রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারঃ বর্তমান-ভবিষ্যৎ ও আমাদের করণীয়

আবদুর রহিম / ১৫৬ /২০২১
প্রকাশকালঃ রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারঃ বর্তমান-ভবিষ্যৎ ও আমাদের করণীয়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আমার প্রতিবেদনের প্রথম খন্ড অদ্য ২৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখে প্রকাশ করছি। যদি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ এবং ক্ষুদ্র বিনেয়াগকারীগণ আমার এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে উপকৃত হন, তাহলে হয়ত খুব শিগগিরই এটি পুস্তক আকারে প্রকাশের চিন্তা-ভাবনা আছে। আর আমার প্রতিটি প্রতিবেদনে যদি কোন সুহৃদয়বান বিশেষজ্ঞের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ বা উপদেশ থাকে, তাহলে পুস্তক আকারে প্রকাশের পূর্বে আমি সংশোধন করে পুস্তকটি প্রকাশ করবো। অমার এই পুস্তকের নাম আমি পছন্দ করলাম ‌’বাংলাদেশের পুঁজিবাজারঃ বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং আমাদের করণীয়’।

ভাঙ্গনের শব্দ শুনি চারিদিকে শব্দ শুনি আর্তনাদের, সময়ের বিষাক্ত ছোবলে নীল হয়ে আছে আমাদের চর্তুপাশ, মুক্তির পথ জানা থাকার পরও নিয়তির নির্মম চাদরে ঢেকে রেখেছি ব্যর্থতা ও গ্লানির স্তুপ। কোথাও কেউ নেই কেউ সত্য বলার বা শোনার। অথচ সর্বত্রই মিথ্যা ভাষনের উম্মাদ উৎসব। তবুও আমরা বিশ্বাস করি মানুষের জীবন অগাধ, মানুষের শক্তি সাহস আকাশ ছুঁতে পারে। পারে হৃদয়কে ভালবাসার উৎরোল জলধি বানাতে। তারই পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাই, সত্যের পথে ন্যায়ের পথে এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের মাধ্যমে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে, তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী বাংলার রত্ন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক নির্দেশে অর্থমন্ত্রী মহোদয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনায় বিএসইসির চেয়ারম্যান মহোদয় এবং কমিশনার মহোদয়গণের সার্বিক নির্দেশনায় জনতা ব্যাংক লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বিডিবিএল, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশন, ডিবিএ’র সার্বিক সহযোগিতায় আইসিবির নেতৃত্বে আমরা একটি সফল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে পারবো। এতে সকল পক্ষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি আমরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো।

আমি আমাদের ধারবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম যে পরিচ্ছেদে এ নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করবো। আমার এই পরিচ্ছেদটি বাস্তবায়নের জন্য বিএসইসি’র পরবর্তী কমিশন সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। যদি আমার প্রস্তাবনাসমূহ চেয়ারম্যান মহোদয় এবং কমিশনার মহোদয়গণের পছন্দ হয়। এই প্রস্তাবনাসমূহ কার্যকর করা গেলে আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি আগামী ২০ থেকে ৩০ ট্রেডিং দিবসের মধ্যে পুঁজিবাজারের আমূল পরিবর্তন আসবে। এমনকি পুঁজিবাজারের প্রতি উদ্যোক্তা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পিরামিডের ন্যায় অবস্থান করবে এবং আস্থার পারদের ব্যারোমিটার অত্যন্ত তুঙ্গে অবস্থান করবে।

বাংলাদেশ প্রতিবেদন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহিম কর্তৃক পুঁজিবাজার বিষয়ক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম খন্ড- ঋণাত্মক পত্রকোষ অর্থাৎ নেগেটিভ পোর্টফোলিও এর ব্যবস্থাপনায় করণীয় শিগগিরই প্রকাশিত হবে। সবাইকে পড়ার অগ্রীম আমন্ত্রণ রইল।

প্রথম খন্ড

ঋণাত্মক পত্রকোষ ব্যবস্থাপনা বা নেগেটিভ পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট
আমার এই অনুচ্ছেদ লেখা শুরু করার আগে আমি স্বরচিত কবিতা উল্লেখ করবো। কবিতার নাম
মুক্তিযোদ্ধা
পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি এক তরুণকে
হাতে স্টেনগান, রক্তমাখা সারা শরীর
নেই তার খেয়াল হয়তো সে ছিল একজন ছাত্র, নয়তো রাখাল
মুক্তিযোদ্ধা সে, শত্রুর মোকাবেলায় অস্ত্র তুলে নিয়েছিল সে কাঁধে
মৃত্যু তার অনিবার্য, তবুও চায় সে স্বাধীনতা
নিজের কথা ভুলেছে সে ভুলেনি জননী, জন্মভূমি বাংলার স্বাধীনতার কথা।

এই অকুতোভয় মৃত্যু পথযাত্রী স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধার ন্যায় আমাদের পুঁজিবাজারেও আমরা পেয়েছি জননেত্রীর অশেষ কৃপায় একজন পুঁজিবাজারের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম স্যারকে। তিনি যদি আমার এই কল্পিত মুক্তিযোদ্ধার ন্যায় পুঁজিবাজারের স্বাধীনতার জন্য নেতৃত্ব দিয়ে যেতে পারেন, তাহলে আমরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে উন্নত অর্থনীতি সোনালী পিরামিডে অবস্থান করতে সময় লাগবে না। চেয়ারম্যান মহোদয় ও কমিশনার মহোদয়গণের যদি আমার ঋণাত্মক পত্রকোষ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ পছন্দ হয় এবং এই ব্যাপারে পরবর্তী কমিশন সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাহলে আমি কৃতার্থ হবো।

ঋণাত্মক পত্রকোষ বা নেগেটিভ পোর্টফলিওসমূহ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আমার প্রস্তাবনাসমূহ নিন্মরূপ
১৯৯৬-২০১০ এবং ২০১৭-২০১৮ সনে পুঁজিবাজারে দরপতনে কারণে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও বড় বিনিয়োগকারীদের পত্রকোষসমূহ ঋণাত্মক অবস্থায় পতিত হওয়ার পর অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগন জীবন-জীবিকা অতিবাহিত করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তাই বর্তমানে এই সব ঋণাত্মক পত্রকোষের ব্যাপারে বিএসইসি নিমোক্ত সিদ্ধান্ত নিলে আগামী দুই মাসের মধ্যে সকল পক্ষ উপকৃত হবে।

১. বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ট্রেকহোল্ডার কর্তৃক পরিচালিত ঋণাত্মক পত্রকোষসমূহের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা বিএসইসির নির্দেশনায় আইসিবি কর্তৃক পরিচালনার ব্যবস্থা করা।

২. এই ঋণাত্মক পত্রকোষ বা নেগেটিভ পোর্টফোলিও এর জন্য আইসিবি এর মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকার একটি মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আইপিও অনুমোদন করণ।

৩. বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ট্রেকহোল্ডারদের কাছে যেসব ঋণাত্মক পত্রকোষ আছে- তা বিএসইসির নির্দেশনায় আইসিবি কর্তৃক পরিচালনার ব্যবস্থা করা।

৪. ঋণাত্মক পত্রকোষে যে শেয়ার বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড আছে, সেসব বিক্রি করে আইসিবি কর্তৃক নতুন যে এক হাজার কোটি টাকার মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ফান্ডের অনুমোদন প্রদান করা হবে সে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বাধ্যতামূলকভাবে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

৫. পরবর্তীতে সকল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ট্রেকহোল্ডারদের সকল ঋণাত্মক পত্রকোষ বা নেগেটিভ পোর্টফোলিও’র সব শেয়ার বিক্রি করে আইসিবি কর্তৃক নতুন মেয়াদী এমএফ-এ বিনিয়োগ করতে হবে।

৬. সকল মার্চেন্ট ব্যাংক বা ট্রেকহোল্ডারদের সকল ঋণাত্মক বা নেগেটিভ পোর্টফোলিও’র ন্যূনতম ৮০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ সুদ ও চার্জ মওকূফ করা। আইসিবি কর্তৃক নতুনভাবে এক হাজার কোটি টাকার যে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আইপিও অনুমোদন করা হবে, সে মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি পরিচালনার ক্ষেত্রে নিন্মোক্ত নীতিমালা কার্যকর করতে হবে।

ক. এই ফান্ডের স্পন্সর হবে আইসিবি ট্রাস্টি এবং কাস্টোডিয়ান হবে আইসিবি ক্যাপিটাল, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি হবে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং প্যানেল ব্রোকার হবে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড।

খ. এই মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রেডের উপর আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড ০.১৫ শতাংশের বেশী কমিশন রাখতে পারবে না, যতক্ষন ঋণাত্মক পত্রকোষ ধনাত্মক হবে।

গ. এই ফান্ডের কাস্টোডিয়ান এবং ট্রাস্টি ফি প্রচলিত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৫০ শতাংশ এর উপরে রাখতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক পত্রকোষ ধনাত্মক না হয়।

ঘ. আইসিবিকে প্রতি অর্ধবার্ষিক ভিতিত্তে ন্যূনতম ৫ শতাংশ মুনাফা ঋণাত্মক পত্রকোষে প্রদান করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত সকল পত্রকোষ ধনাত্মক না হয়।

ঙ. এই ফান্ডে শুধু ব্লুচিপ শেয়ার এবং আইসিবি কর্তৃক পরিচালিত এমএফ ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে।

চ. ঋণাত্মক পত্রকোষসমূহ ন্যূনতম পক্ষে গ্রাহকের ইক্যুইটি ৫০ শতাংশ হওয়ার পূর্বে এই এমএফ ট্রেড ঋণাত্মক পত্রকোষে ব্লকড রাখতে হবে।

ছ. এই এমএফ এর সকল তথ্য তথা পত্রকোষ, হিসাব বিবরণী ঋণাত্মক পত্রকোষের সার্বিক অগ্রগতি মাস শেষে পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বিএসইসি এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস বিএসইসি যদি পরবর্তী কমিশন সভায় উপরোক্ত প্রস্তাবনার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তাহলে আগামী দুই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে সেক্ষেত্রে এমএফটির আকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা করলে এবং মেয়াদী করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে মেয়াদী এমএফ এর জন্য উদ্যোক্তা অংশ ১০ শতাংশ তথা ৫০০ কোটি টাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

এইজন্য বিএসইসি নিন্মোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারে।
১. আইসিবি
২. সোনালী ব্যাংক
৩. রূপালী ব্যাংক
৪. অগ্রণী ব্যাংক
৫. বিডিবিএল
৬. জীবন বীমা করপোরেশন
৭. সাধারণ বীমা করপোরেশন
৮. উত্তরা ব্যাংক
৯. বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ
১০. বেসরকারি বীমা কোম্পানিসমূহ
১১. তালিকাভুক্ত কোম্পানি

উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ কার্যকর করা গেলে যেসব বিনিয়োগকারীদের বাজারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তারা আবার বাজারমূখী হবে। তবে এক্ষেত্রে আমার পিতৃতুল্য বিএসইসির চেয়ারম্যান মহোদয়,কমিশনার মহোদয়গণ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইসিবি কি ভূমিকা রাখে- তা দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৭৯,৭৯৬
সুস্থ
৭২১,৪৩৫
মৃত্যু
১২,১২৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories