বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

কবি ফররুখ আহমদের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী

ড. আ.ন.ম এহছানুল মালিকী / ৩৬ /২০২১
প্রকাশকালঃ বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
Kobi Farrukh Ahmed কবি ফররুখ আহমদ

কবি ফররুখ আহমদের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী

বিংশ শতাব্দীর বাঙালি মুসলিম রেনেসাঁর কবি সৈয়দ ফররুখ আহমদের আজ ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১০ জুন, ১৯১৮ তৎকালীন যশোর জেলার অন্তরগত মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামের সৈয়দ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। মা রওশন আখতার একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি ছিলেন। ফররুখ আহমদ খুলনা জিলা স্কুল থেকে ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯৩৯ সালে আই.এ. পাস করেন। এরপর স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন এবং ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পরেন।

১৯৪৩ সালে কোলকাতায় আই.জি.প্রিজন অফিস দিয়েই তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইতে এবং ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মাসিক মোহাম্মদীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্থায়ী ভাবে চাকরি করেন ঢাকা বেতারে। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে ফররুখ আহমদ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। এখানেই প্রথমে অনিয়মিত হিসেবে এবং পরে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় ‘কবি’। তার রচনায় ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব দেখা যায় বেশ। বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামি ভাবধারার বাহক হলেও তার কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন এবং বাক্য প্রতিমার অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আরবি ও ফারসি শব্দের প্রাচুর্য তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতি ছিল তার অগাধ আস্থা। তবে আধুনিকতার সকল লক্ষণ তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত। তার কবিতায় রোমান্টিকতা থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের ধারাবাহিকতা পরিস্ফুট। তার কবিতায় বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। তবে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার সমর্থন করতেন। পাকিস্তাান প্রতিষ্ঠার পরপরই কবি ফররুখ আহমদ মাসিক সওগাতের আশ্বিন ১৩৫৪ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৪৭) সংখ্যায় পাকিস্তান : রাষ্ট্রভাষা ও সাহিত্য নিবন্ধে লেখেন, “গণতান্ত্রিক বিচারে যেখানে সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হওয়া উচিত সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষাকে পর্যন্তা যাঁরা অন্য একটি প্রাদেশিক ভাষায় রূপান্তরিত করতে চান তাঁদের উদ্দেশ্য অসৎ। পূর্ব পাকিস্তানের সকল অধিবাসীর সাথে আমিও এই প্রকার অসাধু প্রতারকদের বিরুদ্ধে আমার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

বাঙালি ‘মুসলিম রেনেসাঁ’ কবির কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪), সিরাজাম মুনীরা (১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১), কাব্যনাট্য মুহুর্তেল কবিতা (১৯৬৩), ধোলাই কাব্য (১৯৬৩), হাতেম তায়ী (১৯৬৬), কাহিনী কাব্য নতুন লেখা (১৯৬৯), কাফেলা (১৯৮০), হাবিদা মরুর কাহিনী (১৯৮১), সিন্দাবাদ (১৯৮৩), দিলরুবা (১৯৯৪)। এছাড়া শিশু কিশোরদের ছড়া ও কবিতা: পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), চাঁদের আসর (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০), ফুলের জলসা (১৯৮৫) ইত্যাদি।

কবি ফররুখ আহমদ তাঁর অমর সৃষ্টির জন্যে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক পেয়েছেন অনেক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। ১৯৬০ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ ও ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে ‘হাতেমতায়ী’ গ্রন্থটির জন্যে ‘আদমজী পুরস্কার’ এবং একই বছর তাঁর ‘পাখীর বাসা’ গ্রন্থটির জন্যে ‘ইউনেস্কো পুরস্কার’ পান। এছাড়াও মরণোত্তর বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৭৭ সালে ‘একুশে পদক’ এবং ১৯৮০ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করেন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক কবিকে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যু এক অভাবনীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। এই অভিমানী কবি চরম দারিদ্র্যতার মধ্যে চিকিৎসার অভাবে ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসের ১৯ তারিখে মাত্র ৫৬ বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা সাহিত্যে অগ্রগতিতে তিনি যে উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালী জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৮৬১,১৫০
সুস্থ
৭৮৮,৩৮৫
মৃত্যু
১৩,৭০২
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
৪,৮৪৬
সুস্থ
২,৯০৩
মৃত্যু
৭৬
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories