বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

পিই রেশিও কি ভাল কোম্পানি চেনার উপায়?

আবদুর রহিম / ১৮০ /২০২১
প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

পিই রেশিও কি ভাল কোম্পানি চেনার উপায়?

বাংলাদেশ প্রতিবেদন অনলাইন পত্রিকার প্রধান নির্বাহী ধকর্মকর্তা আবদুর রহিম কর্তৃক প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন “বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বর্তমান ও ভবিষ্যত এবং আমাদের করণীয়”। শীর্ষক চতুর্থ খন্ড অদ্য ৩ জুন ২০২১ তারিখে প্রকাশিত হলো। যার প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- “পুঁজিবাজার ও পিই রেশিও এর ভূমিকা”

পিই রেশিও, যার সম্পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায় প্রাইস আর্নিং রেশিও বাংলায় মূল্য ও আয় অনুপাত। একটি কোম্পানীর মূল্য আয় অনুপাত কি ওই কোম্পানীর বিনিয়োগ যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে আমি এই প্রশ্নটি পূঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে রেখে এই ব্যপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আমার মনে হয় পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশের পূঁজিবাজার যেখানে মূল্য ও আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ভিত্তিতে প্রান্তিক ঋণ (মার্জিন লোন) প্রদান যোগ্য শেয়ার নির্ধারণ করা হয়।

এক্ষেত্রে আমি আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরলাম। যখন পিই রেশিও ঋণ প্রদানের জন্য ৪০ (চল্লিশ) সীমা রেখা বেঁধে দেওয়া হয়। তখন আমি ১৭০.০০ (একশত সত্তর) টাকার ১০০ গ্লাক্সো ক্রয় আদেশ দেই। কিন্তু আমার ট্রেডার বলল স্যার এই শেয়ারটির পিই রেশিও মাইনাস এটি ক্রয় করা যাবে না। আমি রীতিমতো হতবাক গ্লাক্সো লিঃ এর মতো মৌলভিত্তি সম্পূর্ন শেয়ার লোনে ক্রয় করা যাবে না। তখন আমি ডিএসই’র লাইব্রেরী থেকে গ্লাক্সো এর আর্থিক প্রতিবেদন সংগ্রহ করি উল্লেখ্য তখন এখনকার মতো আর্থিক প্রতিবেদন ওয়েব সাইটে পাওয়া যেতো না। আমি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখি গ্লাক্সো তাদের পুরানো কিছু যন্ত্রপাতি বাদ দিয়ে হরলিক্স ফ্যাক্টরি স্থাপনের কাজ করছে, উল্লেখ্য যে, তখন গ্লাক্সো ভারত থেকে হরলিক্স আমদানী করে বাংলাদেশে বাজারজাতকরণ করতো। এর ফলে তাদের প্রচুর লোকসান গুনতে হয়।

যেহেতু কোম্পানীটি স্মল ক্যাপিটালের কোম্পানী সেহেতেু তাদের শেয়ার প্রতি আয় মাইনাস হয়ে যায়। যার ফলে পিই বেশির নীতিমালা অনুযায়ী শেয়ারটি ঋন দিয়ে ক্রয় করা যাবে না, আমার প্রশ্ন হলো ব্যবসা সম্প্রসারনের ফলে যদি কোনো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানীর পিই রেশিও চল্লিশ এর উপরে উঠে যায় তাহলে কি ওই কোম্পানীতে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা যাবে না।

এখন আমি বর্তমান পুঁজিবাজারে পিই রেশিও এর কারণে একটি কোম্পানী ঋণ দিয়ে ক্রয় করা যায় না, সেটি ব্যাপারে আলোচনা করবো। আমি এখন ঋণদ্বারা বিনিয়োগযোগ্য নয়, এমন যে শেয়ারটি নিয়ে আলোচনা করব সেটি আমার দৃষ্টিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সর্বাপেক্ষা মৌলভিত্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রায়াত্ব কোম্পানী ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। আইসিবি যেখানে জুলাই ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৫৯ (উনষাট) পয়সা, সেখানে জুলাই ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ এ শেয়ার প্রতি আয় হলো ১.২৫ (এক টাকা পঁচিশ পয়সা) পিই রেশিও এর যাঁতাকলে পড়ে সাধারন বিনিয়োগকারীগন এই শেয়ারটি ঋণ দিয়ে ক্রয় করতে পরছে না, আমার প্রশ্ন হলো আইসিবি প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে অধ্যাবদি পুঁজিবাজারে ভূমিকা, রাষ্ট্রের রাজস্বে ভূমিকা সর্বোপরি বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত লভ্যাংশের ভিত্তিতে শেয়ারটি কি ঋন দিয়ে ক্রয় যোগ্য নয়?

এখন আমি আলোচনা করব ঋণ প্রদানের জন্য পিই রেশিও চল্লিশ নির্ধারনের ফলে আমাদের পুঁজিবাজারে এর কি প্রভাব পড়েছে তার উপর। এখানে আমি কোনো কোম্পানীর নাম উল্লেখ না করে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পিই রেশিও চল্লিশ ঋণ প্রদানের উপযুক্ত নির্ধারনের পর স্বল্প মূলধনী কোম্পানীগুলোর অনেক কোম্পানী সামান্য লাভ দেখালে পিই রেশিও ৩০ (ত্রিশ) এর নীচে নেমে আসে এবং সাধারন বিনিয়োগকারীগন ওই শেয়ারে ঝুঁকে পড়ে, এই সুযোগে সুযোগসন্ধানী চক্র সাধারন বিনিয়োগকারীদের হাতে ওই শেয়ার ধরিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে, পরে আবার লাভ কম দেখিয়ে পিই রেশিও চল্লিশের উপরে তুলে ওই সব শেয়ার পূনরায় হাতিয়ে নিয়ে দুই অথবা এক বছর অপেক্ষা করে আবার পিই রেশিও চল্লিশের নীচে নামিয়ে আনে।

তাই আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে বিএসইসি এর চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে বিনীত আবেদন পিই রেশিও ঋণ প্রদানের জন্য মানদন্ড বাদ দেওয়া যায় কি না? সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান স্যারের কাছে আমার কতিপয় বিনীত আবেদন তুলে ধরলামঃ

১। প্রতিটি কোম্পানীতে সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

২। কোম্পানীর আর্থিক প্রতিবেদন কোম্পানীর নিজস্ব নিরীক্ষক কর্তৃক সম্পন্ন করে বিএসইসি তে জমা দেওয়ার পরে কোম্পানীর নিজস্ব অর্থায়নে বিএসইসি কর্তৃক অন্য কোনো নিরীক্ষক দ্বারা পুনঃনিরীক্ষনের পর প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা।

৩। যেসব স্বল্প মূলধনী কোম্পানীর ব্যাংক ঋন রয়েছে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করে অথবা ব্যবসা সম্প্রসারন করা। যদি ব্যবসা সম্প্রসারন না করে তবে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করে ব্যাংকে প্রদত্ত সুদ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আকারে প্রদানের ব্যবস্থা করা।

৪। কোম্পানী কর্তৃক শেয়ার প্রতি আয়েল ন্যূনতম ৫০ শতাংশ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আকারে প্রদান করা।

আমি দৃড়ভাবে আশা করি আমার সবিনয় আবেদনগুলো বিএসইসি’র চেয়ারম্যান মহোদয় উনার হৃদয়ের অর্ন্তস্থল থেকে বিবেচনা করবেন।

আবদুর রহিম
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
বাংলাদেশ প্রতিবেদন ডট কম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৮৬১,১৫০
সুস্থ
৭৮৮,৩৮৫
মৃত্যু
১৩,৭০২
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
৪,৮৪৬
সুস্থ
২,৯০৩
মৃত্যু
৭৬
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories