বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

পবিপ্রবিতে পরিবেশ বান্ধব বায়োচার সম্পর্কিত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

/ ১৫৪ /২০২১
প্রকাশকালঃ সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

পবিপ্রবিতে পরিবেশ বান্ধব বায়োচার সম্পর্কিত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আলী হোসেন রনি, পবিপ্রবি প্রতিনিধি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে অধ্যাপক ড.গোপাল সাহার সঞ্চালনায় “কৃষিতে গাছে পুষ্টি ব্যবহারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য বায়োচার সমৃদ্ধ সারের বিকাশ” শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাজিরুল ইসলাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস এবং কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আলী। অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ। মূল অধিবেশনের (টেকনিক্যাল সেশন) সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. নাজিরুল ইসলাম।

প্রফেসর ড.শামীম মিয়া এই প্রসঙ্গে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মাটি মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে গাছের পুষ্টি উপাদান ও মাটির জৈব পদার্থ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং পুষ্টি উপাদান ব্যবহারের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব দিতে হবে। বায়োচার সমৃদ্ধ সার ব্যবহারের মাধ্যমে গাছে পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, সরকার প্রতিবছর সার এ ভর্তুকি দিচ্ছে ১২০০০ কোটি টাকা। বায়োচার সমৃদ্ধ সার ব্যবহারের মাধ্যমে পুষ্টি উপাদানের অপচয় হ্রাস করলে সরকারি এই ব্যয় বাঁচানো সম্ভব।

অধিবেশনে, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কে.জি.এফ) প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ ড. শাহাব উদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, এ জাতীয় অভিনব প্রযুক্তি অর্থ এবং পরিবেশ উভয়ই সাশ্রয় করতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সোহেলা আক্তার রিতা মাটিতে কার্বনের স্থায়ীকরণ এবং টেকসই কৃষিকাজে বায়োচারের ভূমিকার বিষয়ে মন্তব্য করেন।

ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস পাইরোলাইসিস এবং ফর্মুলেশন প্রক্রিয়ার জন্য কাঁচামালের প্রাপ্যতা সম্পর্কে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। পবিপ্রবির উপাচার্য, প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার ভাটায় চাষকৃত ধানের জন্য উপযুক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সমাপনী বক্তব্যে ড. নাজিরুল ইসলাম মাটির টেকসই ব্যবহারের বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। কারণ মাটির টেকসই ব্যবহারই বর্তমান কৃষির প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্মশালায় পবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত বায়োচার হলো বিভিন্ন জৈব পদার্থ যেমন কাঠ, কাঠের গুড়া, জৈব আবর্জনা ইত্যাদিকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরিকৃত এক ধরনের কয়লা। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে তাপপ্রয়োগের ফলে জৈব যৌগগুলো অ্যারোমেটিক বেনজিনযুক্ত জৈব যৌগে পরিণত হয়। যেহেতু মাটির অনুজীবগুলো বেনজিনযুক্ত জৈব যৌগকে ভাঙ্গতে পারে না, তাই এটা মাটিতে ১০০ বছরের অধিক সময় টিকে থাকে, যা সাধারণত কার্বন স্থায়ীকরণ নামে পরিচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৮৬১,১৫০
সুস্থ
৭৮৮,৩৮৫
মৃত্যু
১৩,৭০২
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
৪,৮৪৬
সুস্থ
২,৯০৩
মৃত্যু
৭৬
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories