রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

এবার সাংবাদিক ও ম্যাজিস্ট্রেট সেজে চাঁদাবাজি

মোঃ আফিজুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি / ৬৯ /২০২১
প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১
এবার সাংবাদিক ও ম্যাজিস্ট্রেট সেজে চাঁদাবাজি

এবার সাংবাদিক ও ম্যাজিস্ট্রেট সেজে চাঁদাবাজি

এক চাঁদাবাজ সাংবাদিক অন্য একজনকে ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়ে প্রাইভেট কার নিয়ে এক বেকারীতে চাঁদাবাজী করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। কথিত সাংবাদিক উল্টো ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পায় ওই বেকারী মালিকের নিকট হতে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে।

এদিকে কথিত ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কথিত ম্যাজিস্ট্রেট হলো-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার দারিয়াপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন। আর তিন সাংবাদিক হল-অনলাইন নিউজ পোর্টাল জনতার কথার সম্পাদক আলমগীর, দৈনিক মুক্তির রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি মোঃ সাফিয়ান স্বাধীন ও আলমগীরের সহযোগী শুভ।

বেকারী মালিক আব্দুল মতিন বিপু জানান, সোমবার (৩ মে) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে প্রাইভেটকার যোগে একজনকে র্যা বের র্যা বের ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়ে অনলাইন জনতার কথা পোর্টালের সম্পাদক আলমগীর কামারপাড়াস্থ তার নাহার ফুডস এন্ড বেকারী কারখানায় বিনানুমতিতে ঢুকে পড়ে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের ভয় দেখিয়ে তার লোকের নিকট ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।

বেকারী মালিক আব্দুল মতিন বিপু বলেন, আমি জানতে পেরে তাদের আটকে রাখার নির্দেশ দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি কারখানায় হাজির হন। এরই মধ্যে স্থানীয়রা কথিত সাংবাদিকদের ঘিরে ফেলে এবং বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে কথিত ম্যাজিস্ট্রেট নাসিরের বড় ভাই সেখানে গিয়ে হাজির হয়। তারপর স্থানীয় মেম্বার লিটনসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সাংবাদিকদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং আদায় করে তাদের ছেড়ে দেয়। তবে সাংবাদিক আলমগীরের এক অডিও বার্তায় বলেন, তাদের নিকট হতে ৬১ হাজার টাকা নিয়েছে বেকারী মালিক দিপু ও স্থানীয় কয়েকজন নেতা।

চাঁদাবাজ সাংবাদিককে গণধোলাই দিয়ে আপনি নিজে চাঁদাবাজি করলেন-এবিষয়ে বেকারী মালিক বিপুর নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

বেকারী মালিক বিপু জানান, গোদাগাড়ী থানা পুলিশ আসলে পুলিশকে স্থানীয় নেতারা বলে মীমাংসা হয়ে গেছে। মীমাংসার কথা শুনে পুলিশ ফেরৎ চলে যায়।
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খলিলুর রহমান পাটোয়ারি বিষয়টি জানেননা বলে জানান। ‘বেকারী মালিক বলেছেন, আপনার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল আর আপনি বলছেন জানিনা?’ প্রতিবেদকের এ প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, হয়তো আমার থানা পুলিশ গিয়েছিল, কিন্তু আপনার কথানুযায়ী মীমাংসা হয়ে গেছে, তাহলে পুলিশ কি করবে?

সাংবাদিকদের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবিষয়ে জানতে চাইলে ওসি খলিল বলেন, টাকা নিয়ে ছেড়ে থাকলে তা অন্যায় করেছে। সাংবাদিকরা অভিযোগ দিলে সেবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৭৯,৭৯৬
সুস্থ
৭২১,৪৩৫
মৃত্যু
১২,১২৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories