রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৩২ অপরাহ্ন

বাংলা নববর্ষ ও আমাদের ধর্মান্ধতা

ড. আ.ন.ম এহছানুল মালিকী / ১৮২ /২০২১
প্রকাশকালঃ সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

বাংলা নববর্ষ ও আমাদের ধর্মান্ধতা

ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরী সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায়- তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হতো। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠ প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতিবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজী সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বির্নিমান করেন। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করত। পরদিন নববর্ষে ভূ-স্বামীরা তাদের মিস্টি মুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। ক্রমান্বয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ট ভাবে মিশে পহেলা বৈশাখ আনন্দময় ও উৎসবমুখী হয়ে উঠে এবং বাংলা নববর্ষ শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গননা শুরু হয়। তবে এই গননা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহনের সময় (৫ই নভেম্বর ১৫৫৬) থেকে। প্রথম এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।

আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যাবস্থা করা হয়। এরপর ১৩৩৮ সালে অনুরুপ কর্মকান্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাঁদের পুরানো হিসবা-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তাঁরা নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রন জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যাবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়। বাংলা শুভ নববর্ষের পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিবঙ্গে শুভ নববর্ষ হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। বিশ্বের সকল প্রান্তের সকল বাঙালি এদিন নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীত কালের বা বছরের সকল দু:খ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে যেন নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষে দিনটিকে বরণ করে নেয়। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ই এপ্রিল অথবা ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। আধুনিক বা প্রাচীন যে কোন পঞ্জিকাতেই এই বিষয়ে মিল রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিলে এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমি কতৃক নির্ধারিত আধুনিক পঞ্জিকা অনুসারে এইদিন নিদিষ্ট করা হয়েছে। এদিন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

বর্ষবরনের চমকপ্রদ ও জমজমাট আয়োজন ঘটে রাজধানী ঢাকায়। এখানে বৈশাখী উৎসবের অনুষ্ঠানমালায় এক মিলন মেলার সৃষ্টি ঘটে। নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনা উদ্যান ও এর চারপাশের এলাকায় উচ্ছল জনস্রোতে সৃষ্টি হয় জাতীয় বন্ধন। ছায়নটের উদ্যোগে জনাকীর্ণ রমনার বটমূলে রবীন্দ্রনাথের আগমনী গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ এর মাধ্যমে নতুন বর্ষকে বরণ করা হয়। ১৩৭২ বঙ্গাব্দে অর্থা ১৯৬৫ সালে ছায়ানট প্রথম এ উৎসব শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় প্রভাতী অনুষ্ঠানে ও নববর্ষকে সম্বাসন এছাড়াও নববর্ষকে রঙ্গীন আলোতে আমন্ত্রন জানানো হয়। এছাড়া চারু শিল্পীদের বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা নববর্ষের আহবানকে করে তোলে নয়ন মনোহর এবং গভীর আবেদনময়। এ শুভাযাত্রা উপভোগ করে সব শ্রেণীর আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার। এদিনে শহীদ মিলন প্রাঙ্গনে, টি.এস.সি এবং চারুকলাসহ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরানো উৎসবের বিলুপ্তি ঘটেছে। আবার সংযোগ ঘটেছে অনেক নতুন উৎসবের। চিরস্থায়ী বন্দোবস্থ বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্যাহ উৎসবের বিলুপ্তি ঘটে। তখন পহেলা বৈশাখ ছিল জমিদারদের পুণ্যাহের দিন। ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানো এবং মুন্সিগঞ্জের গরু দৌড় প্রতিযোগিতা ছিল এক সময় অত্যন্ত জাঁক জমকপূর্ণ। কিন্তু এদুটিসহ ঘোড়া দৌড়, ষাড়ের দৌড় ও লড়াই, মোরগের লড়াই, পায়রা ওড়ানো, নৌকা বাইচ, বহুরূপী সাজ ইত্যাদি গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় খেলা বর্তমানে আর তেমন প্রচলিত নেই। বর্তামানে প্রচলিত বিভিন্ন আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে মধ্যে চট্রগ্রামের বলীখেলা এবং রাজশাহীর গম্ভীর প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হয়।

পয়লা বৈশাখ মানে বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জোয়ার, সব প্রাণের এক হয়ে যাওয়া। বর্ষবরণে মানুষের এমন প্রানোচ্ছল উপস্থিতি বারবার এটাই প্রমান করে যে, বাঙালি ধর্মান্ধতায় বিশ্বাস করে না, সম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না, মানুষে মানুষে বিভাজনে বিশ্বাস করে না। জীবনবোধ, জীবনযাত্রা, প্রকৃতির বিচিত্রতার নিরীখে বর্ষবরণ আমাদের সংস্কৃতি। সুর সংগীতের মেলা, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, হৃদ্যতার মেলবন্ধনে ভাস্বর পহেলা বৈশাখ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় হাজার বছরের লালিত সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারা, প্রেরণা দেয় সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাকে। এ উৎসব তাই আবহমান কালে অসাম্প্রদায়িক গণসচেতনতার প্রদক্ষেপ।

বাংলাদেশে এই একমাত্র উৎসব যা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, উপজাতীগোষ্ঠী সকলে মিলে উদযাপন করে অনাবিল আনন্দে। আবেগী বাঙালির আনন্দ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বর্ণিত হয়ে ওঠে এ উৎসব। বাংলা সনের ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিমের এ মিলিত এই পয়লা বৈশাখকে একটি অসাম্প্রদায়িক অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে যা উদার ইসলামি সংস্কৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশী সংস্কৃতির সাথে ও পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলা নববর্ষ ভাতা চালু করে সরকার এ উৎসবের সর্বজনীনতাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, জেনোসাইড ও মানবতা রিরোধী অপরাধ হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা ধর্মান্ধতার স্বাভাবিক ও চুড়ান্ত পরিণতি। সমাজ দেহ থেকে রোগের এই উৎস উৎপাটিত করতে না পারলে সেই বিপদ আবার আঘাত হানবে। অপরদিকে অসাম্প্রদায়িকতা সেক্যুলারিজমের স্বাভাবিক পরিণতি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারা। অতএব, দেশকে মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ধারায় সুপ্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে সেই বিপদের আশংকা থেকেই যাবে। সাথে সাথে এটিও ইতিহাসের একটি বড় শিক্ষা যে, সাম্প্রদয়িকতা ধর্মান্ধতার স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হলো গণতন্ত্রহীনতা, শোষণ-বঞ্চনা ও সাম্রাজ্যবাদের পদতলে হন। পক্ষান্তরে অসামপ্রদায়িকাত সেক্যুলারিজমের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ শোষন-বঞ্চনা থেকে পরিত্রান ও সাম্রাজ্যবাদের নাগপাশ থেকে মুক্তি। সুতরাং বলা যায়, সাম্প্রদায়িকতা ধর্মান্ধতাকে আদর্শিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সহ সব দিক থেকে সম্পূর্ণ পরাস্ত এবং একই সাথে রাজনীতিসহ সমাজের সার্বিক গণতন্ত্রায়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারায় দেশকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে না পারা পর্যন্ত এই বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য শেষ হবে না। অথচ এই মূল কাজটিকে অবহেলা করা হচ্ছে। বিপদ, আশংকা ও উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো সেটাই।
পরিতাপের বিষয় হলো, আজ আমরা আমাদের ধর্ম, মূল্যবোধ, নিজস্ব পরিচয়ের জাত মেরে অনেক কর্মসূচি পালন করছি। অবুঝ মনে শুধু বাঙ্গালিত্বের নাড়া লাগাচ্ছি।

এ দেশের নব্বই শতাংশ মুসলমান এতটাই মহান যে, নিজের ধর্ম মূল ভিত্তিতে আঘাত লাগালেও অনুভূতিহীন হয়ে থাকছেন। আফসোস! আমার ভূয়া অসাম্প্রদায়িকতার মোড়কে, ধর্মকে বেঁধে নিজের এক আলাদা পরিচয় খুঁজে বেড়াচ্ছি। আর আমারে বোদ্ধাগোষ্ঠী জোরালো কন্ঠে বলেন, ‘বৈশাখ এক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি রীতি’। অথচ স্পষ্টভাবে ভলতে বৈশাখ অসাম্প্রদায়িকতা বহন করলেও এই দিনকে ঘিরে যেসব রীতির প্রচলন রাখ হয়েছে তা সাম্প্রদায়িক বাঙালি হিন্দুরীতি। তাই বলতে হয়, ‘সবাই সবার জায়গায় ঠিক আছে, আমরা মুসলমানেরাই অজ্ঞতা দেখিয়ে মহান জাগতে গিয়ে নিজেরাই নিজের ধর্মের গলা টিপে ধরছি।

সুতরাং আশা করি, ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কোন রীতির প্রচলন করে সমাজে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করা হবে না। করুক তারা তাদের নাচন, গানা ও মাস্তি। আপদ তখনই শুরু হয় যখন তারা একে সবার সর্বজনীন সংস্কৃতি বলে দাবি করে। এদেশের মানুষ চৈত্রসংক্রান্তি পালন করে এসেছ। ইংরেজের নববর্ষ নয়। কাউকে চৈত্র সংক্রান্তি পালন করতে হবে এমন কোন কথা নেই। চাইলে সে নববর্ষ করুক। কিন্তু দাবি করা হয়, বাঙালির নাকি নববর্ষ ছিল। আর বাঙালি নামক অদ্ভুত জীব যদি আবহমান অর্থাৎ সৃষ্টি আদি থেকে ধরাতলে ভূমিষ্ট হয়ে থাকে তো আবহমান কাল ধরেই পান্তাভাত ও ইলিশ মাছ খেয়ে আসছে। এর সঙ্গে বিশুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি পরজীবী শ্রেণী তার উদযাপনকেই সবার, তার সংস্কৃতিকেই সর্বজনীন বলে দাবি করছে।
পহেলা বৈশাখ থেকে দেশের নানাস্থানে শুরু হয় বৈশাখী মেলার নানা আয়োজন, যা বিনোদনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে আনে নতুন গতি। তাই বাংলা নববর্ষ আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির এক বর্ণঢ্য উৎসব অন্যান্য উৎসব সহ সকল উৎসবের অনন্য উৎস বিন্দু। বাঙালির সর্বজনীন উৎসব নববর্ষকে আমার আবাহন করি প্রাণের স্পন্দনে, গানে-কবিতায় ও আবেগের উত্তাপে। এদিন গোটা দেশ শাম্বত ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি সংস্কৃতির চরণভূমিতে পরিণত হয়। পহেলা বৈশাখের এই বৈচিত্যপূর্ণ রূফ-রস-গন্ধ আজ বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশ বিদেশের বাঙালিও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এটি একটি মহোৎসবের দিন। বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির অসাম্প্রদায়িক চেতনার আধার। এ চেতনাকে নসাৎ করার জন্য স্বাধীনতার আগে ও পরে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আঘাত করা হয়েছে বার বার। বোমা মেরে মানুষ হত্য কার হয়েছে। ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তিকোন অপচেষ্টাই সফল হয়নি। বাঙালি জাতি তার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়েছে।

লেখকঃ ড. আ.ন.ম এহছানুল মালিকী
গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০১৮১৭০০৪১৭২

anm_maliki@yahoo.com


আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “বাংলা নববর্ষ ও আমাদের ধর্মান্ধতা”

  1. Mohammad Golam Rabbani says:

    শি‌রোনাম‌টি ভা‌লো লা‌গে নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৭৯,৭৯৬
সুস্থ
৭২১,৪৩৫
মৃত্যু
১২,১২৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories