রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০২:১৬ অপরাহ্ন

রোজাদারের জন্য সৌভাগ্যের মাস হলো মাহে রমজান

ড. আ.ন.ম এহছানুল মালিকী / ৮১ /২০২১
প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১

রোজাদারের জন্য সৌভাগ্যের মাস হলো মাহে রমজান

মাহে রামজানের দ্বিতীয় দশদিন অতিবাহিত হতে চলছে। এই মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর এক বিরাট নিয়ামত। রমজান মাস কল্যাণ ও সৌভাগ্যপূর্ণ এবং নেককারদের জন্য মওসুমী মাস। এই মওসুমে নেক কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি। তাই একজন মুমীন নিজে ঈমান ও আমলকে উন্নত করার জন্য এগারো মাস অপেক্ষা করে। যারা বেশি বেশি নেক কাজ করে এই মাসকে কাজে লাগতে পারে, তারাই সৌভাগ্যবান। কোরআন ও হাদিসের আলোকে সৌভাগ্য মাসের কারণগুলো উপস্থাপন করা হলো-

(১) রমজান তাকওয়া অর্জনের মাস। রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মোমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের প্রতিও; যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৩)।

(২) রমজান মাস কোরআন নাযিলের মাস। এই মাস সম্পর্কে আল কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে : ‘রমজান মাস এমন একটি মাস যে, এ মাসেই সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল কোরআন নাযিল হয়েছে।’ (সুরা আল বাকারাহ : আয়াত-১৮৫)।

(৩) রমজান মাস জান্নাত লাভের মাস। রোজাদারের সম্মানে বেহেশতে রাইয়ান নামের একটি বিশেষ দরজা খোলা হবে। সেই দরজা দিয়ে তারা বেহেশতে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ ঈদ পর্যন্ত প্রতিদিন বেহেশত বা জান্নাতকে রোজাদারদের জন্য সাজাতে থাকেন। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৩৩২৪]।

আরও পড়ুনঃ সেহরির গুরুত্ব ও উপকারিতা

রোজাদারকে ইফতার করালে রয়েছে রোজার সমপরিমাণ সওয়াব

(৪) রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধের চাইতেও উত্তম। (বোখারী ১৮০৫)।

(৫) রোজাদার ইফতার না করা পর্যন্ত ফেরেস্তারা তার জন্য গুনাহ মাফের দোয়া করতে থাকে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমার বান্দাদের মধ্যে তারা আমার বেশি প্রিয়, যারা দ্রুত ইফতার করে।’ (তিরমিজি, আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৬০, পৃ ষ্ঠা: ১৩১)। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন রাত্র সেদিক থেকে ঘনিয়ে আসে ও দিন এদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন রোজাদার ইফতার করবে।’ (বুখারি, সাওম অধ্যায়, হাদিস: ১৮৩০)। হজরত সাহল ইবনে সাআদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যত দিন লোকেরা ওয়াক্ত হওয়ামাত্র ইফতার করবে, তত দিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে।’ (বুখারি, সাওম অধ্যায়, হাদিস: ১৮৩৩)।

(৬) রোজার উপবাসের মাধ্যমে ক্ষুধা পিপাসায় কাতর অভাবি মানুষের দুঃখ বোঝা সহজ এবং এভাবেই রোজা মুসলমানদের মধ্যে সহানুভূতি, মমত্বও ভ্রাতৃত্বের সৃষ্টি করে।

সমাজে ধনী-গরিব, দুঃখী-বুভুক্ষু, অনাথ-এতিম বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করেন। রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার পরিহার করার ফলে গরিব-দুঃখীদের অপরিমেয় দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখেন। এভাবে ধনী লোকেরা অতি সহজেই সমাজের অসহায় গরিব-দুঃখী, এতিম-মিসকিন ও নিরন্ন মানুষের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের জন্য সেহ্রি ও ইফতারের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের দান-খয়রাত, জাকাত-সাদকা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। নবী করিম (সা.) যথার্থই বলেছেন, ‘এ মাস (রমজান) সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস।’ (মিশকাত)

(৭) রমজান রাত্রি জাগরণের মাস। এই মাসে সালাতুল কেয়াম অর্থাৎ তাহাজ্জত সহ তারাবীর নামাজ পড়া হয়। এ নামাজের দ্বারা অতীতের সকল গুনাহ মাফ হয়।

প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমাদান মাসে রাতে ইবাদত করবে, তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, প্রথম খ- হাদিস: ৩৩-৩৬)। রমজান মাসে রয়েছে দয়াময়ের করুণার পরম পূর্ণতার মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর বা শবে কদর তথা মহিমাময় মহা মর্যাদাপূর্ণ সম্মানিত রাত। বিশ্বনবী রাসুলে আকরাম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতে অতিবাহিত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, প্রথম খ- হাদিস: ৩৪)।

(৮) রোজাদারের পুরস্কার জান্নাত। রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তখন সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এই গুনাহ মাফ কি শবেকদের রাতে হয়ে থাকে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, না বরং শ্রমিক কাজ শেষ করার পরেই মজুরি পেয়ে থাকে। এর মানে রমজান মাসে শবেকদরের পুরস্কার ছাড়াও রোজা রাখার কারণে আলাদা একটি পুরস্কার রমজানের শেষ তারিখে দেওয়া হয়। সেটা হলো রোজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া। (মুসনাদে আহমাদ ও বায়হাক্বী শরিফ)

মাহে রমজানের রোজা বহু শারীরিক ব্যাধি দূর করে ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। সিয়াম পালনের মাধ্যমে জিহবা, চোখ, কানকে সংযত রাখা হয়। ফলে মুসলিম সমাজ থেকে নিন্দা-গীবত, অপবাদ ও চোগলখোরীর মতো সামাজিক ব্যাধি হ্রাস পায়। এই সকল সৌভাগ্য অর্জনের এক মাত্র হকদার হলেন মাহে রমজানের রোজাদার ব্যক্তি। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে এই সৌভাগ্যের হকদার করুক। আমিন…।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৭৯,৭৯৬
সুস্থ
৭২১,৪৩৫
মৃত্যু
১২,১২৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories