রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল দিয়ে যেসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনা যাবে

প্রধান প্রতিবেদক / ২৪২০ /২০২১
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল দিয়ে যেসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনা যাবে, এর মধ্যে অধিকাংশই আইসিবি এসেট ম্যানেজমেন্টের।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত ডিওএস সার্কুলার নং-১ অনুযায়ী পুঁজিবাজারে প্রতিটি ব্যাংকের বিনিয়োগের জন্য যে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে সে সার্কুলার অনুযায়ী মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ন্যূনতম ১০ শতাংশ বিনিয়োগের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে যেসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করেছে। সে হিসেবে তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২টিতে বিনিয়োগ করা যাবে। এর মধ্যে সাতটিই আইসিবি এসেট ম্যানেজমেন্ট-এর।

আরো পড়ুনঃ ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য চেয়েছে বিএসইসি

যেসব মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুঁজিবাজারে কার্যরত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিসমূহের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব আইসিবি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (আইএএমসিএল) কর্তৃক পরিচালিত নয়টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে সাতটিই বিনিয়োগযোগ্য।

এগুলো হচ্ছে, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, আসিবি অগ্রণী মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি সোনালী মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইএফআইএল ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড, পিএফ ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রাইম-১ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ১ম প্রাইম মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

এছাড়া বেসরকারি খাতের এইমস সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির রিলায়েন্স ১ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও গ্রামীণ ২ মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ যোগ্য হলেও আইসিবি এসেট এর মত ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি। এল আর গ্লোবাল কর্তৃক পরিচালিত আল আরাফাহ ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগযোগ্য হলেও ২০২০ সালে বিডিনিউজ২৪.কম-এ বিনিয়োগের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি, যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্ত চলছে। ২০২০ এ ০.৬২ টাকা নেগেটিভ ইপিইউ, যদিও তথ্যটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে অপ্রকাশিত। ভিআইপিবি এসেট পরিচালিত এনএলআই ১ম ও এসইবিএল ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগযোগ্য হলেও ২০২০ সালে লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি।

আইসিবি এমপ্লয়ীজ মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড দুটি বিনিয়োগযোগ্য নয়। কারণ মিউচ্যুয়াল ফান্ড দুটি আইসিবি এমপ্লয়ীজ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০১৯ সালে ৪.৫ শতাংশ এবং থার্ড এনআরবি ২০১৯ সালে ৪ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করায় প্রণোদনা তহবিলের অর্থ বিনিয়োগযোগ্য নয়।

এদের মধ্যে ১ম প্রাইম মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যতিত অন্য ছয়টি জুন ক্লোজিং। এগুলোর বিগত চার বছরের ইউনিট প্রতি আয় (ইপিইউ) এবং লভ্যাংশের হার তুলে ধরা হলো।

নংফান্ডইপিইউ (%)লভ্যাংশ (%)
২০২০২০১৯২০১৮২০১৭২০২০২০১৯২০১৮২০১৭
আইসিবি এএমসিএল ২য় মিঃ ফাঃ৩.০৫.৩৬.২৬.৭৫.০৬.০৬.০৬.০
আইসিবি অগ্রণী মিঃ ফাঃ৩.৪৩.৪৫.০৬.০৫.০৫.০৫.০৭.০
আইসিবি সোনালী মিঃ ফাঃ৪.১৫.৭৭.৫৮.৪৫.০৬.০৭.০৭.০
আইএফআইএল ইসলামিক মিঃ ফাঃ২.২৫.২৯.৬৯.০৪.০৬.০৯.০৯.০
পিএফ প্রথম মিঃ ফাঃ২.৬৪.৯৫.২৬.২৫.০৫.০৫.০৫.০
প্রাইম ব্যাংক ১ম মিঃ ফাঃ৩.১৫.৭৭.৫৭.৯৫.০৬.০৭.০৭.০

উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে, প্রতিবছর ইউনিট প্রতি আয় থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত লভ্যাংশের হার বেশী, যা কোন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় না। তারা শুধু ব্যবস্থাপনা ফি আদায়ে ব্যস্ত থাকে। আর বিগত চার বছরের আইসিবি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানী কর্তৃক পরিচালিত মিউচ্যুয়াল ফান্ডসমূহের মধ্যে আইসিবি সোনালী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি আয় এবং বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত লভ্যাংশের হার সবচেয়ে বেশী।

নিন্মে আইসিবি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি কর্তৃক পরিচালিত প্রণোদনা তহবিলের বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিট প্রতি আয়, লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল এবং পূঞ্জিভূত সঞ্চিতির তালিকা প্রদান করা হলো-

৩০ জুন ২০২০ সমাপ্ত অর্ধ বার্ষিকী প্রতিবেদন

নংফান্ডইপিইউ (%)ডিভিডেন্ড ইকু্য়াইজেশন ফান্ডরিটেইন আর্নিং
আইসিবি এএমসিএল ২য় মিঃ ফাঃ১.৫৪৩,৫৪,৯৬৫ ৳৪৩,৪৮,৯৭৯ ৳
আইসিবি অগ্রণী মিঃ ফাঃ২.৫০০৩,৯২,৭৩,৬৪৮ ৳
আইসিবি সোনালী মিঃ ফাঃ৩.৬৩০,৯৩,০৫৩ ৳৫,৭৩,০৮,৯৩৬ ৳
আইএফআইএল ইসলামিক মিঃ ফাঃ০.৭০০১,৭৬,৪৩,১৫২ ৳
পিএফ প্রথম মিঃ ফাঃ০.৯০০২,৬৪,৪৩,৫৬৬ ৳
প্রাইম ব্যাংক ১ম মিঃ ফাঃ৩.৪৬,৮৫,৮৯৫ ৳৬,৫২,৮৮,২৮৭ ৳

উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিয়মান হয় যে, আইসিবি সোনালী মিউচ্যুয়াল ফান্ড অন্যসব মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তুলনায় আর্থিক বিনিয়োগ উপযোগী। এ মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির রিটেইন আর্নিং বা পূঞ্জিভূত আয় ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ টাকা।

জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে আইসিবি সোনালী মিউচ্যুয়াল ফান্ড। সার্বিক বিবেচনায় প্রতিয়মান হয় যে, আইসিবি সোনালী মিউচ্যুয়াল ফান্ড সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে। এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সমাপ্ত অর্ধ বার্ষিক পোর্টফোলিও অনুযায়ী নিন্মুক্ত কোম্পানিসমূহের ক্রয়মূল্যের সাথে গত ১৮ মার্চ শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতনের দিনেও ক্লোজিং প্রাইজ অনুযায়ী আনরিয়ালাইজড মুনাফার বিবরণ নিম্নরূপ-

নংকোম্পানির নামআনরিয়ালাইজড গেইন
উত্তরা ব্যাংক১২০৬৭৯
আইএফআইসি ব্যাংক৬৮১২০
ডোমিনেজ স্টিল৪১৭০০
বিএটিবিসি৮১৯৮৫২৯
জিবিবি পাওয়ার৫৫৯৪৫০৩
এওএল৫১৫৮৪৫
গ্রামীণ-২ মিঃ ফাঃ৩৬৮৩২০৭
প্রগতি ইন্সুরেন্স৪২৭৮০০
ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্স৪৬২৬৪৮
১০ফিনিক্স ইন্সুরেন্স১৮২২৯৫
১১বেক্সিমকো লিমিটেড৬৫৯১০০০
১২বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস৯৩৪৬৬১০
১৩রেনেটা৮২০৭৮৯২
১৪সাইফ পাওয়ারটেক১১৫৪২৫০
১৫রবি১৫২৬২৮৯৫
১৬এনার্জিপ্যাক২১৭৩৫০০
১৭স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস৪৩৯৯৭৬৯
১৮সি পার্ল৪৩০৪৩৪
১৯সিংগার৫৩৭১৪
২০কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ৫৭৯১৮৮
২১লিনডে বিডি১২০০০০০
২২সামিট পাওয়ার২৫৫৩৮৭৯
২৩আরডি ফুড৬৭২৩১১
২৪এএমসিএল (প্রাণ)৭০৮০৫
২৫সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিঃ ফাঃ৬৬০৪১৫
মোট৭,২৬,৫৩,৯৮৯ টাকা

এছাড়া আইসিবি সোনালী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে যেসব ডিসম্বর ক্লোজিং কোম্পানি আছে (ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও বহুজাতিক কোম্পানি), সেগুলোর জুনের আগেই হিসাবে যুক্ত হবে। এছাড়া ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আইপিও প্রাপ্ত শেয়ার বিক্রি করেও প্রচুর মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে আইসিবি সোনালী রেকর্ড আয় করবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিবেদনকে বলেন, আইসিবিএসেটের প্রতিটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড মন্দা বাজারেও ভাল লভ্যাংশ দিয়েছে। আইসিবির মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা রয়েছে। আইসিবি এক সময় মিউচ্যুয়াল ফান্ডে এক হাজার শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশও দিয়েছে। বর্তমানেও বাজারের সেরা আইসিবি এসেট ম্যানেজমেন্ট এর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো। মৌলভিত্তি কিংবা লভ্যাংশ যেকোনো মাণদণ্ডে সেরা। আর এ বছর বাজার পরিস্থিতি ভাল হওয়ায় লভ্যাংশ আগের বছরের চেয়ে ভাল হবে বলে আশা করা যায়।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল থেকে ১০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে যেসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরপর তিন বছর অন্তত ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, সেগুলো কিনতে হবে। সেদিক থেকেও আইসিবি এসেট ম্যানেজমেন্ট এর মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনার উপযুক্ত।

অধিকাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভাল লভ্যাংশ দিচ্ছে না বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কেন ব্যর্থ হচ্ছে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিবেদনকে বলেন, অনেক দুুর্বলতা আছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে, যা কাটানোর চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে ভাল হবে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়াতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থাতেই অনেক দুর্বলতা ছিল, যার ফলে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে পারেনি। এখাতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত সার্কুলার পরিপন্থী কেউ যাতে এসব ফান্ডের বাইরে বিনিয়োগ না করতে পারে সেদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসিকে কঠোর নজরদারি করতে হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৭৯,৭৯৬
সুস্থ
৭২১,৪৩৫
মৃত্যু
১২,১২৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories