগিরই। এলোন মাস্ক তো টুইটের পর টুইট করেই যাচ্ছেন ডোজিকয়েন নিয়ে এবং টেসলা এবং স্পেস এক্সের সকল সেবার বিনিময়ে বিটকয়েন এবং ডোজিকয়েন এক্সেপ্ট করছেন কয়েকমাস যাবত। ধারনা করা হয় ক্রিপ্টো কারেন্সিকে জন সাধারনদের কাছে গ্রহনযোগ্য করার জন্য এলোন মাস্কই অনেকাংশে দাবীদার। এতো এতো অর্থনীতিবিদ, বিনিয়োগকারী সকলেই যখন ডিজিটাল কারেন্সির পক্ষে তখন আমি আপনি হালাল হারাম কিংবা জুয়ার দোহাই দিলে তাতে আমাদের লোকসান হবে। ক্রিপ্টো তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

ক্রিপ্টো মার্কেটে বিনিয়োগ আপনার ভবিষ্যতের রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান হতে পারে। ক্রিপ্টোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগই উত্তম। আপনি এমন কোন অর্থ বিনিয়োগ করবেন না যেটা দিয়ে আপনার দৈনন্দিন কিংবা মাসিক বিল পরিশোধ করতে হবে। পোর্টফোলিও হতে হবে বিভিন্ন কোম্পানী নিয়ে। এবং বিনিয়োগের আগে অবশ্যই প্রতিটি ক্রিপ্টোর মার্কেট ক্যাপিটাল, টোটাল ভলিয়ম এবং সার্কুলেশন যাচাই বাছাই করে বিনিয়োগ করুন। এক্ষেত্রেও আপনার পড়াশুনা করার প্রয়োজন রয়েছে। ক্রিপ্টোর কোন বাস্তব ভিত্তি নেই কথাটি সত্য নয়। ব্লকচেইনে নথিভুক্ত একটি বাস্তব এবং নিরাপদ দলীল। তবে এখানেও ছোট বড় ক্রিপ্টো রয়েছে। যাচাই বাচাই করে বিনিয়োগ করলে লাভবান হওয়া সম্ভব, তবে ধৈর্য্য এখানে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

Categories