রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

করোনাকালীন অনলাইন ক্লাশঃ প্রত্যাশা এবং বাস্তবতা

আলী হোসাইন রনি, পবিপ্রবি প্রতিনিধি / ৫৪ /২০২১
প্রকাশকালঃ বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

করোনাকালীন অনলাইন ক্লাশঃ প্রত্যাশা এবং বাস্তবতা

করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা যেনো থেমে না থাকে তাই বর্তমানে প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ফেসবুক গ্রুপ থেকে শুরু করে গুগল ক্লাসরুম, জুম,মিট ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সহ এই অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন শিক্ষকগণ।

অনলাইন ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা কেমন জানতে মুঠোফোনে ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে আমরা কথা বলেছিলাম বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে।আর তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পাওয়া গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ক্যাম্পাস বন্ধের কিছুদিন পর কুৃমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক জুম এ্যাপসের মাধ্যমে ক্লাশ নিচ্ছেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আবুবকর ছিদ্দিক বলেন ‘আমরা যাঁরা ফাইনাল সেমিষ্টারে পড়াশোনা করছি, তাঁরা অনেকেই একসঙ্গে চাকরির প্রস্তুতি ও পড়াশোনা করছি। এর মধ্যে করোনার কারণে সেশন জটের সৃষ্টি হলে আমাদের কর্মজীবন আর শিক্ষাজীবন দুটোতেই ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। কিন্তু অনলাইনে ক্লাস হওয়ার কারণে সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে।

অনলাইনে ক্লাসের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইসমাইল সরকারের কাছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের এই ছাত্র জানান, নিয়মিত অনলাইনে তাঁদের তত্ত্বীয় ক্লাসগুলো হচ্ছে। লাইভ ও আগে থেকে ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে ক্লাস করছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে ক্লাস করার তুলনায় অনলাইন ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম বলে জানান তিনি। তবে যেহেতু সরাসরি ও ধারণ করা ভিডিওগুলো অনলাইনে থাকে, তাই কেউ নির্ধারিত সময়ে ক্লাস করতে না পারলেও পরে ভিডিওতে পুরো লেকচার দেখে নিতে পারে।

ইন্টারনেটের ধীরগতি কিংবা উচ্চমূল্যের কারণে ক্লাসের সঙ্গে তাল মেলাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, এমন অভিজ্ঞতার কথাও বললেন কেউ কেউ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালের ডক্টর অফ ভেটেরিনারি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আমানুল ইসলাম আমান বলেন, তার বাড়ি এমন প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে ঘরে ঠিকমতো মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কই থাকে না, দ্রুতগতির ইন্টারনেট তো সেখানে কল্পনাতীত ব্যাপার। তাই বাধ্য হয়েই তারা ঘর থেকে বেরিয়ে মাঠে বসে ক্লাসে করছে। বাইরে এসেও মাঝেমধ্যেই তাদের সংযোগ কেটে যায়।অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠে ক্লাশ অনলাইন ক্লাসে জয়েন করতে হয়। ইন্টারনেটের দুর্বলতার ফলে লেকচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো মিস করছে অনেকে।’

ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য নিয়ে আফসোসের কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি লিটারেচার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান। তিনি জানান, এক গিগাবাইট ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়ে সর্বোচ্চ দুটি অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন তিনি। ফলে গড়ে প্রতিদিন দু–তিনটি ক্লাসের জন্য প্রায় এক থেকে দেড় গিগাবাইট ইন্টারনেট কিনতে হয় তাঁকে। তাঁর মতে, প্রতিদিন এক থেকে দেড় গিগাবাইট ইন্টারনেটের প্যাকেজ কেনা অনেকের জন্য বেশ ব্যয়বহুল। আনিসুর রহমান আরও বলেন ‘ইন্টারনেটের প্যাকেজ কিনতে হলে ফোনে টাকা রিচার্জ করতে হয়। দেখা যায় অনেক সময় টাকার স্বল্পতার দরুন ইন্টারনেট প্যাকেজ শেষ হয়ে যায় তখন আবার টাকা রিচার্জ করার জন্য জন্য বাসা থেকে অনেক দূর দূরান্তে যেতে হয়। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো যদি আমাদের জন্য এই সময়ে একটা সহজ কোনো পদ্ধতি রাখত,তাহলে ভালো হতো।

সামিয়া নামের এক ছাত্রী বলেন। আমাদের দেশে অনলাইন ক্লাস মানে মেগাবাইট আর সময় নষ্ট।ইন্টারনেটের যে অবস্হা তাতে ক্লাস না করাই ভালো।অনেক সময় শিক্ষক ভিডিও চালু করে রাখতে বলেন যা আমাদের মেয়েদের জন্য আরও অস্বস্তিকর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৭৭৯,৭৯৬
সুস্থ
৭২১,৪৩৫
মৃত্যু
১২,১২৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

Categories